বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব মানেই তীব্র উত্তেজনা। লস অ্যানজেলেস, টরন্টো এবং ভ্যাঙ্কুভার- এই তিন ভেন্যুতে আজ ছয়টি দেশের ভাগ্য নির্ধারিত হবে। বাংলাদেশের সাবেক ফুটবলার মামুনুল ইসলাম বলেন, ‘নকআউটে যেকোনো দল ছিটকে যেতে পারে, আবার যেকোনো দল জায়গা করে নিতে পারে। এখানে সুনির্দিষ্টভাবে বলা সম্ভব নয় কোন দল বাদ পড়বে। তবে বড় ও অভিজ্ঞ দলগুলোকে এগিয়ে রাখতে হয়। নকআউটে ভাগ্য বড় প্রভাব ফেলে, এরই মধ্যে শিরোপার দুই দাবিদার জার্মানি ও নেদারল্যান্ডস বিদায় নিয়েছে।’ আজ স্পেন-অস্ট্রিয়া, পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়া এবং সুইজারল্যান্ড-আলজেরিয়ার লড়াই নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ তুঙ্গে। আগের ম্যাচগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন কৌশলে মাঠে নামছে শেষ ষোলোর টিকিট পেতে মরিয়া দলগুলো।
টুর্নামেন্টের এই পর্যায়ে ছোট ভুলের মাশুল দিতে হয় বড় আকারে। লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়ামে স্পেনের ফেভারিট হওয়াটাই স্বাভাবিক। মামুনুল ইসলাম ম্যাচটি নিয়ে বলেন, ‘স্পেনের ম্যাচ উইনার অনেক। এ কারণে স্পেনকে আগায়ে রাখবো।’ স্পেনের মাঝমাঠের দখল এবং আক্রমণভাগের গতি যেকোনো রক্ষণের জন্য ত্রাস। অন্যদিকে অস্ট্রিয়া গ্রুপ পর্বে দারুণ লড়াকু ফুটবল খেলে নকআউটের টিকিট কেটেছে। তবে স্পেনের দলের গভীরতা ও দক্ষতার সামনে অস্ট্রিয়ার রক্ষণভাগ কতটা অটুট থাকবে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই যায়। স্পেনের কোচ তার শিষ্যদের নিয়ে পরিকল্পনা সাজিয়েছেন বল পজিশনের ওপর ভিত্তি করে। মামুনুল বলেন, ‘স্পেনের গভীরতা ও দক্ষতার সামনে অস্ট্রিয়ার রক্ষণভাগ কতটা অটুট থাকবে তা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েই যায়, স্পেনই এই মুহূর্তে সেরা দল।’ তাই আজ স্পেনের সমর্থকদের বড় জয় প্রত্যাশা করাই স্বাভাবিক। অন্যদিকে টরন্টোর বিএমও ফিল্ডে পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়ার ম্যাচটি সবথেকে আকর্ষণীয় দ্বৈরথ হিসেবে গণ্য হচ্ছে। মামুনুল ইসলামের চোখে এই লড়াইটি অন্যরকম। তিনি বলেন, ‘পর্তুগাল টিম হিসেবে স্ট্রং। পর্তুগাল অ্যাজ এ টিম যদি আপনি প্লেয়ার টু প্লেয়ার বিশ্লেষণ করেন, তো পর্তুগালে অনেক ম্যাচ উইনার প্লেয়ার আছে।’ ক্রোয়েশিয়ার সেই সোনালী দিনের আভা এখন অনেকটাই ম্লান। মামুনুল বলেন, ‘ক্রোয়েশিয়া বর্তমানে তাদের সোনালী সময়ের ফর্মের ধারেকাছেও নেই। ২০১৮ সালের সেই দুর্দান্ত ক্রোয়েশিয়া এবং বর্তমান দলের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট।’ পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়ার
এই ম্যাচটি ফিফটি-ফিফটি হওয়ার সম্ভাবনা
থাকলেও পর্তুগালের সাম্প্রতিক ফর্ম তাদের কিছুটা এগিয়ে রেখেছে। স্নায়ু ধরে রাখলে পর্তুগাল জয়ী হবে।
ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেসে সুইজারল্যান্ড তাদের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চাইবে। সুইজারল্যান্ড ও আলজেরিয়ার ম্যাচ নিয়ে মামুনুল ইসলাম বেশ আত্মবিশ্বাসী। তিনি বলেন, ‘আমি সুইজারল্যান্ডকেই এগিয়ে রাখবো।’ আলজেরিয়া গ্রুপ পর্বে অঘটন ঘটিয়ে নকআউটে আসলেও সুইজারল্যান্ডের মতো গোছানো দলের বিপক্ষে টিকে থাকা কঠিন হবে। সুইজারল্যান্ডের ফুটবলাররা শারীরিক এবং মানসিক দিক থেকে অনেক বেশি তৈরি। আলজেরিয়া যদি শুরুতে গোল খেয়ে বসে তবে তাদের জন্য ম্যাচে ফিরে আসা অসম্ভব হতে পারে। মামুনুলের মতে, সুইজারল্যান্ড কৌশলী ফুটবলে দাপট দেখাবে।
আলজেরিয়া কেবল রক্ষণভাগ সামলে প্রতিআক্রমণে গোলের সুযোগ খুঁজবে। সুইজারল্যান্ড তাদের শক্ত অবস্থান ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর, চমক না দেখাতে পারলে আলজেরিয়ার বিদায় নিশ্চিত। ফুটবল মাঠে রেফারিং ও ভিএআর নিয়ে অনেক বিতর্ক থাকলেও মামুনুল ইসলামের মতে আধুনিক প্রযুক্তির কারণে খেলা অনেক সহজ হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ওয়ার্ল্ড ফুটবলে রেফারি কিন্তু আরও ইজি হয়ে গেছে ভিএআর-এর কারণে। মিস্টেক তো মানুষই করবে, মানুষেরই মিস্টেক হবে, ওটা কিন্তু ভিএআর-এ আপনার ধরা পড়ছে। নকআউটের এই পর্যায়ে রেফারিং নিয়ে বাড়তি চাপের মুখে রেফারিরা। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করলে খেলাগুলো উপভোগ্য হবে।’ প্রতিটি দলই আজ শেষ ১৬-তে জায়গা করে নিতে মরণপণ লড়াই করবে। মামুনুল ইসলামের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, স্পেন, পর্তুগাল ও সুইজারল্যান্ড জয়ী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে। এখন কেবল মাঠে বল গড়ানোর অপেক্ষা।
