জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘আলোয় আলোয় স্মৃতি সমুজ্জ্বল’ কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম
মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, জুলাইয়ের শহীদদের স্মৃতি দেশের মানুষকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রেরণা জোগাবে। এই স্মৃতি ধরে রাখতে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
মঙ্গলবার রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পাশাপাশি জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বালন করা হয়। এর আগে রাত ১১টা থেকে ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে জড়ো হন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রুহুল কবির রিজভী বলেন, এই আলো শুধু সাময়িক অন্ধকার দূর করার জন্য নয়, এটি ভুবনভরা আলো। জুলাইয়ের স্মৃতি আমাদের প্রতিনিয়ত আলোকিত করবে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের শক্তি জোগাবে।
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল দীর্ঘ ১৭ বছর দমন-পীড়ন, নির্যাতন ও সংগ্রামের মধ্যদিয়ে পথ চলেছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সেই আন্দোলনের সর্বোচ্চ বহিঃপ্রকাশ।
আবেগঘন বক্তব্যে তিনি বলেন, আমি চীনের প্রাচীর দেখিনি, আবু সাঈদের বুক দেখেছি। আমি হিমালয় দেখিনি, কিন্তু ওয়াসিম আকরামকে হিমালয়ের মতো দাঁড়িয়ে বুলেট বরণ করতে দেখেছি। আমি প্রশান্ত মহাসাগর দেখিনি, কিন্তু আহাজাবের মায়ের চোখের জল দেখেছি।
রিজভী বলেন, শহীদদের স্মৃতি শুধু একটি দিনের জন্য নয়। তাদের আত্মত্যাগ আমাদের প্রতিদিন স্মরণ করতে হবে, যেন আর কোনো স্বৈরাচার বা অগণতান্ত্রিক শক্তির পুনরুত্থান না ঘটে।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া ছাত্র-জনতা এবং ছাত্রদলের ১৪২ জন নেতাকর্মী ও সমর্থকের স্মরণে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আমানউল্লাহ আমান বলেন, গণ-অভ্যুত্থানে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বড় ধরনের আত্মত্যাগ করেছেন। তিনি বলেন, জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে গণতন্ত্র, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ছাত্রদল কাজ করে যাবে।
