চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই মঙ্গলবার বেইজিংয়ে সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গে বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংলাপের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন। বেইজিংয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে ওয়াং ই বলেন, অগ্রাধিকার হওয়া উচিত সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়ন ও তা সুরক্ষিত রাখা, আলোচনার গতি বজায় রাখা, বিভিন্ন বাধা ও হস্তক্ষেপ অতিক্রম করা এবং এমন একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তিতে দ্রুত পৌঁছানো, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়ের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে, আঞ্চলিক দেশগুলো সমর্থন করবে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় স্বাগত জানাবে চীন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা আনাদোলু।
ওয়াং ই বলেন, বর্তমান যুদ্ধবিরতি এখনো নাজুক অবস্থায় রয়েছে। তবে যুদ্ধের চেয়ে আলোচনা ভালো, আর মুখোমুখি সংঘাতের চেয়ে সংলাপই উত্তম। ওয়াং ই আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমাতে এবং অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সৌদি আরবের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে চীন প্রস্তুত।
সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমাতে চীনের ভূমিকার মূল্যায়ন করে সৌদি আরব। তিনি যত দ্রুত সম্ভব এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় বেইজিংয়ের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ছাড়াও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। এমন এক সময়ে এই সফর অনুষ্ঠিত হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হরমুজ প্রণালি ঘিরে আবারও উত্তেজনা বেড়েছে।
এর আগে দুই দেশ একটি কাঠামোগত শান্তি চুক্তিতে সম্মত হওয়ার পর সুইজারল্যান্ডে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা শুরু হয়। যার লক্ষ্য ছিল ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটানো। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান বৈঠক করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সাম্প্রতিক পারস্পরিক হামলার পর মঙ্গলবার কাতারের রাজধানী দোহায় দুই দেশের প্রতিনিধিদের বৈঠকে বসার কথা ছিল। তবে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি এর আগে জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহে দোহায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা নির্ধারিত নেই। তিনি এ বিষয়ে মার্কিন গণমাধ্যমের প্রকাশিত প্রতিবেদনকে প্রত্যাখ্যান করেন।
