২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সারাদেশে প্রথম পুলিশি হামলার শিকার হওয়া কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অবদানকে স্বীকৃতি দিয়ে ১১ জুলাইকে ‘কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একইসঙ্গে দিনটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তও নেয়া হয়েছে। সোমবার অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১০তম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও সিন্ডিকেট সদস্য-সচিব মোহাম্মদ নূরুল করিম চৌধুরী।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ১১ জুলাইকে ‘কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। দিনটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যালেন্ডারেও অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ১১ জুলাই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সারাদেশে প্রথম পুলিশি হামলার শিকার হন। ওইদিন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর রাবার বুলেট ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করা হলে বহু শিক্ষার্থী আহত হন। শিক্ষার্থীদের সাহসী প্রতিরোধ ও আত্মত্যাগকে স্মরণীয় করে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, ১১ জুলাইকে ‘প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে ঘোষণা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে একটি আবেদনপত্রও দেয়া হয়। আবেদনপত্রে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ রুবেল উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে কুবির শিক্ষার্থীরা প্রথম সারি থেকে নেতৃত্ব দেন এবং ১১ জুলাইয়ের হামলার মধ্যেও প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
আবেদনে বলা হয়, ওই দিন শতাধিক শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক আহত হন এবং অনেকে গুরুতর ক্ষতির শিকার হন। তাই ১১ জুলাইকে প্রতিরোধের দিন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত করা হলে ঐতিহাসিক এ দিনটি সংরক্ষিত থাকবে এবং শিক্ষার্থীদের আত্মত্যাগ যথাযথ মর্যাদা পাবে।
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ১১ জুলাই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘স্মৃতির মিনার’ অনুষ্ঠানে তৎকালীন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া প্রথমবারের মতো ১১ জুলাইকে ‘প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। সর্বশেষ সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দিনটি এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেল।
