‘এমবাপ্পে শো’ চলছেই!

‘এমবাপ্পে শো’ চলছেই!

ফন্ট সাইজ:

আরেকটি দিন। গুটিকয়েক রেকর্ড। দাপুটে ফ্রান্স। নেপথ্যে কিলিয়ান এমবাপ্পে। প্রজাপতির মতো ভাসা আর মৌমাছির মতো হুল ফোটানো যার স্বভাব। বিশ্বকাপে শেষ বত্রিশের মঞ্চে সুইসদের গায়ে হুল ফোটালেন দু’বার। ফরাসি অধিনায়কের জোড়া গোলে সুইডেনকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোয় প্যারাগুয়েকে পেয়েছে ফ্রান্স। টুর্নামেন্টের শুরু থেকে ফরাসিদের তরী ভাসানোর নেতৃত্বে এমবাপ্পে। যাকে থামানো দায়! দুর্বার গতিতে ছুটে ভাঙছেন একের পর এক রেকর্ড। সুইডেনের বিপক্ষে জোড়া গোল রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ডকে নিয়ে গেছে নতুন উচ্চতায়। বিশ্বকাপের নকআউটে এমবাপ্পে ১০ গোল করেছেন। এমন কৃতিত্ব দেখাতে পারেনি আর কোনো ফুটবলার। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এখন তিনিই সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। নকআউটে ৮টি করে গোল আছে ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিও আর লিওনিদাসের।

ফ্রান্সের আক্রমণভাগে মূল সেনানি এমবাপ্পে। সঙ্গে মাইকেল ওলিসে, উসমান দেম্বেলের দাপটে গ্রুপ পর্বের পর নকআউটেও দুর্ধর্ষ প্যারিসিয়ানরা। চার ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে ১৩ গোল দিয়েছে ফ্রান্স। যার ৬টি করেছেন এমবাপ্পে। ছুঁয়ে ফেলেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে। এবারের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় যৌথভাবে দু’জনে শীর্ষে রয়েছেন। গ্রুপ পর্বে যেখানে শেষ করেছিলেন, সুইডেনের বিপক্ষে সেখান থেকেই যেন শুরু করলেন ফ্রান্সের এই মহাতারকা। প্রথমার্ধেই হ্যাটট্রিক পেতে পারতেন। ২০ মিনিটের সময় সুইডেনের রক্ষণ ও গোলরক্ষককে বোকা বানিয়ে গোল করেন এমবাপ্পে। কিন্তু ভিএআর চেকে কয়েক মিলি সেকেন্ডের জন্য অফসাইড হয়ে যায়। ১২ মিনিট পর তার আরেকটি চেষ্টা বিফলে যায়।

এবার বাধা হয়ে দাঁড়ায় গোলপোস্ট। এমবাপ্পের চোখে মুুখে তখন হতাশার ছাপ। সেই হতাশা দূর করতে দেরি হয়নি। বিরতিতে যাওয়ার আগ মুহূর্তে বক্সের ভেতরে জাদুকরী ড্রিবলিং আর নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ফ্রান্সকে এগিয়ে নেন এমবাপ্পে। গোল করার পর এমবাপ্পের উদ্‌যাপনটা হৃদয়স্পর্শী। ছুটে যান কোচ দিদিয়ের দেশমের কাছে। যিনি তাকে অধিনায়কের দায়িত্ব দিয়ে সবসময়ে আস্থার প্রতীক হয়ে পাশে থেকেছেন। সমালোচকদের তোপের মুখেও এমবাপ্পের পাশে থেকেছেন। মা হারানোর শোকে থাকা প্রিয় কোচ দেশমকেই এ গোলটি এমবাপ্পে উৎসর্গ করেছেন। এ গোল করে মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ড ভেঙে দেন এমবাপ্পে। এরপর ৭৪ মিনিটে মাইকেল ওলিসের পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করে গড়েন বিশ্বরেকর্ড। বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে সর্বোচ্চ ১০ গোলের মালিক এখন এমবাপ্পে। বিশ্বকাপে মেসির ১৯ গোল এসেছে ২৯টি ম্যাচ খেলে। সেখানে এমবাপ্পে মাত্র ১৮ ম্যাচ খেলেই করে ফেলেছেন ১৮ গোল! অর্থাৎ ম্যাচ প্রতি গোলের অনুপাতে মেসির চেয়েও অনেক বেশি বিধ্বংসী গতিতে ছুটছেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড।

এবারের বিশ্বকাপকে অনেকে বলছেন ‘এমবাপ্পে শো’। কেউ বলছেন ‘মেসি শো’ আবার কেউ হালান্দের ‘ভাইকিং শো’তে মজেছেন। তবে পার্থক্য রয়েছে। এমবাপ্পের সাফল্যের নেপথ্যে তিনি একা নন। দলীয় প্রচেষ্টায় সাফল্য পাচ্ছে ফ্রান্স। সঙ্গে এমবাপ্পে। বন্ধু মাইকেল ওলিসের সঙ্গে তার বোঝাপড়া, উসমান দেম্বেলের উইং দিয়ে আক্রমণ কিংবা ব্র্যাডলি বারকোলা বা দেজিরে দুয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে খেলা- সবমিলিয়ে ফ্রান্সের আক্রমণভাগ যেন এক সুতোয় গাঁথা। তাদের ক্ষিপ্র গতি আর ছন্দময় ফুটবলেই সুইডেনের বিপক্ষে দাপুটে জয় পেয়েছে ফ্রান্স। টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনাকে শিরোপার বড় দাবিদার মনে হলেও, ফ্রান্সের আক্রমণভাগের বৈচিত্র্য ও দলের ভারসাম্যের ধারেকাছে নেই আর্জেন্টিনা, স্পেন কিংবা ইংল্যান্ডের মতো দল।

কোচ হিসেবে নকআউট পর্বে নবম জয় পেলেন দিদিয়ের দেশম। এটি বিশ্বকাপে ইতিহাসে যে কোনো কোচের সর্বোচ্চ। এই রেকর্ড গড়েছেন সদ্য মাকে হারিয়ে শোকের মাঝে থাকা দেশম। আর এ কঠিন সময়ে কোচের প্রতি অগাধ ভালোবাসা এমবাপ্পের। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘আমরা জানি, আমাদের প্রধান কোচ ব্যক্তিগত জীবনে একটি কঠিন সময়ের মধ্যদিয়ে গেছেন। জীবনের এই কঠিন সত্যটির মুখোমুখি একদিন সবাইকে হতে হবে। এটি ফুটবলের চেয়েও অনেক বড় আবেগ। তিনি জানেন, আমরা সবসময় তার পাশে আছি, তিনি কখনো একা নন।’


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন