স্পেনকে থামাতে আত্মবিশ্বাসী অস্ট্রিয়া

স্পেনকে থামাতে আত্মবিশ্বাসী অস্ট্রিয়া

ফন্ট সাইজ:

বিশ্বকাপের শেষ ৩২ রাউন্ডে অস্ট্রিয়ার মুখোমুখি হচ্ছে স্পেন। র‌্যাঙ্কিং ও দলীয় শক্তির বিচারে স্পেন ফেভারিট। তবে সাবেক চ্যাম্পিয়নদের থামাতে কোমর বেঁধেই নামছে অস্ট্রিয়া। অস্ট্রিয়ান মিডফিল্ডার কনরাড লাইমার বলেন, ‘আমরা জিততেই খেলি। প্রতিপক্ষ বেছে নেয়ার জন্য মাঠে নামি না।’ গ্রুপ পর্বে স্পেনকে এড়িয়ে চলার কোনো পরিকল্পনা ছিল না বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন অস্ট্রিয়ান কোচ রাল্ফ রাংনিক। তবে প্রতিপক্ষের হুমকিকে স্বাভাবিকভাবেই নিচ্ছেন স্প্যানিয়ার্ড তারকা ফাবিয়ান রুইজ। তিনি বলেন, ‘এখনকার ফুটবলে যেকোনো দল যে কাউকেই হারাতে পারে। আমরা প্রস্তুত। ম্যাচটির জন্য অপেক্ষা করছি।’ লস অ্যাঞ্জেলেসে ম্যাচটি শুরু হবে আজ রাত ১টায়। ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে বিশ্বকাপ শিরোপার অন্যতম দাবিদার ধরা হচ্ছে শুরু থেকেই। দুই জয় ও এক ড্রয়ে অপরাজিত থেকে শেষ ৩২-এ পা রাখে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। গ্রুপ পর্বে একটি গোলও হজম করেনি স্পেন। কিন্তু ফিনিশিংয়ে দুর্বলতা চোখে পড়েছে। কেপ ভার্দের বিপক্ষে ২৭ শট নিয়েও গোল পায়নি তারা। এরপর শেষ ম্যাচে উরুগুয়েকে হারিয়েছে ১-০ গোলে। আক্রমণের ধার যে আরও বাড়ানো প্রয়োজন তা উপলব্ধি করতে পেরেছেন কোচ দে লা ফুয়েন্তে। এটাকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন তিনি। ফুয়েন্তে বলেন, ‘খেলোয়াড়রা নিজেদের সীমা পর্যন্ত লড়েছে। তাদের নিয়ে আমি গর্বিত। কিন্তু নকআউটে প্রতিটি মুহূর্তের মূল্য আরও বেশি।’ স্পেনের শক্তি তাদের মাঝমাঠ।

৪-৩-৩ ছকে খেললেও আক্রমণের সময় সেটি ৩-২-৫ ফরমেশনে রূপ নেয়। দুই ফুলব্যাক উপরে উঠে যান, রদ্রি নিচে নেমে মাঝমাঠ ধরে রাখেন। রদ্রি, পেদ্রি ও মিকেল মেরিনোর নিয়ন্ত্রণে বলের দখল ধরে রেখে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার পরিকল্পনাই থাকবে স্পেনের। তবে লামিনে ইয়ামাল ও নিকো উইলিয়ামসের শতভাগ ফিট না থাকায় আক্রমণের পরিসর কমে গেছে। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে লামিনের শুরুতে থাকা অনিশ্চিত। নিকো আর ইয়েরিমো পিনো মাঠেই নামতে পারবেন না। এছাড়া ভিক্টর মুনিয়োজও পুরোপুরি ফিট নন। অন্যদিকে ৪৪ বছর পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ওঠা অস্ট্রিয়া নিজেদের আন্ডারডগ ভাবতে রাজি নয়। কোচ রাল্ফ রাংনিকের উচ্চ প্রেসিং, দ্রুত ট্রানজিশন এবং সংগঠিত দলগত ফুটবল ইতোমধ্যেই নজর কেড়েছে। তবে হাইপ্রেসিং দিয়ে শুরু করলেও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে মাঝেমধ্যে মিড-ব্লক বা লো-ব্লকে নেমে আসে। মার্সেল সাবিটজার, কনরাড লাইমার মাঝমাঠের প্রাণ।

আক্রমণভাগে আর্নাতোভিচকে দ্রুত বল বাড়িয়ে দেওয়াই লক্ষ্য তাদের। স্পেনের বিপক্ষে নিচু ব্লকে থেকে প্রতি আক্রমণের কৌশল বেছে নিতে পারেন রাংনিক। ১৬ বছর পর কোনো ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে স্পেন-অস্ট্রিয়া। হেড টু হেড রেকর্ডে স্পেনই এগিয়ে। সব প্রতিযোগিতায় ১৬ ম্যাচে ৯ জয় লা রোহাদের। অস্ট্রিয়ার জয় চারটি। তবে ১৯৯০ সালে প্রীতি ম্যাচে ৩-২ গোলের জয়ের পর আর স্পেনকে হারাতে পারেনি অস্ট্রিয়া। শেষ পাঁচ ম্যাচের চারটিতেই হা। এর মধ্যে ৯-০ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার লজ্জার রেকর্ডও রয়েছে। অস্ট্রিয়ার জন্য বড় অনুপ্রেরণা হতে ১৯৭৮ বিশ্বকাপের স্মৃতি। সেবার গ্রুপ পর্বে স্পেনকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল তারা।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন