বীর মুক্তিযোদ্ধা, কিংবদন্তি অভিনেতা, প্রযোজক, পরিচালক সোহেল রানা। সময়ের পরিক্রমায় অভিনয় থেকে দীর্ঘদিন দূরে। কাজের বাইরে আড্ডা থেকে নিজেকে সবসময় দূরে রাখতে পছন্দ করেন। তবে চলচ্চিত্রের অবস্থা সম্পর্কে সব খবরই রাখেন তিনি। তারুণ্যের সোনালী সময়গুলো সিনেমাকে ঘিরে কাটিয়েছেন তিনি। সোনালী সে সময়ের কথা মনে করে সোহেল রানা বলেন, এক সময় চাঞ্চল্যে ভরপুর এফডিসিতে শুটিং ঘিরে সকাল থেকে সন্ধ্যা কখন যে পার হয়ে যেতো টের পাইনি। সে সময় প্রখ্যাত সব অভিনেতা গোলাম মোস্তফা, আনোয়ার হোসেন, শওকত আকবর, আজিমদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সিনেমার উজ্জ্বল সময় পার করেছি।
এবং প্রতিনিয়তই তাদের কাছ থেকে শিখেছি। সোহেল রানা বলেন, আসন্ন শিল্পী সমিতির নির্বাচন উপলক্ষে যখন সামাজিক মাধ্যমে আমার অনুজপ্রতিম ভাই বোনদের উৎসবমুখর আনন্দ দেখি সত্যি সোনালী অতীতে ফিরে যাই। ১৯৮৪ সালে আমার প্রস্তাবে সর্ব প্রথম এ সমিতি প্রতিষ্ঠিত হয়। কতো সব বাঘা বাঘা শিল্পী এই সমিতির সদস্য ছিলেন।
ওই সময়কার সব শিল্পীরা সর্ব প্রথম আমাকে সভাপতি নির্বাচিত করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমি বিনয়ের সঙ্গে তাদের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে নায়ক রাজ রাজ্জাক ভাইকে সমিতির সভাপতি পদে নির্বাচিত করার প্রস্তাব রাখি। আমার এই প্রস্তাবে সহকর্মীরা একমত পোষণ করে রাজ্জাক ভাইকে সভাপতি নির্বাচন করেন। পরবর্তীতে আমাকে প্রযোজক সমিতি এবং পরিচালক সমিতির সদস্যরা দুইবার এই সমিতির সভাপতি পদে নির্বাচিত করেন। তবে এবারের শিল্পী সমিতি নিয়ে অনেকেই বলেন, এবার নির্বাচনে তারকা শিল্পী নেই কেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে সোহেল রানা বলেন, ১২০০ সিনেমা হল থেকে নেমে ২০০-এর কম হলে এসে ঠেকেছে। এখানে কীভাবে আপনারা প্রত্যাশা করেন অনেক তারকা শিল্পীর অংশগ্রহণ? আমি সবার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, বর্তমান ক’জন শিল্পী রয়েছেন যারা শহর গ্রামগঞ্জে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করতে পেরেছেন? আগে তো শিল্পী হতে হবে, তারকা তো বহু দূরের বিষয়। আমি তো অনেক আগেই বলে দিয়েছি সিনেমা কোমায় চলে গেছে। ধীরে ধীরে আমাদের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছে।
এটা বললে বোধহয় ভুল বলা হবে না যে, কফিনের শেষ পেরেকটা মারা হয়ে গেছে। মানুষ কিন্তু পারতপক্ষে কবরস্থান কিংবা শ্মশানে যেতে চায় না, এফডিসি তো বর্তমানে কবরস্থানে পরিণত হয়েছে। এর থেকে পরিত্রাণের কোনো ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব? সোহেল রানা বলেন, কখনো কখনো
হয়তো মানুষ লাইফ সাপোর্ট থেকেও ফিরে আসে। কিন্তু চলচ্চিত্র তার পুরনো দিনে ফিরে যেতে পারবে না। তবুও আমি, আলমগীর, উজ্জল, প্রযোজক হাবিবুর রহমান এবং ফরিদুর রেজা সাগর সম্মিলিতভাবে চেষ্টা
করে যাচ্ছি, দেখা যাক কি হয়। আসন্ন শিল্পী সমিতির নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, যেখানে সিনেমায়ই তৈরি হচ্ছে হাতেগোনা, সেখানে সমিতির গ্রহণ যোগ্যতা প্রশ্নের সম্মুখীন। বিষয়টি বলতে ভালো শোনায় না কিন্তু এটাই বাস্তবতা। তবে এফডিসিকে ঘিরে তো শুধু শূন্যতা, সেখানে আমার শিল্পী ভাইবোনেরা নির্বাচনকে ঘিরে আনন্দে মেতে আছেন, এটাও অনেক। আল্লাহ সুস্থ রাখলে আমি নিজেও ভোট দেবো।
