প্রথম আলো
‘৩৬% শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছেন না’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, এবার উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট পরীক্ষায় (এইচএসসি ও সমমান) নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩৬ শতাংশই অংশ নিচ্ছেন না। প্রতিবছর এসএসসি ও এইচএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষায় অনেক শিক্ষার্থী নিবন্ধন (রেজিস্ট্রেশন) করেও শেষ পর্যন্ত পরীক্ষায় অংশ নেন না। তবে এ বছর পরীক্ষায় অংশ না নেওয়ার এই হার অস্বাভাবিক বেশি বলে মনে করছেন শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
আজ বৃহস্পতিবার শুরু হচ্ছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ডগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দুই বছর আগে (২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ) এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করে একাদশ শ্রেণিতে নিবন্ধন করেছিল প্রায় ১৫ লাখ শিক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেছেন প্রায় সাড়ে ৯ লাখ শিক্ষার্থী। অর্থাৎ নিয়মিত শিক্ষার্থীদের প্রায় সাড়ে ৫ লাখ পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন না।
গত বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরীক্ষা না দেওয়ার হার ছিল ২৯ শতাংশের কিছু বেশি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে হারটি প্রায় ৭ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে। গত বছর নিবন্ধিত সোয়া ৪ লাখের বেশি শিক্ষার্থী পরীক্ষা দেননি।
বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চিত্র আরও উদ্বেগজনক। এ বছর এই বোর্ডে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫৪ শতাংশের বেশি পরীক্ষার জন্য ফরমই পূরণ করেননি।
মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে কেন এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ঝরে গেলেন বা পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন না, তার সুনির্দিষ্ট কারণ জানাতে পারেনি শিক্ষা বিভাগ।
অবশ্য গত বছরের এসএসসি পরীক্ষায় অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের নিয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের করা একটি বিশ্লেষণে কিছুটা ধারণা পাওয়া যায়। ওই বছর ঢাকা বোর্ডের অধীন ৬ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। তাদের মধ্যে ১ হাজার ৩৫০ জনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, প্রায় ৪১ শতাংশের বিয়ে হয়ে গিয়েছিল। অর্থাৎ বাল্যবিবাহই ছিল অনুপস্থিতির প্রধান কারণ। এ ছাড়া পরীক্ষার প্রস্তুতির অভাব ও দারিদ্র্যও উল্লেখযোগ্য কারণ হিসেবে উঠে আসে।
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষাতেও দেখা গেছে, দুই বছর আগে নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে নিবন্ধন করেও তাদের মধ্যে ২৩ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। ইদানীং পাবলিক পরীক্ষায় ফরম পূরণ করার পরেও পরীক্ষায় অনুপস্থিত শিক্ষার্থী বাড়ছে। যেমন গত বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রথম দিনে মোট ১৯ হাজার ৭৫৯ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন। এর আগের বছর প্রথম দিনে অনুপস্থিত ছিলেন ১৫ হাজার ২০৩ পরীক্ষার্থী।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের একটি সূত্র জানিয়েছে, নিবন্ধন করার পর দুই বছরের বিভিন্ন সময়ের মধ্যে এই শিক্ষার্থীরা কার্যত পড়াশোনা থেকে দূরে সরে যায়। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে এর কারণ বের করা যায় না। তবে তারা এ বিষয়ে একটি গবেষণা করার পরিকল্পনা করছে।
শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, শিক্ষাজীবনের প্রতিটি ধাপ পেরিয়ে ওপরের শ্রেণিতে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে কিছু শিক্ষার্থী ঝরে পড়ে। বাল্যবিবাহ, দারিদ্র্য এবং এসএসসি পাসের পর অনেক শিক্ষার্থীর কর্মক্ষেত্রে যুক্ত হওয়া এ প্রবণতার উল্লেখযোগ্য কারণ। তবে এবার নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ না নেওয়ার হার অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বিষয়টি উদ্বেগের।
গতকাল বুধবার সচিবালয়ে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে এই প্রতিবেদকের এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, এই দুর্বলতাগুলো বের করা হচ্ছে এবং প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আগামী দিনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর আশা, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঘটবে না।
কোন বোর্ডে কত শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছেন না
৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের আওতায় ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ১১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৬১ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছিল। তাদের মধ্যে ৭ লাখ ৯৪ হাজার ৪৭৭ জন পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেছেন। বাকি ৩ লাখ ৯১ হাজার ৯৮৪ জন ফরম পূরণ করেননি। অর্থাৎ নিয়মিত শিক্ষার্থীদের ৩৩ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ এবার পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন না। গত বছর এ হার ছিল প্রায় ২৭ শতাংশ। এক বছরে হারটি প্রায় ৬ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম প্রথম বর্ষে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে নিবন্ধন করেছিলেন ১ লাখ ৩৯ হাজার ৯২৯ শিক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে ৭৮ হাজার ২৬৯ জন পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেছেন। ৬১ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেননি, যা মোট নিবন্ধিত শিক্ষার্থীর ৪৪ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল প্রায় ৩৯ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরে প্রায় ৫ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে।
বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতায় একাদশ শ্রেণিতে (ভোকেশনাল) নিবন্ধন করেছিলেন ১ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪২ জন শিক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে মাত্র ৭৫ হাজার ১৯৭ জন পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেছেন। অপরদিকে ৯০ হাজার ৩৪৫ জন ফরম পূরণ করেননি। অর্থাৎ নিয়মিত শিক্ষার্থীদের ৫৪ দশমিক ৫৮ শতাংশই এবার পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন না। গত বছর এ হার ছিল প্রায় ৪০ শতাংশ।
এ বিষয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সচিব এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার প্রথম আলোকে বলেন, অনেক শিক্ষার্থী পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না থাকায় নির্ধারিত বছরে পরীক্ষায় অংশ নেয় না। তারা পরের বছর পরীক্ষায় বসে। এটা অন্যতম কারণ।
পরীক্ষার প্রস্তুতি
আজ শুরু হওয়া এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা উপলক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এবার নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে মোট পরীক্ষার্থী ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন। সারা দেশে ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার্থীরা সকাল সাড়ে ৮টা থেকে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন। কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে বডি-ওর্ন ক্যামেরা থাকবে। ২১ দিনে লিখিত পরীক্ষা শেষ হবে। যেসব দিন পরীক্ষা থাকবে না, সেসব দিন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম চলবে।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, এবার নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। আগামী পরীক্ষা থেকে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সাধারণ বিষয়ও (যেমন বাংলা ও ইংরেজি) অভিন্ন প্রশ্নপত্রে নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, পরীক্ষা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে কেউ বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ালে তাৎক্ষণিকভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক উপস্থিত ছিলেন।
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘ঢাকার দুর্যোগ ঝুঁকি বাড়ছে: বছরে ৩ মিটার নামছে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর’। খবরে বলা হয়, রাজধানীর ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। প্রতিবছর যে হারে নিচে নামছে, তা আর পূরণ হচ্ছে না। নগরীর এলাকাভেদে পানির স্তরের ভিন্নতা রয়েছে। ঢাকা ওয়াসার তথ্যমতে, ২০০১ সালে রাজধানীর পানির স্তর ছিল ৩৯ দশমিক ৬ মিটার। ২০২৪ সালে তা ১০৯ মিটারে গিয়ে ঠেকেছে। ঢাকা ওয়াসার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বছরে গড়ে প্রায় ৩ মিটার করে রাজধানীর ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নামছে।
তারা জানান, গত দুই যুগে পানির স্তর নেমে যাওয়ার চিত্র খুবই আশঙ্কাজনক। ২০০২ সালে ঢাকার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ছিল ৪৫ দশমিক ৬ মিটার, ২০০৩ সালে ৪৮ মিটার, ২০০৪ সালে ৫১ মিটার, ২০০৫ সালে ৫৪ দশমিক ২ মিটার, ২০০৬ সালে ৫৭ মিটার এবং ২০০৭ সালে ৬০ মিটার। শেষ পাঁচ বছরের চিত্রও অনেকটা একই রকম-২০২০ সালে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দাঁড়ায় ৯৯ মিটারে, ২০২১ সালে ১০২ দশমিক ৮০ মিটার, ২০২২ সালে ১০৪ দশমিক ৮০ মিটার, ২০২৩ সালে ১০৬ দশমিক ৮ মিটার এবং ২০২৪ সালে ১০৬ মিটার। এ ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালে তা দাঁড়াবে ১১৫ মিটার বা এর চেয়েও বেশি।
ঢাকা ওয়াসা এখনো ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে পানি উত্তোলন করছে ৭০ শতাংশ। আর ভূ-উপরিস্থিত উৎস থেকে উত্তোলন করছে ৩০ শতাংশ। ২০৩০ সালে ঢাকা ওয়াসার এই চিত্র বদলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে কাজ শুরু করেছে নতুন সরকার। রাজধানীর পানি ও পয়ঃবর্জ্য অপসারণের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাটির বর্তমান আয়তন ৪০১ বর্গকিলোমিটার। আবাসিক ও বাণিজ্যিক সংযোগ রয়েছে ৪ লাখ ৬ হাজার। দৈনিক পানির চাহিদা ২৮০ থেকে ২৯০ কোটি লিটার, যদিও উৎপাদনক্ষমতা ৩২০ কোটি লিটার দাবি করে থাকেন কর্তৃপক্ষ। যদিও প্রতি শুষ্ক মৌসুমে নগরীতে তীব্র পানি সংকট দেখা দিচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর মিরপুর এলাকায় পানি সরবরাহ দিতে হিমশিম খাচ্ছে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাটি। বর্তমানে ঢাকা ওয়াসা ৫টি পানি শোধনাগার থেকে পানি উত্তোলন করে ৯০ কোটি লিটার। আর ১ হাজার ৩২৮টি গভীর নলকুপ থেকে পানি পেয়ে থাকে ২২০ কোটি লিটার।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আমিনুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, রাজধানীর ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া পরিবেশের জন্য নেতিবাচক ঘটনা। এখান থেকে ভূমিধসের ঝুঁকি রয়েছে, তবে এটা গবেষণার মাধ্যমে প্রমাণিত নয়। বিশেষজ্ঞরা আমাকে এ বিষয়ে মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। এ বিষয়ে গবেষণা হওয়া জরুরি। তিনি বলেন, নতুন সরকার ইতোমধ্যে নির্দেশনা দিয়েছেন। সে অনুযায়ী ভূ-উপরিস্থিত উৎসের পানির উৎপাদন বাড়াতে কাজ চলছে। ২০৩০ সালের মধ্যে ভূউপরিস্থিত উৎস থেকে পানির উৎপাদন ৮০ শতাংশ করার লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেছে ঢাকা ওয়াসা। সে লক্ষ্যে সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার ফেজ-৩, পদ্মা পানি শোধনাগার ফেজ-২ চালুর লক্ষ্যে কাজ চলছে। গন্ধবপুর পানি শোধনাগারের পানি দ্রুত ঢাকায় আনার লক্ষ্যে কাজ চলছে।
পানি ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত যুগান্তরকে বলেন, এযাবৎকাল যেসব গবেষণা হয়েছে, সেসবের কোথাও ঢাকায় ভূমিধসের কথা উঠে আসেনি। তবে ঢাকার মাটির গঠন দুই ধরনের-কোথাও শক্ত এবং কোথাও নরম মাটি। দুর্বল মাটিতে ভূমিধস হতে পারে কি না, তা নিয়ে গবেষণা হতে পারে। তিনি জানান, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নামার বিষয়টি নেতিবাচক। পৃথিবীর যেসব শহরে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে গেছে, সেসব শহর তা পূরণ করার কাজ শুরু করেছে। জাকার্তা ও মেক্সিকো সিটিতে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পূরণে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার কারণে ভূমিধসের ঘটনা ঘটতে পারে-এমন একটি শঙ্কা থাকলেও এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট গবেষণাও হয়নি। তবে এ ধরনের ঘটনায় পৃথিবীর অনেক শহর ধসে যাওয়ার উদাহরণ রয়েছে। এ সংক্রান্ত আলোচনায় সামনে চলে আসে মেক্সিকো সিটি, ইতালির মিলান, যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস রাজ্য ও জাপানের কথা। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মেক্সিকো সিটির উচ্চতা পাঁচ হাজার ফুট ওপরে। অন্যান্য স্থানেও একই অবস্থা। মূল উচ্চতা থেকে মেক্সিকো সিটি ধসে যায় ২০ ফুট। এর ফলে মেক্সিকো সিটির বাহ্যিক রূপও বদলে যায়-বন্ধুর, এবড়োখেবড়ো হয়ে যায় শহরটি।
কালের কণ্ঠ
‘আরো শতাধিক কিশোর গ্যাং সক্রিয়’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দিনদুপুরে এক যুবককে ধাওয়া করে একদল কিশোর। তাদের হাতে চাপাতিসহ ধারালো অস্ত্র।
কয়েকজনের কোমরে ক্ষুদ্র আগ্নেয়াস্ত্র। প্রাণভয়ে যুবক ‘বাঁচাও’ ‘বাঁচাও’ বলে চিৎকার করছিলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি রক্ষা পাননি। কিশোর সন্ত্রাসীরা এক পর্যায়ে তাঁকে ধরে ফেলে।
তারপর অনেকটা ফিল্মি কায়দায় কুপিয়ে হত্যা করে। গত শুক্রবার পুরান ঢাকার সূত্রাপুর এলাকার এই ভয়ংকর চিত্র থানার পুলিশের নথিভুক্ত হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, তাজিয়া মিছিল থেকে দাবড়িয়ে ধরে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী যুবক জাকির হোসেনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
এমন নৃশংস ঘটনা প্রকাশ্যে প্রায়ই ঘটছে। অনেক ক্ষেত্রে ঘটনাস্থল থাকে জনাকীর্ণ স্থান বা সড়ক। আর এসব অপরাধে যারা জড়িত, তারা বেশির ভাগই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। এদের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে র্যাবের ১৫টি ব্যাটালিয়ন কিশোর গ্যাংয়ের একটি হালনাগাদ তালিকা তৈরি করেছে।
র্যাবের প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, বর্তমানে দেশে ৩৩৯টি কিশোর গ্যাং সক্রিয়। কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ে বিগত সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে সারা দেশে ২৩৭টি কিশোর গ্যাংয়ের নাম উল্লেখ করা হয়।
অর্থাৎ নতুন তালিকায় ১০২টি গ্যাং যোগ হয়েছে। হালনাগাদ তালিকা ধরে এ ব্যাপারে অভিযান শুরু করেছে র্যাব। এ ব্যাপারে র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী গতকাল বুধবার কালের কণ্ঠকে বলেন, নতুন-পুরনো মিলিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের কয়েক হাজার সদস্য রয়েছে সারা দেশে। কিশোর গ্যাংয়ের হালনাগাদ তালিকা ধরে র্যাবের অভিযান চলছে। এরই মধ্যে কিশোর গ্যাংয়ের অনেক সদস্য আটক হয়েছে। তবে সামাজিকভাবেও তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
বিভিন্ন কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা: একই পাড়া ও মহল্লার বখে যাওয়া কিশোর-তরুণরা একজোট হয়ে কিশোর গ্যাং তৈরি করছে। এর মধ্যে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও রয়েছে। এরা বাহারি ও চটকদার নাম নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তৎপর হয়। রাজধানীতে মোহাম্মদপুর ও উত্তরায় তাদের তৎপরতা বেশি। একটি দলে ১০ থেকে ১৫ জন সদস্য থাকে, যাদের বেশির ভাগই মাদকাসক্ত। তাদের সঙ্গে থাকে ধারালো ছুরি, চাপাতি ও আগ্নেয়াস্ত্র। আগ্নেয়াস্ত্র। পর্যায়ক্রমে তারা ভয়ংকর অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। তারা মূলত বড় ভাইয়ের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে নিজেদের ক্ষমতাবান মনে করে।
মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের মধ্যে স্টার বন্ড, লাড়া দে, গ্রুপ টোয়েন্টি, ফিল্ম ঝিরঝির, দেখে ল, চিনে ল, লেভেল হাই, কোপাইয়া দে রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন নামে আরো নতুন কিছু গ্যাং যোগ হয়েছে। ধানমণ্ডিতে রয়েছে নাইন এমএম, একে ৪৭-এর সঙ্গে ফাইভ স্টার, ইলেভেন স্টার, সেভেন স্টারসহ আরো একাধিক গ্রুপ। তেজগাঁওয়ে জুম্মন গ্যাং, পাংকু গ্যাংসহ আরো অনেক গ্যাং রয়েছে। উত্তরায় একসময় বিল বস, নাইন স্টার, পাওয়ার বয়েজ, সুজন ফাইটার, ক্যাসল বয়েজ, ভাইপার, আলতাফ জিরো, ত্রিগোল, তুফান ও নাইন এমএম গ্রুপের দাপট ছিল। এখন তাদের সঙ্গে আরো অনেক গ্রুপ সক্রিয় রায়েছে। মিরপুর এলাকায় বিচ্ছু বাহিনী, রিপন গ্যাং, সুমন গ্যাংয়ের সঙ্গে বিভিন্ন নামে আরো অনেক নতুন গ্যাং রয়েছে। পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় কোবরা গ্যাং, জুম্মন গ্যাং, বড় পোলা গ্যাংসহ আরো অনেক গ্যাং তৎপর। এর বাইরে সারা দেশে চটকদার অদ্ভুত নামের কিশোর গ্যাং ভয়ংকর হয়ে উঠছে। এরা প্রতিনিয়ত নানা ধরনের অপরাধে জড়াচ্ছে। এরা ভাড়াটে সন্ত্রাসী হিসেবে কাজ করছে। তাদের হাতে রয়েছে অত্যাধুনিক অস্ত্র।
সমকাল
দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘৫৯ রাজনৈতিক নেতাকর্মী খুন, বিএনপির ৪৫ জন’। প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের সাড়ে পাঁচ মাসে সারাদেশে ৫৯ রাজনৈতিক নেতাকর্মী খুন হয়েছেন। এসব হত্যাকাণ্ডের অর্ধেক ঘটেছে দলীয় কোন্দল এবং অন্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ ও হামলায়। খুন হওয়া নেতাকর্মীদের মধ্যে বিএনপির ৪৫ জন, জামায়াতের সাতজন এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগের সাতজন।
মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যান ও সমকালের নিজস্ব তথ্য বিশ্লেষণে এমন চিত্র উঠে এসেছে। বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাজনৈতিক সংঘাতে যে ৩০ জন প্রাণ হারিয়েছেন, তার মধ্যে ২৩ জন বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী। এ ছাড়া জামায়াতের রয়েছেন পাঁচজন ও আওয়ামী লীগের দুজন। এসব সংঘাতের মধ্যে বিএনপি এবং অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের কোন্দলে নিহত হয়েছেন ১৪ জন। বিএনপি ও জামায়াতের বিরোধে নিহত হয়েছেন ১১ জন। তাদের মধ্যে ছয়জন বিএনপির ও পাঁচজন জামায়াতের নেতাকর্মী। বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের সহিংসতায় নিহত হয়েছেন পাঁচজন। তাদের তিনজন বিএনপির ও দুজন আওয়ামী লীগের।
রাজনৈতিক সংঘাতের বাইরে অন্যান্য ঘটনায় খুন হয়েছেন ২৯ নেতাকর্মী। তাদের মধ্যে ২২ জন বিএনপির, পাঁচজন আওয়ামী লীগের এবং দুজন জামায়াতের। এসব খুনের ১৩টির ক্ষেত্রে আধিপত্য বিস্তার, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব, চাঁদা না দেওয়া, জমি নিয়ে বিরোধ, পারিবারিক, ওয়াজ-মাহফিলের টাকার হিসাব ও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচন নিয়ে বিরোধের তথ্য পাওয়া গেছে। বাকি ১৬টি খুনের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আসকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ৩৪৭টি সংঘাতের ঘটনায় ৫৫ জন রাজনৈতিক নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। তবে সেই সূত্র ধরে যাচাই করতে গিয়ে ৫৩টি ঘটনার বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে সমকাল। এ ছাড়া একই সময়ে চট্টগ্রামের রাউজানে বিএনপিকর্মী কাউসারুজ্জামান বাবলুকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটে। আর জনে এ পর্যন্ত খুন হয়েছেন পাঁচ রাজনৈতিক নেতাকর্মী। এর মধ্যে তিনটি ঘটনায় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধের বিষয়টি সামনে এসেছে। সব মিলিয়ে ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত মোট ৫৯ রাজনৈতিক নেতাকর্মী খুন হয়েছেন।
আসকের তথ্য বলছে, বছরের প্রথম পাঁচ মাসে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংঘর্ষে আহত হন দুই হাজার ৬৩৬ নেতাকর্মী। এর মধ্যে বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষে সর্বাধিক ৯৮০ জন আহত হন। এর বাইরে বিএনপি-বিএনপি সংঘর্ষে ৭৪৫, বিএনপির প্রার্থীর সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে ২৭০, বিএনপি আওয়ামী লীগ সংঘর্ষে ১২৯ ও বিএনপি এনসিপি সংঘর্ষে ১০২ জন আহত হয়েছেন।
সবচেয়ে বেশি খুলনায়
রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধে সবচেয়ে বেশি ১১টি খুনের ঘটনা ঘটেছে খুলনা বিভাগে। এর পরের অবস্থানে আছে রাজশাহী, সেখানে আটজন খুন হয়েছেন। এ ছাড়া ঢাকা বিভাগে পাঁচ, ময়মনসিংহ বিভাগে তিন এবং চট্টগ্রাম, সিলেট ও রংপুর বিভাগে একজন করে খুন হয়েছেন।
তাদের মধ্যে ১৪ জনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে, পাঁচজনকে গুলি করে এবং ১১ জনকে লাঠিসোটা দিয়ে পিটিয়ে, ইট দিয়ে মাথা থেতলে ও কিলঘুসি মেরে হত্যা করা হয়েছে।
ইত্তেফাক
‘অক্টোবরে হতে পারে ইউপি নির্বাচন, প্রস্তুতি ইসির’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রস্তুতি জোরদার করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিসমূহ সংশোধনের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে। সরকারও চাচ্ছে আগামী এক বছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকারের সকল নির্বাচন সম্পন্ন করতে। এলক্ষ্যে প্রয়োজনীয় বাজেট সংকুলানের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। ইসি জানিয়েছে, চলতি বছরের অক্টোবর মাস থেকেই ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকারের নির্বাচনি কার্যক্রম শুরু করবে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। ইউপি নির্বাচন শেষে পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনগুলোর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আভাস পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ইত্তেফাককে বলেন, স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলো শেষ করতে আমাদের প্রায় সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা লাগবে। এর মধ্যে ইউপি নির্বাচনের জন্যই প্রয়োজন হবে ২ হাজার কোটি টাকার বেশি। এ বাজেট সংকুলানের জন্য ইতিমধ্যে আমরা কাজ শুরু করেছি। স্থানীয় সরকারের কোন নির্বাচন প্রথমে অনুষ্ঠিত হবে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের বাজেট এবং অন্যান্য প্রস্তুতি শেষে প্রধানমন্ত্রী এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে আমরা সরকারের পক্ষ থেকে নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে চূড়ান্ত পরামর্শ দেব। নির্বাচন কমিশন তাদের প্রস্তুতির আলোকে নির্বাচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে।
এদিকে নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় আইন সংশোধনের কার্যক্রমও প্রায় শেষ করেছে বলে জানা গেছে। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি ইতিমধ্যে এ আইনের চূড়ান্ত খসড়া অংশীজনের মতামতের জন্য ইসির ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করেছে। সেটির উপর রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের কাছ থেকেও মতামত চাওয়া হয়। সংশোধিত বিধিমালায় অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ বন্ধ, পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ, প্রবাসীর জন্য পোস্টাল ব্যালট বাতিলসহ নির্বাচনি প্রচারে উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়রকে বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া বেশিসংখ্যক প্রার্থীর মনোনয়ন ঠেকাতে জামানতের পরিমাণ বাড়ানোসহ বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে বিধিমালায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার তাহমিদা আহমদ ইত্তেফাককে বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে মতামত চাওয়া হয়েছিল। এছাড়া প্রয়োজনীয় আইন সংশোধনে অংশীজনের মতামত নিতে চূড়ান্ত খসড়া নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে অনেকে মতামত দিয়েছেন। সেইগুলো সন্নিবেশিত করে আইন-বিধি সংশোধন করা হবে। এক্ষেত্রে শুরুতে ছোট নির্বাচন (ইউপি) দিয়ে শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ইসি সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিন পর স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক রাজনৈতিক অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হওয়ায় এবারের নির্বাচন অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বীতাপূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সাধারণত জাতীয় রাজনীতির প্রতিফলন ঘটায়। ফলে স্থানীয় নেতৃত্বের জনপ্রিয়তা, সাংগঠনিক শক্তি এবং ভোটারদের প্রত্যাশা সব কিছুই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। অক্টোবরে ভোটের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা ভোটারতালিকা হালনাগাদ, ভোটকেন্দ্রের অবকাঠামোগত প্রস্তুতি, নির্বাচনি সামগ্রী সংগ্রহ এবং মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়ে কাজ করছেন। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং সুষ্ঠু নির্বাচনি পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়েও প্রাথমিক পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকারেও আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারছে না।
নয়া দিগন্ত
দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রথম পাতার খবর ‘পুলিশের শৈথিল্যে বাড়ছে গুলি, খুন ও ছিনতাই’। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সাথে পাল্লা দিয়ে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে খুন, জখম, অপহরণ, ছিনতাই ও ডাকাতির মতো অপরাধ। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা, জনসমক্ষে ছিনতাই এবং সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ঘটনা প্রায় নিয়মিত হয়ে উঠেছে। এসব অপরাধ এখন শুধু পেশাদার অপরাধী বা আন্ডারওয়ার্ল্ডের সন্ত্রাসীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; সামাজিক ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব-সংঘাতও অনেক ক্ষেত্রে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
পুলিশ সদর দফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে দেশে খুন হয়েছেন এক হাজার ৪৪৪ জন। এর মধ্যে শুধু মে মাসেই খুনের মামলা হয়েছে ৩১০টি। একই মাসে নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা হয়েছে এক হাজার ৯৫২টি এবং সারা দেশের থানাগুলোতে বিভিন্ন অপরাধে মোট ১৮ হাজার ১৪৯টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে।
অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয় যে, প্রায় সব ধরনের অপরাধীই এখন আগের চেয়ে বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে। আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্রের ব্যবহার বেড়েছে। প্রকাশ্যে হত্যা বা গুরুতর জখম করতেও তারা দ্বিধা করছে না। এমনকি আসামি গ্রেফতারে গিয়ে পুলিশ সদস্যরাও হামলার শিকার হচ্ছেন। ফলে রাজধানীসহ সারা দেশের মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও উদ্বেগ বাড়ছে।
বিশ্লেষকরা বলেন, মাঠপর্যায়ে কিছু আসামি গ্রেফতার হলেও পেশাদার অপরাধী চক্রের অনেক সদস্য পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। আবার জামিনে মুক্ত হয়ে অনেক আসামি পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি সাধারণ মানুষের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের মতে, পুলিশের মধ্যে এক ধরনের শৈথিল্য ও নিষ্ক্রিয়তা দেখা দেয়ায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে ঘাটতি রয়েছে।
সামাজিক অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো ঘটনা গণমাধ্যম বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত না হলে অনেক ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্রিয়তা চোখে পড়ে না। ফলে তালিকাভুক্ত অপরাধী চক্রগুলো ধারাবাহিকভাবে অপরাধ সংঘটনের সুযোগ পাচ্ছে। অনেক ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী বা নির্দেশদাতাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয় না। কারণ, তারা প্রায়ই দেশের বাইরে অবস্থান করেন এবং তাদের বিরুদ্ধে আদালতে উপস্থাপনের মতো পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা যায় না। ফলে মাঠপর্যায়ের অপরাধীরা ধরা পড়লেও মূল হোতারা থেকে যায় আড়ালে।
পুলিশ সদর দফতরের তথ্যমতে, চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে দেশে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে ৪৩৭টি। নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে সাত হাজার ৯১০টি। একই সময়ে দায়িত্ব পালনকালে ২৬৮ জন পুলিশ সদস্য হামলার শিকার হয়েছেন।
মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ৫৫ জন এবং আহত হয়েছেন দুই হাজার ৬৩৬ জন। একই সময়ে নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ২৩৯ জন। এর মধ্যে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার ৬৮ জন। এ ছাড়া ধর্ষণের ২৭১টি, ধর্ষণ-সংশ্লিষ্ট হত্যার ২৮টি এবং ধর্ষণ চেষ্টার ৮৫টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক নয়া দিগন্তকে বলেন, সমাজে অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধির পেছনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শৈথিল্য বা দুর্বল তৎপরতার বিষয়টি সামনে এলেও এর সাথে রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতারও সম্পর্ক রয়েছে। তিনি বলেন, অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে অপরাধীদের বেপরোয়া কর্মকাণ্ড নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। এ সময় পুলিশও একটি বিশেষ পরিস্থিতির মধ্যে দায়িত্ব পালন করেছে, যার নেতিবাচক প্রভাব তাদের কার্যক্রমে পড়েছে।
বণিক বার্তা
‘যুব ব্যাংক’ খুলতে চায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, বাংলাদেশের অর্থনীতির আকারের তুলনায় ব্যাংকের সংখ্যা বেশি। অনেক দিন ধরেই নীতিনির্ধারক ও অর্থনীতিবিদরা ব্যাংকের সংখ্যা কমানোর কথা বলছেন।
সম্প্রতি ব্যাংকের সংখ্যা কমিয়ে আনার আলোচনা উঠেছে জাতীয় সংসদেও। তবে এসব আলোচনার মধ্যেই যুবকদের জন্য বিশেষায়িত একটি ব্যাংক খুলতে চায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। বিশেষায়িত এ ব্যাংকের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে ‘যুব ব্যাংক’।
গত ৭ মে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ নতুন ব্যাংক প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আলোচনা হয়। সভায় বলা হয়, প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অনেক যুবক প্রয়োজনীয় জামানত, অভিজ্ঞতা বা আর্থিক সক্ষমতার অভাবে সহজে ঋণ সুবিধা পায় না। এর ফলে সম্ভাবনাময় অনেক উদ্যোগ বাস্তবায়নের সুযোগ হারিয়ে যায়। এ পরিপ্রেক্ষিতে যুববান্ধব একটি বিশেষায়িত ব্যাংক প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বারোপ করা হয়, যেখানে যুবকরা সহজ শর্তে ঋণ গ্রহণ করতে পারবে এবং উদ্যোক্তা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও ক্ষুদ্র উদ্যোগ পরিচালনায় আর্থিক সহায়তা পাবে। সভায় আরো বলা হয় এ ব্যাংক যুবদের দক্ষতা উন্নয়ন, স্টার্টআপ সহায়তা এবং প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তা কার্যক্রমেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।
সভায় উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে ‘যুব ব্যাংক’ প্রতিষ্ঠার সম্ভাব্যতা যাচাই, ব্যাংকের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় নীতিমালা, অর্থায়ন কাঠামো ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
‘যুব ব্যাংক’ বিষয়ে জানতে চাইলে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে এক ধরনের ব্যাংকিং করি। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে যারা প্রশিক্ষণ নেয়, তাদেরকে সিড ফাইন্যান্সিংয়ের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেয়া হয়। এ বিষয়টিকেই প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে নেয়ার জন্য একটি ব্যাংক প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। যারা স্বল্প পুঁজিতে ব্যবসা করতে বা উদ্যোক্তা হতে চায়, তাদেরকে সহায়তা করার জন্যই আমাদের এ উদ্যোগ। যদিও এটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এখানে বিভিন্ন অংশীজনের পরামর্শ নেয়া হবে।’
বর্তমানে দেশে রাষ্ট্রায়ত্ত তিনটি বিশেষায়িত ব্যাংক আছে। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক (বিকেবি), রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) এবং প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক (পিকেবি)। এর বাইরে আছে তফসিল-বহির্ভূত আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক, কর্মসংস্থান ব্যাংক এবং পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক। বিশেষায়িত এসব ব্যাংক মূলধন ঘাটতি, লোকসানসহ বহুমুখী সংকটে ভুগছে।
কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়নের উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত কৃষি ব্যাংক নিজেই অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে। বছরের পর বছর লোকসান দিয়ে যাওয়া বিশেষায়িত এ ব্যাংকটির মূলধন ঘাটতি ঠেকেছে ২৯ হাজার ২০৭ কোটি টাকায়। কেবল গত ছয় অর্থবছরেই এ ব্যাংকটি ১৯ হাজার কোটি টাকার বেশি নিট লোকসান গুনেছে। ব্যাংকটির ঋণখেলাপির চিত্রও উদ্বেগজনক। গত বছরের জুন শেষে বিতরণকৃত ঋণের ৪৯ দশমিক ৪৪ শতাংশই ছিল খেলাপির খাতায়।
একই অবস্থা বিশেষায়িত বাকি ব্যাংকগুলোরও। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ শেষে বিশেষায়িত সরকারি ব্যাংকগুলো মোট ৪৭ হাজার ৮৬ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছিল। এর মধ্যে ১৯ হাজার ১৭৫ কোটি টাকাই খেলাপির তালিকায় থেকে গেছে। সে হিসাবে এ ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের হার ৪০ দশমিক ৭২ শতাংশ।
আজকের পত্রিকা
দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘১৭ হাজার কোটির প্রকল্প ভুগছে নকশার ভুলে’। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকার সাউথ এশিয়া সাবরিজিওনাল ইকোনমিক কো-অপারেশন (সাসেক) ঢাকা-সিলেট করিডর সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প ভুগছে মূল নকশার ভুলে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তরে বিলম্ব এবং সংশোধিত নকশা অনুমোদন না হওয়া। ফলে মেগা প্রকল্পটি বাস্তবায়নে একের পর এক জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রকল্প সম্পন্ন করতে সময় ও খরচ বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
প্রকল্পে দরপত্র, বিল পরিশোধ, কর আদায় ও চুক্তি বাস্তবায়নে একাধিক আর্থিক অনিয়মও উঠে এসেছে সরকারি নিরীক্ষায়। এই আর্থিক অনিয়মের পরিমাণ প্রায় ২৫০ কোটি টাকা। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) নিবিড় সমীক্ষা প্রতিবেদনে প্রকল্পটি সম্পর্কে এসব তথ্য রয়েছে।
এই সমীক্ষা প্রতিবেদন সম্পর্কে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, বিষয়টি দুঃখজনক। খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইএমইডির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় বছর মেয়াদি এই প্রকল্পের প্রায় ৮৯ শতাংশ সময় ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। অথচ চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ২১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ২৬ দশমিক ১৩ শতাংশ। অর্থাৎ প্রকল্পে ইতিমধ্যে ৪ হাজার ৪২১ কোটি ৬৩ লাখ ৫৯ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। এর মধ্যে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) ঋণ ৩ হাজার ৭০৪ কোটি ৬৪ লাখ ৫৭ হাজার টাকা। এ অবস্থায় নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পটি শেষ হওয়া সম্ভব নয় বলে মনে করছে আইএমইডি।
জানতে চাইলে প্রকল্পের পরিচালক এ কে এম ফজলুল করিম বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন অনুমোদিত ডিপিপি অনুযায়ী এগোলেও সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বাস্তবায়ন পর্যায়ের মধ্যে কিছু অসামঞ্জস্যতা পাওয়া গেছে। প্রাথমিক ভূতাত্ত্বিক জরিপের সীমাবদ্ধতার কারণে ডিএস-১ লটে কাদা (স্লাজ) এবং ডিএস-৭ লটে জৈব মাটি (অর্গানিক সয়েল) শনাক্ত হওয়ায় নকশা সংশোধন ও ভূমি উন্নয়ন করতে হয়েছে। এতে কাজে বিলম্বের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, ভূমি অধিগ্রহণ, ইউটিলিটি স্থানান্তর ও সংশোধিত নকশার অনুমোদন দ্রুত সম্পন্ন হলে প্রকল্পের কাজের গতি বাড়বে।
সমীক্ষায় ভুল, নকশা সংশোধন
আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পের ভিত্তি হিসেবে ২০১৯ সালে প্রণীত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রতিবেদনে ভূতাত্ত্বিক পরিস্থিতি এবং বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ বিভিন্ন ইউটিলিটি লাইনের অবস্থান যথাযথভাবে নির্ণয় করা হয়নি। বাস্তবায়ন পর্যায়ে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে দুর্বল মাটি ও কাদার অস্তিত্ব পাওয়া যায়, যা সড়ক নির্মাণের জন্য উপযুক্ত নয়। ফলে একের পর এক নকশা সংশোধন, অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা, দুর্বল মাটি অপসারণ এবং ভূমি উন্নয়নের প্রয়োজন হয়। এতে প্রকল্পের নির্মাণসূচি ব্যাহত হয়েছে এবং সময় ও ব্যয় বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পের জন্য ৮২৯ দশমিক ৮৩ একর জমি প্রয়োজন হলেও পরিদর্শনের সময় পর্যন্ত প্রকল্প কর্তৃপক্ষ মাত্র ৩১২ দশমিক ১৫ একর বা ৩৭ দশমিক ৬১ শতাংশ জমি বুঝে পেয়েছে। একইভাবে ১৯০ দশমিক ২৫ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ঠিকাদারদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে মাত্র ৯১ দশমিক ২২ কিলোমিটার।
ইউটিলিটি স্থানান্তরের অবস্থাও সন্তোষজনক নয়। বিদ্যুতের লাইন স্থানান্তরের অগ্রগতি প্রায় ৪৬ শতাংশ হলেও তিতাস গ্যাসের পাইপলাইন স্থানান্তর হয়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ৭৮ শতাংশ এবং জালালাবাদ গ্যাসের ১৫ দশমিক ৬৮ শতাংশ।
আইএমইডি বলেছে, জেলা প্রশাসন, সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর, বিদ্যুৎ বিভাগ এবং গ্যাস বিতরণ সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে ঠিকাদারেরা অনেক স্থানে কাজের উপযোগী এলাকা পাচ্ছেন না।
দেশ রূপান্তর
‘বেশি দামের বিদ্যুতেই নজর বেশি’-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দাম বেশি হলেও বেসরকারি উৎপাদনকারীদের বিদ্যুৎ কেনায় সরকারের আগ্রহ বেশি। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বছরে ১ লাখ ১৮ হাজার ৮৬২ কোটি টাকার বিদ্যুৎ কেনে পিডিবি। গত অর্থবছরে বেসরকারি খাত থেকে বিদ্যুৎ কেনা হয়েছে প্রায় ৭২ শতাংশ।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডই (পিডিবি) বলছে, তাদের নিজস্ব ও সরকারি কোম্পানির বিদ্যুতের দাম তুলনামূলকভাবে কম। সরকারের হাতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের নিয়ন্ত্রণ থাকলে ভর্তুকি কম দিতে হতো। আগামী অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির পরিমাণ ৪৩ হাজার ৩০০ কোটি টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার। ভর্তুকি কমে আসতে পারে কেবল সরকারি অংশগ্রহণ বাড়লে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের পরিকল্পনা ছিল বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারি এবং বেসরকারি অংশগ্রহণ সমান ৫০ শতাংশ হবে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখতেই এ পরিকল্পনা। কিন্তু সে পরিকল্পনা ভেঙে দেশি-বিদেশি কোম্পানিকে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আর দেশের সরকারি খাত উপেক্ষিত থেকে গেছে। বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে পিডিবির যে আগ্রহ সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে তা নেই বলে অভিযোগ রয়েছে। বিগত আওয়ামী সরকার ভারতের আদানি, রিলায়েন্সের মতো বড় কোম্পানিকে উৎপাদনের সুযোগ করে দেওয়ায় বিদ্যুৎ খাতে বেসরকারি অংশগ্রহণ বেড়েছে।
কত টাকার বিদ্যুৎ কেনা হবে আগামী দুই অর্থবছরে : পিডিবির হিসাব বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট ১ লাখ ১৮ হাজার ৮৬২ কোটি টাকার বিদ্যুৎ কিনেছে সরকার। দেশের বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীরা এককভাবে ৭২ হাজার ৭১ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিক্রি করেছে, যা একক খাত হিসেবে সর্বোচ্চ। ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করা হয়েছে ১৯ হাজার ২২২ কোটি টাকার। পিডিবি নিজে বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে ১২ হাজার ৪৮৫ কোটি টাকার আর সরকারি কোম্পানির কাছ থেকে বিদ্যুৎ কেনা হয়েছে ১৪ হাজার ২০৯ কোটি টাকার। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিদ্যুৎ কেনা হয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ৯০১ কোটি টাকার। এর মধ্যে আইপিপি বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছ থেকে ৫৭ হাজার ৩৭৭ কোটি টাকার বিদ্যুৎ কেনা হয়েছে, ভারত থেকে আমদানি করা হয়েছে ১৯ হাজার ৪২২ কোটি টাকার বিদ্যুৎ। সরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানির কাছ থেকে কেনা হয়েছে ১১ হাজার ১০০ কোটি টাকার, পিডিবি নিজে উৎপাদন করেছে ১৩ হাজার ৪০২ কোটি টাকার বিদ্যুৎ। ওই বছর রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছ থেকে কেনা হয়েছে ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকার বিদ্যুৎ।
পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০২৩-২৪ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১৪ হাজার ৯০১ কোটি টাকার বেশি বিদ্যুৎ কেনা হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১৪ শতাংশ বেশি বিদ্যুৎ কেনা হয়েছে। চলতি অর্থবছর শেষ না হওয়ায় পিডিবি হিসাব চূড়ান্ত করেনি এখনো। তবে প্রাক্কলিত হিসাব বলছে, চলতি অর্থবছরে (২০২৫-২৬) পিডিবি মোট ১ লাখ ৩৫ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকার বিদ্যুৎ কিনবে এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট ১ লাখ ৪৩ হাজার ১০৮ কোটি টাকার বিদ্যুৎ কেনার চিন্তা রয়েছে।
বাংলাদেশ প্রতিদিন
দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম ‘ট্রমা সেন্টার নিজেই ট্রমায়’। প্রতিবেদনে বলা হয়, মাদারীপুরে ডাসার উপজেলার কর্ণপাড়ায় দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত এবং চারজন আহত হন। ১৫ জুন এ দুর্ঘটনা ঘটলে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। অথচ দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসায় মাদারীপুরের শিবচরে প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী ট্রমা সেন্টার। উদ্বোধনের চার বছর পার হলেও চালু হয়নি সেন্টারটি।
শুধু এই ট্রমা সেন্টার নয়, দুর্ঘটনায় আহতদের জীবন বাঁচাতে ১৪০ কোটি টাকায় তৈরি ১৮টি ট্রমা সেন্টারের ১২টিই পড়ে আছে অচল অবস্থায়। চালু না হওয়ায় নষ্ট হচ্ছে, চুরি যাচ্ছে যন্ত্রপাতি, আসবাব। অচল পড়ে আছে বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, মুন্সিগঞ্জ, সাভার, চট্টগ্রামের হাটহাজারী ও রাউজান, ময়মনসিংহ, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জের ট্রমা সেন্টার। অন্য হাসপাতালের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট করে, নয়তো কোনোরকম খুঁড়িয়ে চলছে গোপালগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, চট্টগ্রামের লোহাগাড়া ও কুমিল্লার ট্রমা সেন্টার।
এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘বিগত সরকারের সময়ে দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে ট্রমা সেন্টারগুলো চালু করতে পারিনি। সেবাবঞ্চিত হয়েছে মানুষ। আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ট্রমা সেন্টারগুলো চালু করতে মন্ত্রণালয়ে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেব।’
জানা গেছে, প্রতিটি ট্রমা সেন্টারে সাতজন পরামর্শক চিকিৎসক (কনসালট্যান্ট), তিনজন অর্থোপেডিকস সার্জন, দুজন অ্যানেসথেটিস্টসহ (অবেদনবিদ) মোট ১৪ জন চিকিৎসক এবং সব মিলিয়ে ৩৪টি পদ সৃজনের প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু কোনো সেন্টারেই পদ অনুযায়ী জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সরঞ্জামও দেওয়া হয়নি। যে হাসপাতাল দুর্ঘটনায় আহতদের জীবন বাঁচানোর শেষ ভরসা হওয়ার কথা ছিল, তা পরিণত হয়েছে মাদকসেবীদের আস্তানায়। প্রাণ বাঁচাতে গুরুতর আহত রোগীদের নিয়ে ঢাকায় ছুটে আসতে হয় স্বজনদের। সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের উপজেলা হাসপাতালগুলোতে নেওয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রেফার্ড করে দেওয়া হয়। অবস্থা গুরুতর হলে কিংবা আইসিইউ দরকার হলে জেলা হাসপাতালেও মেলে না সেবা। বিশেষায়িত হাসপাতালে আনতে গিয়ে পথেই প্রাণ যায় রোগীর।এ ব্যাপারে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, ‘হার্ট ফাউন্ডেশন ও সিআইপিআরবির ২০২৩ সালের জরিপে দেখা যায়, দেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে রোড ক্র্যাশ রোগীরা জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন। এ ধরনের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে গাইনিসেবা ছাড়া দুর্ঘটনার জন্য যে ধরনের সেবা প্রয়োজন সেগুলো একেবারই অপ্রতুল। তার ওপর এ ধরনের ট্রমা সেন্টারগুলোর শুধু কাঠামো দাঁড়িয়ে আছে। নতুন কোনো ট্রমা হাসপাতাল কাঠামো না করে উপজেলা-জেলা পর্যায়ের হাসপাতাগুলোয় জরুরি সেবা প্রদানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের দেশে জরুরি সেবা প্রদানের জন্য যে ধরনের ব্যবস্থা থাকা দরকার তা নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালে অপারেশন থিয়েটার, ডাক্তার, নার্স প্রয়োজন। বিশেষায়িত হাসপাতালে পৌঁছাতে সময় নষ্ট হয়ে হতাহতের সংখ্যা ও জটিলতা বাড়ার শঙ্কা থাকে। তা ছাড়া আমাদের আইনি কাঠামোয় রোড ক্র্যাশ পরবর্তী রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিতে “গুড সামারিটান ল”র বিষয়টি নেই। এ আইন থাকলে রোড ক্র্যাশ ঘটার পর হতাহতদের সাহায্য করার কারণে সাহায্যকারী ব্যক্তিকে কোনো ধরনের হয়রানি বা জিজ্ঞাসাবাদের সম্মুখীন হতে হবে না। এ ছাড়া একটি আইনি কাঠামোর প্রয়োজন যেখানে কোনো হাসপাতাল জরুরি সেবার ক্ষেত্রে অর্থের অভাবে রোগীকে ফিরিয়ে দেবে না।’ সিরাজগঞ্জ থেকে আব্দুস সামাদ সায়েম জানান, যমুনা সেতুর পশ্চিমপারে মহাসড়কের পাশে মুলিবাড়ীতে নির্মাণ করা হয়েছে ট্রমা সেন্টার। চিকিৎসকসহ প্রয়োজনীয় লোকবল, সরঞ্জামাদির অভাবে দীর্ঘ পাঁচ বছরেও ট্রমা সেন্টারটি চালু হয়নি। পড়ে থেকে অবকাঠামো নষ্ট আর ভবনের মালামাল চুরি হচ্ছে। যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম জানান, হাইওয়েতে প্রায়ই দুর্ঘটনায় মানুষের হাত-পা ভেঙে যায়, গুরুতর আহত হন। এমনকি হাসপাতালে নেওয়ার পথে অনেকে মারা যান। সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. নুরুল আমীন বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটি চালু করার জন্য জনবল ও ওষুধের প্রয়োজনীয় চাহিদা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। নিরাপত্তাপ্রহরী থাকার পরও রক্ষা করা যাচ্ছে না মূল্যবান যন্ত্রপাতি।’
