ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের সামনে ৩ বিকল্প, বিশ্লেষকরা কি বলছেন?

ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের সামনে ৩ বিকল্প, বিশ্লেষকরা কি বলছেন?

ফন্ট সাইজ:

মধ্যপ্রাচ্যে ইরাক যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক সমাবেশের নির্দেশ দেয়ার পর এখন ইরান প্রসঙ্গে সিদ্ধান্তের মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন- তার সামনে তিনটি প্রধান বিকল্প খোলা আছে। কূটনৈতিক সমঝোতা, সীমিত সামরিক হামলা, অথবা ইরানের শাসনব্যবস্থাকে টার্গেট করে বড় ধরনের অভিযান।
ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, তিনি যুদ্ধের চেয়ে চুক্তিকেই প্রাধান্য দেন, তবে চুক্তি না হলে ইরানের জন্য ‘খুব খারাপ দিন’ আসতে পারে। তবে তিনি ঠিক কী অর্জন করতে চান, বা কেন এই মুহূর্তে পদক্ষেপ বিবেচনা করছেন- তা স্পষ্ট নয়।

বিকল্প ১: কূটনৈতিক প্রচেষ্টা

হোয়াইট হাউসের শীর্ষ কর্মকর্তারা বলছেন, ট্রাম্পের প্রথম পছন্দ ইরানের সঙ্গে এমন একটি চুক্তি, যা সামরিক সংঘাত এড়াতে পারে।
ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় তৃতীয় দফায় বৈঠকে বসার কথা রয়েছে।

মূল বিরোধের জায়গা হলো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ। ট্রাম্প চান, ইরান যেন কোনোভাবেই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে না পারে। কিন্তু ইরান বলছে, শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য এটি তাদের অধিকার। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি দীর্ঘদিন ধরেই ‘শূন্য সমৃদ্ধকরণ’ প্রস্তাবকে নাকচ করে আসছেন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, শূন্য সমৃদ্ধকরণ তাদের জন্য গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি জাতীয় মর্যাদার প্রশ্ন।
তবে আঞ্চলিক কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, দুই পক্ষই কিছুটা ‘সৃজনশীল’ সমাধান খুঁজছে। যেমন সীমিত মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ, যা কেবল চিকিৎসা কাজে ব্যবহার হবে।

বিকল্প ২: সীমিত পরিসরে হামলা

দ্বিতীয় বিকল্প হিসেবে ট্রাম্প ইরানের নির্দিষ্ট সামরিক স্থাপনায় সীমিত হামলার নির্দেশ দিতে পারেন। এক্ষেত্রে সম্ভাব্য লক্ষ্য হতে পারে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, পারমাণবিক স্থাপনা অথবা ইসলামিক রেভ্যলুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) অবকাঠামো।
এ ধরনের হামলা তেহরানকে আলোচনায় ফিরতে বাধ্য করবে, নাকি আরও কঠোর অবস্থানে ঠেলে দেবে এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। ইরান ইতিমধ্যে সতর্ক করেছে, হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

মার্কিন সামরিক বাহিনী বিভিন্ন সম্ভাব্য অভিযানের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে বলে জানা গেছে। লক্ষ্যবস্তু অনুযায়ী অস্ত্র নির্বাচন ও আকাশ হামলার সময়সূচিও প্রস্তুত রয়েছে।

বিকল্প ৩: শাসন পরিবর্তনের চেষ্টা

সবচেয়ে কঠোর বিকল্প হলো ইরানের শাসনব্যবস্থাকে উৎখাতের উদ্দেশ্যে বৃহৎ সামরিক অভিযান। এতে একযোগে একাধিক হামলা বা ধারাবাহিক আক্রমণ অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। যার লক্ষ্য হবে সামরিক স্থাপনা, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র এবং পারমাণবিক অবকাঠামো।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যেকোনো বড় অভিযানে আইআরজিসি প্রধান লক্ষ্যবস্তু হবে। তবে সরকারের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃত্বকে সরাসরি টার্গেট করা আরও জটিল প্রশ্ন।
মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনসহ শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা এমন বড় অভিযানের ঝুঁকি, জটিলতা এবং দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। দীর্ঘ অভিযান মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডার ও সেনা মোতায়েনে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে ইসরাইল ও ইউক্রেনকে সহায়তার প্রেক্ষাপটে।


<:>

৩ মাস আগে

Iran is Not the key Issue: The primary objective is not Iran; rather, the complete demolition, reconstruction, and capitulation of the Gaza Strip are the main focus. The goal is to ensure that during the entire process of seizing the Gaza Strip, there is ‘no-threat’from Iran.

জনতা

৩ মাস আগে

ইরানে হামলা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বিশাল খতির কারণ হতে পারে। ইরানে হামলা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এত সহজ হবে না। ইরান ভেনেজুয়েলা নয়। ১০ বছর যুদ্ধে ভিয়েতনাম থেকে পালিয়েছে, ২০ বছর যুদ্ধে আফগানিস্তান থেকে পালিয়েছে। এবার দাদাগীরী শেষের পথ হবে এই যুদ্ধ, যদি আমেরিকা ভূল করে থাকে। এই যুদ্ধ শুরু হলে এই ফাকে রাশিয়া ইউক্রেনকে গিলে ফেলবে ও তৃতীয় বিশ্ব যুদ্ধ শুরু হয়ে যেতে পারে বাস্তবে।

A R Sarker

৩ মাস আগে

আল্লাহ হয়তো আমেরিকাকে আর সুপার পাওয়ারে দেখতে চান না। তাই যুদ্ধ লেগেও যেতে পারে যার মাধ্যমে আল্লাহ আমেরিকার অহমিকার পতন ঘটাবেন।

মন্তব্য করুন