বিয়ানীবাজার পৌরসভায় ভাগবাটোয়ারার অপর নাম ‘কোটেশন টেন্ডার’

ফন্ট সাইজ:

বিয়ানীবাজার পৌরসভায় ভাগবাটোয়ারার অপর নাম কোটেশন টেন্ডার। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের ইচ্ছায় যে কেউ প্রকল্পের কাজ করতে পারে। এই প্রকল্পের তেমন জবাবদিহিতা নেই। বিয়ানীবাজার পৌরসভায় কোটেশন প্রকল্পের কাজে সংশ্লিষ্ট সবার খুব আগ্রহ। এর মাধ্যমে নয়-ছয় করে প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করা হয়। পৌরসভার একটি পুরনো সিন্ডিকেট এই অনিয়মের হোতা। বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এই কোটেশন প্রকল্পে ভাগ বসায় একটি রাজনৈতিক পক্ষ। মূলত: তারাই কোটেশন এবং পৌরসভার উন্নয়ন প্রকল্প দেখভাল শুরু করে। এতে ব্যাপক অনিয়ম হয় বলে অভিযোগ আছে।
সূত্র জানায়, গত দেড় বছরে বিয়ানীবাজার পৌরসভা কর্তৃপক্ষ পৃথকভাবে কোটেশনের মাধ্যমে অন্তত কোটি টাকার প্রকল্প সম্পন্ন করেছে। প্রত্যেকটি প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে বলে স্থানীয়দের ধারণা। নিয়ম অনুযায়ী এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে টেন্ডার (দরপত্র) আহ্বান করতে হয়। টেন্ডারে সর্বনিম্ন দরদাতা ঠিকাদারকে কাজ দেয়ার নিয়ম। কিন্তু এখানে সেই আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য কোটেশনের মাধ্যমে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে পছন্দের লোকদের মাধ্যমে দায়সারাভাবে প্রকল্প সম্পন্ন করে লাখ-লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। পৌরসভা আইন অনুযায়ী জরুরি প্রয়োজনে কোটেশন প্রকল্প গ্রহণ করা যায়। যদিও এই আইনকে পুঁজি করে সংশ্লিষ্টরা ইচ্ছামতো অনিয়ম করছেন। পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, গত জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে তড়িঘড়ি করে পৌরশহরে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। ৬ লাখ টাকার এই প্রকল্পে মাত্র ২৬টি ক্যামেরা স্থাপন করেন কোটেশনে কাজ পাওয়া ঠিকাদার। পৌরশহর এলাকায় বিগত সময়ে প্রবাসীদের অর্থায়নে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। বেসরকারি উদ্যোগে সম্পন্ন হওয়া ওই প্রকল্পে বেশ অনিয়ম ধরা পড়ে। সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের সর্বশেষ প্রকল্পে আগের অপটিক্যাল ফাইভার নেটওয়ার্ক পুরোটাই ব্যবহৃত হয়। এরপরও ২৬টি ক্যামেরা স্থাপনে এত ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে। এসব ক্যামেরার বর্তমান বাজার মূল্য মাত্র ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা। যদিও একেকটি সিসিটিভি ক্যামেরার দাম প্রায় ২০ হাজার টাকার কাছাকাছি ধরা হয়েছে। স্থাপন করা এসব সিসিটিভি ক্যামেরার মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে পৌরবাসীর মাঝে।
বিয়ানীবাজার পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে হাবীবা মজুমদার জানান, নির্বাচনের কারণে নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত সিসিটিভি ক্যামেরার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। কোটেশনের এই প্রকল্পে ৫ লাখ টাকা ক্যামেরার জন্য এবং আরও ১ লাখ টাকা অপটিক্যাল ফাইবার ক্রয়ের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়। তিনি বলেন, এই প্রকল্প এখনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়নি। কাজের মান নিয়ে কোনো অভিযোগ উঠলে অবশ্যই খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে বিয়ানীবাজার পৌরসভার কোটেশন প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের আগ্রহের শীর্ষে থাকে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে সম্পাদিত আরসিসি ঢালাই, ড্রেন নির্মাণ, ড্রেনের ঢাকনা নির্মাণে সিংহভাগ অর্থ লোপাট করা হয়। আর এসব কোটেশনের সৌভাগ্যবান ঠিকাদার মাত্র ৩-৪জন ব্যক্তি। তাদের সঙ্গে কমিশন বাটোয়ারায় সংশ্লিষ্ট আছেন পৌরসভার দায়িত্বশীলরা। বিগত সময়ের বেশির ভাগ কাউন্সিলরও কোটেশন প্রকল্পের ঠিকাদার ছিলেন। বিগত সময়ে কোটেশন প্রকল্পের কাজ নতুন করে তদন্ত করার দাবি উত্থাপন করেছেন পৌরবাসী।




কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন