মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে খোলা চিঠি

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে খোলা চিঠি

ফন্ট সাইজ:

নির্বাচনে আপনাদের অভূতপূর্ব সাফল্যে অভিনন্দন। তবে এটা সত্যি নির্বাচনে জেতার চেয়ে নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা অধিকতর কঠিন। আর এই সত্যটা সব রাজনীতিবিদ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ জানেন এবং বোঝেন। সাধারণত বাংলাদেশে রাজনীতিবিদরা নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি রক্ষার চেয়ে নিজের আখের গোছানোতেই ব্যতিব্যস্ত থাকেন। এ পর্যন্ত এরকমটাই চলে আসছে। এবার আপনার লন্ডন থেকে প্রত্যাবাসনের পর নির্বাচনের আগে ও পরে আপনার আচরণ এবং কথাবার্তা আমাদেরকে আশান্বিত করে এই ভেবে যে, আপনি হয়তো পূর্বের প্রথা থেকে বের হয়ে আসবেন। আপনি হয়তো সত্যিকার অর্থে একটা মানবিক, ধর্মনিরপেক্ষ (আমি এটাকে ধর্মনিরপেক্ষই বলবো কারণ, কোনো কিছু নিরপেক্ষ মানে পক্ষপাতিত্ব ছাড়া এবং সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষ শব্দ তাই বুঝায়) এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করবেন। আর এটা করতে হলে আপনাকে কিছু সুচিন্তিত এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যার কয়েকটা দিক আমি নিচে উল্লেখ করছি। এখানে বলে রাখা ভালো, যেসব বিষয় আমি উল্লেখ করছি তা গুরুত্বের ক্রমানুসারে নয়।

১) দুর্নীতি দমনে কঠোর হতে হবে: সন্দেহাতীতভাবে বাংলাদেশে প্রধান রোগ হল দুর্নীতি। সম্প্রতি শেষ হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এটা নির্ধারণে ব্যর্থ হয়েছে বা ইচ্ছে করেই এর থেকে দূরে থেকেছে হয়ত কোনো কোনো সুবিধা নেয়ার জন্য। এক্ষেত্রে প্রধান উপদেষ্টার ট্যাক্স সুবিধা নেয়ার খবর প্রাণিধানযোগ্য (পত্রিকান্তরের খবর)।

বাংলাদেশে দুর্নীতির কারণে জিডিপির কত শতাংশ ক্ষতি হয় তার সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও এটা নিশ্চিত করে বলা যায়, কমপক্ষে তা দুই থেকে তিন শতাংশের মতো হবে। আর এই দুই বা তিন শতাংশ যদি প্রতিবছর জিডিপিতে যোগ হয়, তাহলে দেশে উন্নয়নের চিত্র ভিন্ন হতে বাধ্য।

এটা আর বলতে হবে না যে, বাংলাদেশে দুর্নীতি কতটা বিস্তৃত। দেশের আপামর জনসাধারণ এ ব্যাপারে খুবই ওয়াকিবহাল এবং এর কুফল নিয়মিত ভোগ করছে। সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে দুর্নীতি এমন পর্যায়ে চলে গেছে যে, একে নিচ থেকে (bottom up approach) দমন করা চ্যালেঞ্জই বটে। আর তাছাড়া একজন ভূমি বিভাগের কর্মকর্তা যখন জমি সংক্রান্ত ব্যাপারে ঘুষ নেয়, তাতে জনদুর্ভোগ বাড়ে বটে কিন্তু দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে না।

দুর্নীতির কারণে যেসব কাজে দেশের উন্নয়নে বা অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে তাতে প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ ও উচ্চ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারা জড়িত। বিশেষ করে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে যখন দুর্নীতির কারণে প্রকল্প ব্যয় স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ বা ততোধিক হয়ে যায়। অর্থাৎ দেশের সত্যিকার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্যে দুর্নীতি দমন করতে হলে উপর থেকে (top down approach) শুরু করতে হবে। সেক্ষেত্রে যদিও শুনতে খারাপ শোনায় শুরু করতে হবে আপনার আশপাশ তথা মন্ত্রীবর্গ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ থেকেই। এটাতো আমরা সবাই জানি, অতীতে এসব লোকজন কিভাবে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এক্ষেত্রে পূর্ববর্তী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তার বাড়ির কর্মচারীর ৪০০ কোটি টাকার মালিক হওয়ার উদাহরণ আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, সঠিক সিদ্ধান্ত না নিলে প্রধানমন্ত্রীর আশপাশেও দুর্নীতি হতে পারে।

২) পাবলিক সার্ভিসের গতিশীলতা বাড়ানো: এখানে আমি প্রশাসন না বলে পাবলিক সার্ভিস স্বপ্রণোদিত হয়েই লিখলাম। কারণ আমরা তো আর উপনিবেশ নেই যে, আমাদেরকে শাসন করতে হবে প্রশাসক দ্বারা। একটা স্বাধীন গণতান্ত্রিক দেশে সরকারি কর্মচারীরা জনগণের সেবা করবে এটাই স্বাভাবিক। পাবলিক সার্ভিস কমিশন যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে দীর্ঘ সময় নেয়। আর এটা তো সত্যি সঠিক সময়ে কাজ শেষ করা যেকোনো উন্নয়নের পূর্ব শর্ত। অস্ট্রেলিয়ার মতো উন্নত দেশে সিনিয়র এক্সিকিউটিভ পাবলিক সার্ভেন্টদেরকে (সেক্রেটারি, ডেপুটি সেক্রেটারি ইত্যাদি) চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়। অবশ্যই তাদের পাবলিক সার্ভিসে ও স্ব-স্ব ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা থাকতে হয়। আর একটা বিষয় এ ব্যাপারে উল্লেখ করা যেতে পারে যে অস্ট্রেলিয়াতে বাংলাদেশের মতো বিসিএস ক্যাডার বলে কিছু নেই। তবে কখনো কখনো গ্রাজুয়েট প্রোগ্রামের মাধ্যমে ইউনিভার্সিটি গ্রাজুয়েটদের ক্যাডার পাবলিক সার্ভেন্ট হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়, যারা চাকরি জীবনের শেষ সময়ে যোগ্যতা অনুযায়ী চুক্তিভিত্তিক সিনিয়র পাবলিক সার্ভেন্ট হিসেবে নিয়োগ পেতে পারে।

এটা সহজেই অনুমেয় বাংলাদেশের পাবলিক সার্ভিসকে গতিশীল ও সময়োপযোগী করতে হলে একে ঢেলে সাজাতে হবে। এ ব্যাপারে উপযুক্ত ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে একটা টাস্কফোর্স গঠন করা যেতে পারে। প্রয়োজনে এই টাস্কফোর্সে অস্ট্রেলিয়ার মতো উন্নত দেশের পাবলিক সার্ভিস থেকে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদেরও অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। এই টাস্কফোর্স সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে (তিন থেকে ছয় মাস) বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সুপারিশ করবে।

এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে যে, অস্ট্রেলিয়াতে বাংলাদেশের মতো স্থানীয় পর্যায়ে (জেলা ও উপজেলা) কোনো প্রশাসক নেই। সরকারি পরিকল্পনার বাস্তবায়ন ও সমন্বয় নিজ নিজ ডিপার্টমেন্টই করে থাকে। অবশ্য এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকারও প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখে। সেই জন্য বাংলাদেশে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার যুগোপযোগী করাও অত্যন্ত জরুরি।

৩) অর্থনৈতিক উন্নয়নে শিল্পের বহুমুখীকরণ: দেশের সার্বিক উন্নয়নে অর্থনৈতিক উন্নয়নই মুখ্য। অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশে নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতির প্রধান দিকই থাকে অর্থনৈতিক যা বাংলাদেশে অনুপস্থিত। ১৯৯২ সালের আমেরিকান রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিল ক্লিনটনের স্ট্যাটেজিস্ট জেমস কারভিলের সেই বিখ্যাত উক্তি ‘Its the economy, stupid’ সব দেশ এবং কালের জন্যই প্রযোজ্য।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে শিল্প এবং জনশক্তি রপ্তানি একটা বড় ভূমিকা রাখে। কিন্তু বাংলাদেশের শিল্প খুবই একমুখী, শুধুমাত্র রপ্তানি নির্ভর গার্মেন্টস শিল্প। পৃথিবীর পরিবর্তিত বাস্তবতায় যেমন ভূ-রাজনীতি, যুদ্ধ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে গার্মেন্টস শিল্পের রপ্তানি স্লথ বা মুখ থুবরে পড়তে পারে। তাছাড়া ভারত, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম ও চীনসহ পৃথিবীর অন্যান্য প্রতিযোগী দেশ যেকোনো সময় বাংলাদেশের গার্মেন্টস রপ্তানির প্রথাগত বাজার (ইউরোপ ও আমেরিকা) সংকুচিত করে ফেলতে পারে। সেজন্য বাংলাদেশকে বিকল্প গার্মেন্টস শিল্পের বাজার অনুসন্ধান করতে হবে এবং বিকল্প শিল্প যেমন গাড়ি, ইলেকট্রনিক্স দ্রব্য, জাহাজ নির্মাণ, গৃহস্থালির তৈজসপত্র ইত্যাদি স্থাপনে উদ্যোগ নিতে হবে।

বিকল্প শিল্প স্থাপনে জাপান ও চীনসহ অন্যান্য দেশগুলোর সাথে সমঝোতার ভিত্তিতে এগোতে হবে। এজন্য অবশ্য সরকারকে ব্যবসায়ী বান্ধব নীতিমালা তৈরি করতে হবে, শিল্প স্থাপনের অনুমোদনের প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে। এক্ষেত্রে ওয়ান স্টপ শপের ব্যবস্থা করে সিদ্ধান্তে দীর্ঘসূত্রিতা ও লাল ফিতার দৌরাত্ম কমিয়ে আনা যেতে পারে। সবার আগে অবশ্য এই ওয়ান স্টপ শপ দুর্নীতিমুক্ত থাকতে হবে।

বাংলাদেশে এ ব্যাপারে একটা সুবিধা আছে তাহলে জনশক্তি। দেশের জনশক্তির অধিকাংশই যুবক। এদেরকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিয়ে এসব শিল্পে নিয়োগ করা যেতে পারে। আর একটা সুবিধা হল ভূ-রাজনীতির মেরুকরণের কারণে অনেক শিল্প প্রথাগত উৎপাদনের দেশ চীন থেকে সরে আসতে পারে। এই ধারাটা কোভিড সময় থেকেই শুরু হয়েছে। সে সময় ভিয়েতনামসহ অন্যান্য দেশ এই সুযোগটা কাজে লাগালেও বাংলাদেশ এ ব্যাপারে অনেক পিছিয়ে। আপনার সরকার এ সম্পর্কে যথাযথ নীতিমালাসহ উদ্যোগ নিলে হয়তো ভবিষ্যতে বাংলাদেশে বিকল্প শিল্প প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।

৪) শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করতে হবে: বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা একেবারে হ-য-ব-র-ল। বিভিন্ন রকম শিক্ষা কার্যক্রম শিক্ষার মান অনেক নিচে নামিয়ে ফেলেছে। রাজনৈতিক কারণে সাধারণ শিক্ষার সাথে ধর্মীয় শিক্ষার সংযুক্তিকরণ এই প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করেছে। সাধারণ শিক্ষা ও ধর্মীয় শিক্ষার পথ এবং উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। সাধারণ শিক্ষা যেখানে জ্ঞান-বিজ্ঞান, সাহিত্য সংস্কৃতি, ইতিহাস ইত্যাদি শিক্ষার্থীদের মন ও মননশীলতা উন্নয়নে ভূমিকা রাখে যা দেশের সার্বিক উন্নয়নের সহায়ক শক্তি অন্যদিকে ধর্মীয় শিক্ষা মূলত আখিরাতের কথাই বলে। ফলে এই দুই শিক্ষা ব্যবস্থার সংযুক্তিকরণে না হয় জ্ঞান বিজ্ঞানের প্রসার না হয় ধর্মীয় শিক্ষার সুফল। এবং দুই শিক্ষাব্যবস্থা সাংঘর্ষিকও বটে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় স্কুলগুলোতে সংগীত শিক্ষক না নেয়ার দাবি বা সিদ্ধান্ত এটাই প্রমাণ করে। ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থা আবার বিভিন্ন শিক্ষা কার্যক্রমে বিভক্ত। তাই দেশের সার্বিক উন্নয়নে আশা করি আপনার সরকার যথাযথ ভূমিকা রাখবে এবং সাধারণ শিক্ষা ও ধর্মীয় শিক্ষা আলাদা আলাদাভাবে বিকশিত হওয়ার সুযোগ করে দেবে।

শিক্ষক নিয়োগের ব্যাপারে সেটা বিদ্যালয়ই হোক বা বিশ্ববিদ্যালয়ই হোক রাজনৈতিক বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে মেধাসহ অন্যান্য যোগ্যতার প্রাধান্য দিতে হবে। এ ব্যাপারে পূর্ববর্তী সব সরকারই এই দোষে দুষ্ট। আমি এখানে একটা উদাহরণ দিতে চাই। সেটা হলো ২০০৪ কি ২০০৫ সালে আপনারা যখন ক্ষমতায় ছিলেন। আমার পরিচিত একজন যে কিনা এমআইটির গ্রাজুয়েট, ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটির পিএইচডি এবং ইম্পেরিয়াল কলেজের পোস্টডক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হতে চেয়েছিল। কিন্তু সে সময় তাকে না নিয়ে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক বিবেচনায় ছাত্রশিবির অথবা ছাত্রদলের একজনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এরকম চর্চা সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে।

আরেকটি দিক হল বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র ও শিক্ষকদের দলীয় রাজনীতি। এটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না যে শিক্ষাঙ্গনে দলীয় রাজনীতি দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কতটা পঙ্গু করে দিয়েছে। ছাত্র এবং শিক্ষক তাদের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক দর্শন ও পক্ষ থাকতেই পারে কিন্তু তা যেন প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শিক্ষাঙ্গনকে কলুষিত না করে। সম্প্রতি রাজনৈতিক বিবেচনায় শিক্ষকদের লাঞ্ছনা ও পদত্যাগে বাধ্য করা তারই প্রতিফলন। এ ব্যাপারে আপনার যথাযথ ভূমিকা এবং শিক্ষাঙ্গনে দলীয় রাজনীতি বন্ধে উদ্যোগ নিতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হবে মুক্তমন আর মুক্তচিন্তা বিকাশের অন্যতম চারণভূমি। এখানে কূপমণ্ডূকটা, সংকীর্ণ চিন্তা চেতনা আর ধর্মীয় অনুশাসনের বেড়াজালে ছাত্র-ছাত্রীদের বন্দী করে রাখা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূলনীতিরই পরিপন্থী। বিশ্ববিদ্যালয় হতে হবে জ্ঞান, বিজ্ঞান, শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চার জন্য উন্মুক্ত। এখান থেকেই তৈরি হবে ভবিষ্যতের বিজ্ঞানী, দার্শনিক আর কবি সাহিত্যিক। এখানে ধর্মীয় গোঁড়ামির কোন স্থান নেই।

আর একটা জিনিস বিশেষ নজর দিতে হবে, তাহলো কারিগরি শিক্ষা। কারিগরি শিক্ষা হতে হবে কর্মনির্ভর, সেটা দেশেই হোক আর বিদেশেই হোক। সঠিক কারিগরি শিক্ষা কার্যক্রম বিদেশে জনশক্তি রপ্তানির অন্যতম সুযোগ করে দিতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার মতো উন্নত দেশগুলোতে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত জনবলের (যেমন ইলেকট্রিশিয়ান, প্লামার, নার্স ইত্যাদি) খুবই অভাব। বাংলাদেশে কারিগরি শিক্ষা হতে পারে সম্পূর্ণ জনশক্তি রপ্তানি মুখী যদি সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া যায়। এক্ষেত্রে সরকারি বা বেসরকারিভাবে এসব দেশের সাথে সমঝোতার ভিত্তিতে যৌথ উদ্যোগে সে সব দেশের কারিগরি শিক্ষা কার্যক্রম চালু করতে উদ্যোগ নিতে হবে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশের বিদেশ মিশন গুলাও বিশেষ করে যারা উন্নত দেশগুলোতে আছেন তারা সে সব দেশের সরকারের সাথে যোগাযোগ করে বাংলাদেশে তাদের কারিগরি শিক্ষা কার্যক্রম প্রচলনে ভূমিকা রাখতে পারে।

৫) কৃষি ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নে নজর দিতে হবে: বাংলাদেশে কৃষি ও কৃষক আগে যেমন ছিল, এখনো জাতির মেরুদণ্ড। দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় কৃষক ও কৃষি বিজ্ঞানীর ভূমিকা অনস্বীকার্য। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত কৃষির উন্নতি উল্লেখযোগ্য। উদাহরণস্বরূপ স্বাধীনতার পর পর দেশে যখন সাড়ে সাত কোটি মানুষ ছিল তখন যে পরিমাণ খাদ্য আমদানি করতে হতো এখন ১৮ কোটি মানুষের জন্য তার চেয়ে খুব বেশি খাদ্য আমদানি করতে হয় না (১৯৭৩ সালে যেখানে প্রায় ৩ মিলিয়ন টন খাদ্য আমদানি করতে হয়েছিল ২০২৪ সালে তা ছিল সাড়ে চার মিলিয়ন টন এর মতো)। তবে এটা খুবই দুঃখজনক কৃষকের এই অবদান সত্ত্বেও তাদের জীবনের তেমন উন্নতি হয়নি। কৃষকরা এখনো কৃষি দ্রব্যের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত। এর একটা দিক হলো দেশে কৃষি বাজার ব্যবস্থায় কাঠামোগত দুর্বলতা, মধ্যস্বত্তভোগী বাজার ব্যবস্থা এই অবস্থাকে আরো দুর্বল করে দিয়েছে। যদিও ফসল কাটার মৌসুমে ফসলের ন্যায্য মূল্য পাওয়ার উদ্দেশ্যে সরকারের ফসল ক্রয়ের একটা প্রকল্প চালু আছে কিন্তু দুর্নীতির কারণে এই মহৎ উদ্দেশ্য সফল হচ্ছেনা। আশা করি আপনার সরকার এ ব্যাপারে যথাযথ ভূমিকা রাখবে এবং কৃষি দ্রব্যের ন্যায্য মূল্যের নিশ্চয়তা দেবে।

বাংলাদেশে এখনো প্রান্তিক কৃষি ব্যবস্থা। যার ফলে ফসল উৎপাদনে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কম। ফলশ্রুতিতে ফসলের ফলনও কম। এর থেকে উত্তরণের জন্য সরকারকে অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে, কৃষিতে সরকারের ভর্তুকি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে যাতে এই প্রান্তিক কৃষকরা আধুনিক যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদি ব্যবহার করতে পারে। আরো একটা জিনিস সরকারকে সুনির্দিষ্ট নীতিমালাসহ বাণিজ্যিক কৃষি ব্যবস্থায় উৎসাহিত করতে হবে। অবশ্য বাণিজ্যিক কৃষি ব্যবস্থা দেশের সার্বিক উন্নয়নের সাথে সম্পৃক্ত। দেশের যত অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে প্রান্তিক কৃষি ব্যবস্থা সহজাতভাবে তত বাণিজ্যিক কৃষিতে পরিণত হবে।

যদিও বাংলাদেশে কৃষি বিজ্ঞান ও গবেষণায় গত চার দশকে ঈর্ষান্বিত সাফল্য দেখিয়েছে তবু ও কৃষি গবেষণায় সরকারকে আরও মনোযোগী হতে হবে এবং যথাযথ অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে। অবশ্য সরকারকে কৃষি গবেষণার দিকনির্দেশনা (যেমন বাংলাদেশ ধান গবেষণায় হাইব্রিড ধানের গবেষণা জোরদার এবং কৃষিতে ড্রোনের ব্যবহার সম্পর্কিত গবেষণা সহ আধুনিক প্রযুক্তিগত গবেষণা) দিতে হবে। আসলে কৃষিতে ড্রোনের ব্যবহার গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিরাট ভূমিকা রাখতে পারে। এ ব্যাপারে সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও নীতিমালা থাকতে হবে। আমার জানামতে কৃষিতে ড্রোনের ব্যবহার চীনে সর্বাধিক। তাই সরকারকে চীনের সাথে সমঝোতার ভিত্তিতে গ্রামীণ যুব সমাজকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বাংলাদেশে কৃষিতে ড্রোনের ব্যবহারে উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে।

পরিশেষে আপনার সরকারের জন্য শুভকামনা রইল। আশা করব আপনারা সফল হবেন এবং বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নে যথার্থ ভূমিকা রাখবেন।

লেখক: অবসরপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক,
অস্ট্রেলিয়ান প্লেগ লোকাস্ট কমিশন।

Mokerram Chowdhury

৪ মাস আগে

Like all the suggestions- Mr Tarique , Please read all the points, think twice and discuss with your cabinet members - we feel that these are very positive thinking - you have to be very tough - By the by congratulations for your new position - We wish you all the best - I personally like your dad because of his DYNAMIC approaches - There will be a mistake while making decisions , as long as your decisions are 85% correct, we are a good PM - we are gonna learn from our mistake!! may Allah accept your all good deeds- please fear of God!

মন্তব্য করুন