ফিলিস্তিনে ক্রমাগত হামলা চালিয়ে যাওয়া এবং লেবাননে যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধ না মেনে হামলা চালানোয় যুক্তরাষ্ট্রের কোপানলে পড়ে ইসরাইল। মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে ইসরাইলের জনপ্রিয়তা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে এক বিরল সিদ্ধান্ত গ্রহণের মুখোমুখি হবে যুক্তরাষ্ট্র। চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ইসরাইলকে প্রায় ৩৩০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা দেয়া বন্ধের জন্য উত্থাপিত হওয়া একটি বিলের ওপর ভোটাভুটি হওয়ার কথা।
ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন কংগ্রেস সদস্য রাশিদা তালিব ঘোষণা দিয়েছেন বিলটি তিনি সমর্থন করবেন। সামাজিক মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে রাশিদা তালিব লিখেছেন, ফিলিস্তিনে গণহত্যা, লেবাননে জাতিগত নিধন এবং ইরানে যুদ্ধাপরাধের মতো ঘটনা ঘটানো একটি সামরিক বাহিনীকে অস্ত্র জোগাতে যুক্তরাষ্ট্রের আর একটি পয়সাও খরচ করা উচিত নয়। এ খবর দিয়েছে আল জাজিরা। রাশিদা তালিব তার পোস্টে দাবি করেন, অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক এবং ডেমোক্রেট দলের একটি বিশাল অংশ ইসরাইলকে সামরিক সহায়তা দেয়া বন্ধ করার পক্ষে। তাই এখন সময় এসেছে মার্কিন জনপ্রতিনিধিদের জনগণের এই দাবি শোনার। এই বিলটির পক্ষে ভোট দেয়ার ঘোষণা দেয়া অন্য ডেমোক্রেট আইনপ্রণেতাদের মধ্যে রয়েছেন আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-করতেজ, গ্রেগ ক্যাসার এবং ইলহান ওমর।
ইসরাইলে সহায়তা বন্ধের এই বিলটি মূলত প্রস্তাব করেছেন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা টমাস ম্যাসি। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে ইরানের যুদ্ধসহ বিদেশের মাটিতে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে আসছেন। কেনটাকির এই আইনপ্রণেতা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বৈশ্বিক নীতি ও সামরিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে তার ক্ষোভের মুখে পড়েন। এর জেরে গত মে মাসে অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনের জন্য প্রার্থী বাছাইয়ে রিপাবলিকান পার্টির প্রাইমারি নির্বাচনে ট্রাম্প-সমর্থিত প্রার্থীর কাছে ম্যাসি পরাজিত হন।
