কিলিয়ান এমবাপ্পে জোড়া গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে লিওনেল মেসিকে ছুঁয়েছেন ঠিকই। তবে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফরাসিদের রূপকথার অন্যতম নায়ক ছিলেন মাইকেল ওলিসে। বায়ার্ন মিউনিখ সেনসেশনের এক অনবদ্য পারফরম্যান্সে সুইডেনকে ৩-০ হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ১৬ নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স। ম্যাচের পর এই মাঝমাঠের এই জাদুকরকে প্রশংসায় ভাসিয়ে সাবেক ফরাসি ডিফেন্ডার উইলি সানিয়াল তো বলেই দিয়েছেন, “ওলিসে এখন বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়, অন্য সবার চেয়ে অনেক এগিয়ে। এই বছরের শেষে ও যদি ব্যালন ডি’অর না জেতে, তবে বুঝতে হবে ফুটবলের কোথাও বড় কোনো সমস্যা আছে।”
এই ম্যাচে ২টি অ্যাসিস্টের মাধ্যমে চলমান বিশ্বকাপে ওলিসের মোট অ্যাসিস্ট সংখ্যা দাঁড়ালো ৫-টিতে, যা এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ। ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপের এক আসরে ওলিসের চেয়ে বেশি অ্যাসিস্ট করার কীর্তি আছে কেবল একমাত্র ফুটবল সম্রাট পেলের। ১৯৭০ বিশ্বকাপে সাকুল্যে ৬টি অ্যাসিস্ট করেন সেলেসাও কিংবদন্তি। পেলের সেই অমর রেকর্ডের ঠিক পেছনেই এখন ২৪ বছর বয়সী এই ফরাসি জিনিয়াস।
ম্যাচে অ্যাসিস্টের হ্যাটট্রিক করতে পারতেন ওলিসে। তবে প্রথমার্ধে এমবাপ্পে তার পাস থেকে গোল করলেও রেফারি অফসাইডের কারণে তা বাতিল করেন। এরপর নিজেই ম্যাচের অন্যতম সেরা মুহূর্ত উপহার দিতে গিয়ে এক অবিশ্বাস্য বাইসাইকেল-কিক নেন। সুইডিশ গোলকিপারকে পরাস্তও করে ফেলেছিলেন।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে শটটি গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসে। তবে বিরতির ঠিক আগে ওলিসে এবং ডেম্বেলের পাসিং কম্বিনেশন থেকে বল পেয়ে জালের ঠিকানা খুঁজে নেন এমবাপ্পে। দ্বিতীয়ার্ধে ওলিসের
সৃষ্টিশীলতা রুখতে পারেনি সুইডেন। ৫৩ মিনিটে সুইডিশ ডিফেন্ডারকে নাটমেগ করে যে নিখুঁত পাস বাড়িয়েছিলেন, তা থেকেই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ব্র্যাডলি বারকোলা। উইলি সাগনলের ভাষায়, ‘ওলিসে স্রেফ একজন খাঁটি টিম-প্লেয়ার, কোনো ব্যক্তিকেন্দ্রিক খেলোয়াড় নন। সহজ কথায়, ওলিসে নিজে গোল করল নাকি অ্যাসিস্ট করলো- তা নিয়ে ওর কিছু আসে যায় না। ও সবসময় দেখে কোনটা দলের উপকারে আসবে।’
ম্যাচের ৭৫ মিনিটে ওলিসের আরও একটি নিখুঁত থ্রু-বল ধরে আর্সেনাল কিংবদন্তি থিয়েরি অঁরির স্টাইলে বাঁকানো শটে দলের শেষ গোলটি করেন এমবাপ্পে। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে ৯ ম্যাচে ৯টি গোল করার অনন্য রেকর্ড গড়লেন ফরাসি অধিনায়ক। এই পথে যা ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফরোয়ার্ড রোনালদোকে নাজারিওকে (৮) ছাড়িয়ে গেছেন তিনি। অধিনায়ক এমবাপ্পেও ওলিসের ‘দৃষ্টিভঙ্গি ও নান্দনিক ফুটবল’-এর প্রশংসা করেছেন। সোফাস্কোরের মতে ম্যাচসেরা হওয়া এমবাপ্পের রেটিং ছিল ৯.৮। আর ওলিসের পাশে রেটিং ৮.৮। দুদলের আর কেউই ৮ রেটিং ছুঁতে পারেনি।
এই জয়ের পর আগামী শনিবার ফিলাডেলফিয়ায় কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হবে ফেভারিট ফ্রান্স।
