লোডশেডিংয়ে নাকাল সিলেট। একঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে তো আরেক ঘণ্টা থাকে না। শহরের জীবনযাত্রা বিষিয়ে উঠেছে। গ্রামের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। বিদ্যুৎ যায় না মাঝে মধ্যে আসে। এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন ব্যবসায়ী ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। পরীক্ষার আগের এই লোডশেডিংয়ের কারণে পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ব্যাঘাত ঘটছে শিক্ষার্থীদের। সিলেটের এনার্জি সেক্টর নিয়ে আক্ষেপের অন্ত নেই। অনেক আগে থেকেই দাবি করা হচ্ছে সিলেটে উৎপাদিত এনার্জি দিয়ে যেন প্রথমে সিলেটের চাহিদা মেটানো হয়। কিন্তু সবই চলে যায় জাতীয় গ্রিডে। সিলেটের উৎপাদিত বিদ্যুৎও জাতীয় গ্রিডে চলে যায়। পরে যেটি পাওয়া যায় সেটি নিয়ে চাহিদা মেটে না। বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের সূত্র মতে, সিলেটে প্রতিদিন গড়ে আড়াইশ’ মেগাওয়াটের মধ্যে বিদ্যুতের প্রয়োজন। কিন্তু জাতীয় গ্রিড থেকে পাওয়া যাচ্ছে দেড়শ’ মেগাওয়াটের মতো।
এতে করে প্রতিদিনই একশ’ মেগাওয়াটের মধ্যে বিদ্যুতের ঘাটতি থেকে যায়। অন্যদিকে পিক আওয়ারে চাহিদার কম বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। আর এই কারণে সিলেট নগর ও জেলার সব উপজেলায়ই বিকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত লোডশেডিং বেশি হয়। কখনো কখনো একটানা ৩-৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। আবার ভোল্টেজের লোড নিয়েও সমস্যা দেখা দেয়। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন- সকাল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দিনে ও রাতে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। বিশেষ করে বাণিজ্যিক এলাকা বন্দরবাজার, কালীঘাট, জিন্দাবাজার, আম্বরখানা, মদিনা মার্কেট, দক্ষিণ সুরমাসহ কয়েকটি এলাকায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা খুবই বেশি। লোডশেডিংয়ের সময় ব্যবসা স্বাভাবিক রাখতে জেনারেটর ব্যবহার করা হয়। এতে করে লোকসানে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা।
পাশাপাশি প্রতিদিনই সন্ধ্যাকালীন সময়ে বেশির ভাগ এলাকাই বিদ্যুৎ থাকে না। ফলে ব্যবসায়ও ধস নামার উপক্রম হয়েছে। বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সিলেট অঞ্চলের মহাসচিব আব্দুর রহমান রিপন জানিয়েছেন- বিদ্যুৎ না থাকায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। ব্যবসায়ীরা পড়েছেন ক্ষতির মুখোমুখি। ব্যবসার সময়ে যাতে সিলেটে লোডশেডিং কম হয় সে ব্যাপারে তারা বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করবেন। আজ-কালের মধ্যে তারা এ নিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন- সিলেটের দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন মন্ত্রী রয়েছেন। এ ব্যাপারে আমরা ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে তারও সহযোগিতা চাইবো।
এদিকে বিদ্যুতের লাগামহীন লোডশেডিংয়ের বিষয়টি নিয়ে গত সোমবার নিজ কার্যালয়ে সিলেট বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন সিটি প্রশাসক ও জেলা বিএনপি সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। এ সময় তিনি সিলেটের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন। কাইয়ুম চৌধুরী গতকাল বিকালে মানবজমিনকে জানিয়েছেন- জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ কম পাওয়ার কারণে সিলেটে লোডশেডিং করা হচ্ছে বলে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা অবগত করেছেন। তবে তারা আশ্বস্ত করে বলেছেন- রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প ও এসএস পাওয়ার থেকে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পেলে এই অবস্থার অবসান হবে। এটি সহসাই কেটে যাওয়ার কথা। তিনি বলেন- বিদ্যুৎ না থাকার কারণে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে সিলেট সিটি করপোরেশন।
নগরের বেশির ভাগ মানুষের বিশুদ্ধ পানির চাহিদা মেটায় সিটি করপোরেশন। এজন্য কয়েকটি পাম্প হাউজ রয়েছে। বিদ্যুতের লোডশেডিং থাকার কারণে চাহিদামতো পানি সরবরাহ করা যায় না। আবার ভোল্টেজ সমস্যায় পাম্প চলে না। এদিকে- আনুপাতিক হারে নগরে লোডশেডিংয়ের মাত্রার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি হচ্ছে গ্রামে। প্রতিটি উপজেলায়ই বিদ্যুৎ নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে। রাতে খেলা চলাকালীন সময়েও বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না। সিলেটের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী ইমাম হোসেন জানিয়েছেন- বিদ্যুতের চাহিদা বেশি হলেও জাতীয় গ্রিড থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
