প্রেমিকার ‘বিশ্বস্ত ব্যক্তি’ এবং মার্কিন গোয়েন্দাদের সহায়তায় যেভাবে এল মেনচোকে হত্যা করলো মেক্সিকো

প্রেমিকার ‘বিশ্বস্ত ব্যক্তি’ এবং মার্কিন গোয়েন্দাদের সহায়তায় যেভাবে এল মেনচোকে হত্যা করলো মেক্সিকো

ফন্ট সাইজ:

সেনাবাহিনীর অভিযানে নিহত হয়েছেন মেক্সিকোর কুখ্যাত মাদকসম্রাট এল মেনচো। রোববার পরিচালিত ওই অভিযানের পর দেশজুড়ে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়েছে। কুখ্যাত এই মাদকসম্রাটের অবস্থান নিশ্চিত হওয়া কোনো সহজ বিষয় ছিল না। বছরের পর বছর চেষ্টার পর রোববার তার অবস্থান শনাক্তে সমর্থ হয় দেশটির সেনাবাহিনী। আর এতে নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে এল মেনচোর প্রেমিকা ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি এবং মার্কিন গোয়েন্দা বাহিনী।

এল মেনচোর বিরুদ্ধে পরিচালিত রোমাঞ্চকর অভিযানের তথ্য সবিস্তারে তুলে ধরেছে সিএনএন। মেক্সিকোর প্রতিরক্ষা সচিব রিকার্দো ত্রেভিয়া ত্রেহোর বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, বহু বছর ধরে অনুসরণের পর ২০ ফেব্রুয়ারি নিরাপত্তা বাহিনী ওসেগুয়েরা ওরফে এল মেনচোর অবস্থান সম্পর্কে নির্দিষ্ট তথ্য পায়। তদন্তকারীরা তার এক প্রেমিকার বিশ্বস্ত ব্যক্তির মাধ্যমে গোপন আস্তানায় পৌঁছানোর সূত্র খুঁজে পান।

পরদিন প্রেমিকা তাপালপার উপকণ্ঠে অবস্থিত একটি কেবিন কমপ্লেক্স ত্যাগ করলেও এল মেনচো নিরাপত্তারক্ষীদের নিয়ে সেখানে অবস্থান করেন। মেক্সিকোর বিশেষ বাহিনী ও ন্যাশনাল গার্ডের স্পেশাল ইমিডিয়েট রিঅ্যাকশন ফোর্স ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযানের পরিকল্পনা করে।

সন্দেহ এড়াতে সীমিত হেলিকপ্টার সহায়তায় মূলত স্থলপথে অভিযান চালানো হয়। যুক্তরাষ্ট্র গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করলেও কোনো স্থলসেনা মোতায়েন করেনি।
অভিযানটি চালানো হয় তাপালপার দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রায় তিন মাইল দূরে অবস্থিত কাবানাস লা লোমা নামের একটি অবকাশযাপন কেন্দ্রে।

বন্দুকযুদ্ধ ও মৃত্যু
মেক্সিকোর নিরাপত্তা বাহিনী কমপ্লেক্স ঘিরে ফেললে এল মেনচোর সহযোগীরা গুলি চালায়। সংঘর্ষে আট কার্টেল সদস্য নিহত ও দুই সেনা আহত হন।

এল মেনচো ও তার কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী পাশের জঙ্গলে পালিয়ে যান। বিশেষ বাহিনী তাদের ধাওয়া করে গুলিবিনিময়ের পর এল মেনচো ও তার দুই দেহরক্ষীকে গুরুতর আহত অবস্থায় আটক করে। হাসপাতালে নেয়ার পথে হেলিকপ্টারেই তাদের মৃত্যু হয়।

দেশজুড়ে সহিংসতা

এল মেনচোর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই কার্টেল সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগ, সড়ক অবরোধ ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। ২৫ জন ন্যাশনাল গার্ড সামরিক পুলিশ সদস্য নিহত হন। বিমান সংস্থাগুলো ওই অঞ্চলে ফ্লাইট স্থগিত করে এবং যুক্তরাষ্ট্র তার নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দেয়।

এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন প্রেসিডেন্ট শেইনবাউম যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে মাদক পাচার দমনে বাড়তি চাপের মুখে রয়েছেন। এছাড়া সহিংসতায় কেঁপে ওঠা গুয়াদালাহারা শহর ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের চারটি গ্রুপ পর্বের ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সোমবার জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রেসিডেন্ট শেইনবাউম শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পুরো মেক্সিকোতে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। জনগণ আশ্বস্ত থাকতে পারেন যে দেশজুড়ে স্বাভাবিকতা বজায় রাখা হচ্ছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন