দীর্ঘ এক যুগ পর বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার প্রত্যাবর্তনটা হয়েছে রঙিন। অস্ট্রিয়ার সঙ্গে নাটকীয় ড্রয়ে শেষ ৩২-এর টিকিট পায় আফ্রিকান দলটি। কিন্তু তাদের অর্জনে ম্যাচ পাতানোর কলঙ্ক তিলক সেঁটে দেয়ার চেষ্টা চলছে। অবশ্য সমালোচনা গায়ে মাখানোর সময় নেই রিয়াদ মাহরেজদের। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে নকআউট লড়াই জেতাই মূল লক্ষ্য তাদের। আগামীকাল সকাল ৯টায় ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দু’দল। প্রতিযোগিতামূলক আসরে এটাই তাদের প্রথম সাক্ষাত। এর আগে দুবার প্রীতি ম্যাচে লড়েছিল আলজেরিয়া-সুইজারল্যান্ড। দুটিতেই জিতেছে সুইসরা।
সুইজারল্যান্ড ম্যাচ নিয়ে রোমাঞ্চিত আজেরিয়ার কোচ ভ্লাদিমির পেতকোভিচ। হওয়ারই কথা। একসময় যাদের জন্য ডাগআউটে গলা ফাটিয়েছেন, এবার তাদের বিপক্ষেই লড়ছেন তিনি। পেতকোভিচ ২০১৪ থেকে ২০২১ পর্যন্ত সুইজারল্যান্ড জাতীয় দলের কোচ ছিলেন। নকআউট ম্যাচ নিয়ে তিনি বলেন, ‘এমন তীব্র ম্যাচের পর প্রতিপক্ষ নিয়ে ভাবার সময়ই পাইনি। এখন জানলাম সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবো। তারা দারুণ দল। খেলোয়াড়রাও দুর্দান্ত। আমি তাদের ভালো করেই চিনি। যদিও দলে নতুন কিছু মুখ এসেছে।’
পেতকোভিচ দায়িত্ব ছাড়ার পরই সুইজারল্যান্ডের কোচ হন মুরাত ইয়াকিন। পূর্বসূরির বিপক্ষে ম্যাচটা উপভোগ্য হবে বলেই মনে করছেন তিনি। সুইস সুপার লীগে কোচিং করানোর সময় পাঁচবার মুখোমুখি হন এই দু’জন। তিন ড্রয়ের সঙ্গে দুই জয় নিয়ে এগিয়ে রয়েছেন ইয়াকিন। আলজেরিয়া ম্যাচ নিয়ে তিনি বলেন, ‘ভ্লাদোকে (পেতকোভিচ) আবার দেখার অপেক্ষায় আছি। সুইজারল্যান্ডে আমাদের একাধিকবার দেখা হয়েছে। আলজেরিয়া খুবই আকর্ষণীয় প্রতিপক্ষ।’
আলজেরিয়ার কাছে এবারের আসরটা অসমাপ্ত গল্পের পরের অধ্যায় লেখার মতো। ১৯৮২ বিশ্বকাপে প্রথমবার এসেই ফুটবলবিশ্বকে চমকে দিয়েছিল দলটি। অভিষেক ম্যাচে পশ্চিম জার্মানিকে পরাজিত করে তারা। দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রিয়ার কাছে ২-০ গোলে হারলেও শেষ ম্যাচে চিলিকে ৩-২ ব্যবধানে পরাজিত করেছিল আলজেরিয়া। সমীকরণ এমন ছিল যে, শেষ ম্যাচে পশ্চিম জার্মানি ১ বা ২ গোলের ব্যবধানে জিতলে জার্মানি ও অস্ট্রিয়া উভয়েই পরের রাউন্ডে চলে যাবে।
অন্য ফল হলে আলজেরিয়া সুযোগ পাবে। ম্যাচের দশম মিনিটে জার্মানি লিড নেওয়ার পর দুই দল কার্যত গা ছাড়া খেলতে থাকে। দর্শকরাও বুঝে গিয়েছিল যে ইচ্ছাকৃতভাবে সময় অপচয় করা হচ্ছে। শেষতক জার্মানি ১-০ গোলে জেতে। আলজেরিয়া বাদ পড়ে। বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠে। ফুটবল ইতিহাসে ঘটনাটি ‘ডিসগ্রেস অব গিহন’ নামে কুখ্যাত। আর এরই জেরে ফিফা গ্রুপ পর্বের শেষ রাউন্ডের খেলা একই সময়ে নিয়ে আসে। ২০১৪ সালে দ্বিতীয়বার অংশ নিয়ে গ্রুপ পর্বের বাঁধা পেরোনোর আক্ষেপ ঘুচাতে পেরেছিল আলজেরিয়া। কিন্তু সেবারও বাধ সাধে জার্মানি। অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত লড়াই করে ২-১ গোলে হেরে যায় আলজেরিয়া।
