এক সময় নদীনির্ভর বাংলাদেশের অন্যতম অনুষঙ্গ ছিল নৌকা। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে সমগ্র বছরব্যাপী নৌকার চাহিদা আর সেভাবে থাকে না। তবে চলনবিল অধ্যুষিত পাবনার ফরিদপুর উপজেলার অনেক এলাকায় এখনো বর্ষার সময়ে নৌকার ব্যবহার আগের মতোই। এই বাস্তবতায় উপজেলার বিভিন্ন কাঠের আসবাব তৈরির দোকানগুলোতে মৌসুমি কাজ হিসেবে শুরু হয় নৌকা তৈরি। ১২ হাত বা ১৮ ফুট থেকে শুরু করে বিভিন্ন দৈর্ঘ্যরে ও বৈশিষ্ট্যের নৌকা তৈরি করা হয় এসব দোকানগুলোতে। এমনকি ক্রেতার পছন্দ ও ফরমায়েশ অনুযায়ী নৌকাও তৈরি করে দেয়া হয়। উপজেলার গুমানী নদীর তীর সংলগ্ন এরশাদনগর হাটে সরজমিন দেখা যায়, কাঠের আসবাব প্রস্তুতকারক আমজাদ হোসেন তার দুই সহযোগী শাহিনুর ও শাহিনকে নিয়ে নৌকা তৈরি করছেন। তাদের সঙ্গে কথা হলে আমজাদ হোসেন জানান, তারা মূলত চুক্তিভিত্তিক নৌকা তৈরি করেন।
১৮ ফুট দৈর্ঘ্যরে একটি নৌকা তৈরি করতে তারা সর্বনিম্ন মজুরি নেন ৩৫০০ টাকা। নৌকার আকার বড় হলে মজুরিও বাড়ে। সবচেয়ে সহজলভ্য ও সস্তা কাঠ ইউক্যালিপ্টাস দিয়ে নৌকা তৈরির প্রচলন বেশি থাকলেও এর পাশাপাশি জারুল, আম, শিশু এবং কড়ই কাঠও তারা নৌকা তৈরিতে ব্যবহার করেন। সম্পূর্ণ কাঠের তৈরি নৌকার পাশাপাশি কাঠের ফ্রেমের সঙ্গে স্টিলের ‘প্লেইন সিট’ ব্যবহার করেও নৌকা তৈরি করেন তারা। আমজাদের সহকারী শাহীনুর বলেন, একটি নৌকা ক্ষেত্রবিশেষে ৩ থেকে ৫ ‘পানি’ বা বর্ষা ব্যবহার করা যায়।
ভালো মানের উপকরণ দিয়ে তৈরি করলে এবং যত্ন করে ব্যবহার করলে একটি নৌকা বেশ কয়েক বছর ব্যবহার করা যেতে পারে। আরেক নৌকা প্রস্তুতকারী শাহীন জানান, সাধারণ কাঠের নৌকা তুলনামূলক সস্তা হলেও তা ভারী এবং টেকসই কম হয়। কিন্তু কাঠের সঙ্গে ‘প্লেইন সিট’ ব্যবহার করে তৈরি নৌকা দামে একটু বেশি হলেও এটি হালকা ও বেশি টেকসই হয়। নৌকা প্রস্তুতকারীদের মতে, গত বছরগুলোর তুলনায় এবার নৌকা প্রস্তুত করতে বেশি খরচ করতে হচ্ছে। কারণ হিসেবে তারা কাঠ সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধিকে দায়ী করেন। স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল ভূঁইয়া এসেছিলেন নৌকা তৈরির ফরমায়েশ দিতে।
কিন্তু গত বছরের তুলনায় এবারের বর্ধিত দামে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। তিনি বলেন, গত বছরের তুলনায় এবারের নৌকার মূল্য অনেক বেশি মনে হচ্ছে। তবে নৌকা ব্যবহার করেন এমন কিছু স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফরমায়েশ দিয়ে নৌকা তৈরিতে খরচ কিছুটা বেশি হলেও টেকসই বেশি হয়। আর বিভিন্ন হাট থেকে ‘প্রস্তুত’ নৌকা কিনলে খরচ কিছুটা কম পড়ে, তবে তুলনামূলকভাবে টেকসই কম হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
