মোহন রায়হানকে বাংলা একাডেমি পুরস্কার দেয়ার নিন্দা ও নাম প্রত্যাহারের দাবি

ফন্ট সাইজ:

এবারের বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারের তালিকায় ফ্যাসিবাদের দোসর, কবিতা ব্যবসায়ী এবং শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে 'কর্নেল তাহেরের খুনি' আখ্যাদানকারী বিতর্কিত মোহন রায়হানের নাম অন্তর্ভুক্ত করায় তীব্র প্রতিবাদ, নিন্দা জানিয়েছেন দেশের প্রগতিশীল ও জাতীয়তাবাদী ধারার কবি-সাহিত্যিকরা। অবিলম্বে তার নাম প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের বিপক্ষে অবস্থানকারী অসংখ্য দেশপ্রেমিক ও জ্যেষ্ঠ কবি-সাহিত্যিকদের বাদ দিয়ে বর্তমান সময়ে তাকে এই পদক দেয়ার মাধ্যমে ঠিক কী রাজনৈতিক অর্জন হবে, তা আমাদের জানা নেই। আমাদের সাহিত্য-সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এবং বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক রাখার চলমান প্রক্রিয়ার মধ্যে একটি চিহ্নিত 'আওয়ামী সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সিন্ডিকেট সুকৌশলে এই ধরনের বিতর্কিত পদক্ষেপ গ্রহণ করাচ্ছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো বিএনপি ও তারেক রহমানকে জনগণের কাছে দ্রুত অজনপ্রিয় করে তোলা এবং দলটির রাজনৈতিক পতন ত্বরান্বিত করা।

বিবৃতিতে উদ্বেগের সাথে জানানো হয় যে, গত ৫ই আগস্টের পর এই চিহ্নিত আওয়ামী সিন্ডিকেট ফ্যাসিবাদী 'জাতীয় কবিতা পরিষদ'-এর ব্যানারে নানা সুবিধা আদায়ের লক্ষ্যে পুনরায় মাঠে নেমেছে। মূলত একটি দেশবিরোধী চিহ্নিত সাংস্কৃতিক চক্র রাষ্ট্রীয় নানা সুযোগ-সুবিধা হাতিয়ে নেয়ার অবৈধ চেষ্টায় নানা ছলচাতুরির মাধ্যমে তাদের এই হীন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তারা দীর্ঘদিনের নির্যাতিত ও বঞ্চিত লেখকদের পাশ কাটিয়ে সুকৌশলে  তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করেছে। অথচ এদের বেশিরভাগই আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসর; যাদের মধ্যে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নিয়ে কটূক্তিকারী এবং ইতিহাস বিকৃতিকারী 'ইনডেমনিটি' নাটকের কুশীলব শ্যামল জাকারিয়াসহ অন্যান্যরা রয়েছেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এই ইতিহাস বিকৃতির বিষয়ে পতিত হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে বীর মুক্তিযোদ্ধা, ছড়াকার ও সাংবাদিক আবু সালেহ ইতিমধ্যে একটি মামলাও দায়ের করেছেন।

কবি ও সাহিত্যিকরা বলেন, গত ১৭ বছর ধরে প্রগতিশীল ও জাতীয়তাবাদী ধারার লেখকরা নানা চড়াই-উতরাই ও চরম প্রতিকূলতা পার করে এসেছেন। এমতাবস্থায় এহেন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হতাশাজনক কর্মকাণ্ড আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি না। তাকে এই স্বীকৃতি দেয়ার মাধ্যমে মূলধারা ও জাতীয়তাবাদী সাহিত্যিকদের কাছে একটি ভুল বার্তা যাবে এবং তাদের মধ্যে চরম হতাশা তৈরি হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে জাতীয়তাবাদী ও প্রগতিশীল ধারায় ভয়াবহ বুদ্ধিবৃত্তিক শূন্যতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিবৃতিতে অবিলম্বে এই পুরস্কারের তালিকা থেকে বিতর্কিত মোহন রায়হানের নাম প্রত্যাহার করার জোর দাবি জানানো হয়। একইসঙ্গে তার পরিবর্তে একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক ও মূলধারার যোগ্য কবিকে বাংলা একাডেমি পুরস্কার প্রদানের আহ্বান জানানো হয়।

ফ্যাসিবাদবিরোধী সাহিত্য আন্দোলনের অন্যতম কর্মী কবি শামসুদ্দিন হারুনের পাঠানো এই প্রতিবাদলিপিতে স্বাক্ষর করেছেন দেশের বিশিষ্ট ছড়াকার আবু সালেহ, কবি জাহাঙ্গীর ফিরোজ, কবি শাহীন রেজা, ছড়াকার আতিক হেলাল, কবি কামার ফরিদ, কবি আইয়ুব সৈয়দ, ছড়াকার সালাম ফারুক, ছড়াকার জুলফিকার শাহদাত, কবি শাস্তা মারিয়া, কবি সৈয়দ রনো, কবি শামীমা চৌধুরী, কবি মাহবুব হাসান, কবি শামসুদ্দিন হারুন, কবি ফেরদৌস সালাম, কথাসাহিত্যিক ইউসুফ শরীফ, কবি তরংগ আনোয়ার, কবি খান মোহাম্মদ খালেদ, কবি শহিদ আজাদ, কবি আবু জুবায়ের, কবি শাহীন রিজভী, ছড়াকার আমিনুল ইসলাম মামুন, কবি ঢালী মোহাম্মদ দেলোয়ার প্রমুখ।

Susanta bikash barua

৩ মাস আগে

এটা সাহিত্য পুরস্কার। কোন দলীয় পুরস্কার নয়। বিষয়টি সকলের চিন্তা করা উচিৎ।

গোলাম মোস্তফা

৩ মাস আগে

বিষয়টি সম্পূর্ণ সত্যি । মোহন রায়হান ভাই আওয়ামী চক্রের ও ফ্যাসিবাদের দোসর এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। তিনি বাংলা মোটর এ কি একটা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র খুলে বিশাল এক চক্রের মাধ্যমে উনার যত অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। সবই হচ্ছে ওনার কবি সাহিত্যিকের ছদ্মবেশে এ ব্যাপারে একটা ইনভেস্টিগেশন করার সময় এসে গেছে। তিনি আওমি আমলেও খুবই ভালো ছিল। আর এখন তো তিনি পুরস্কারই পেয়ে গেছেন জানিনা । জানিনা,এটা কেন হল?

মন্তব্য করুন