সংসদে আইনমন্ত্রী

এক টাকায় বিচার বিভাগ চললে দেশ পুলিশি রাষ্ট্র হয়ে যাবে

ফন্ট সাইজ:

এক টাকায় আইন ও বিচার বিভাগ চালানো সম্ভব নয়, এমনটা হলে দেশ একটি পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত হবে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। মঙ্গলবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম অধিবেশনের ১৯তম দিন আইন ও বিচার বিভাগের বাজেট বরাদ্দ এবং এর আনা ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। এসময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। 

অধিবেশনে আইনমন্ত্রী তার মন্ত্রণালয়ের জন্য ২ হাজার ১৮৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা মঞ্জুরি দাবি পেশ করেন। এরপর বিরোধীদলীয় কয়েকজন সংসদ সদস্য এই দাবি ছাঁটাই করে বরাদ্দ ১ টাকা করার প্রস্তাব দেন এবং বিচার বিভাগের নানা সংকট তুলে ধরেন।   

ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য আল ফারুক আব্দুল লতিফ বলেন, ‘নিম্ন আদালত পৃথক করা হলেও পদোন্নতি ও বদলিতে সরকারের নিয়ন্ত্রণ থাকায় তা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না।’ তিনি বিচারক সংকট, মামলাজট ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের সমালোচনা করেন। 
পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান বিচার বিভাগের জন্য এই বরাদ্দকে ‘অত্যন্ত অপ্রতুল’ উল্লেখ করে বলেন, ‘দেশে ২৫ লাখের বেশি মামলা পেন্ডিং। কিন্তু বিভাগীয় শহরে হাইকোর্ট স্থাপন বা পেপারলেস জুডিশিয়ারি করার সুস্পষ্ট পরিকল্পনার অভাব রয়েছে।’
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কেরামত আলী থানা ও পুলিশের কার্যক্রমে সাধারণ মানুষের হয়রানি এবং তদন্ত প্রক্রিয়ার দুর্বলতা তুলে ধরেন। 
অপরদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, ‘বিচার বিভাগের বরাদ্দ জিডিপির মাত্র শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ, যা বিটিভির বরাদ্দের চেয়েও কম।’ তিনি দেশে ৫০ লাখের বেশি মামলা জটের কথা উল্লেখ করে প্রবীণ ও শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের মানবেতর জীবনযাপনের চিত্র তুলে ধরেন। 
সংসদ সদস্যদের এসব প্রস্তাব ও সমালোচনার জবাবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘অন্য দাবির ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যরা নিজেরাই যুক্তি দিয়েছেন, তবে এই দাবির ক্ষেত্রে মনে হচ্ছে তারা পোশাক পরিহিত আইনজীবী হায়ার করে এনেছেন।’ 
ছাঁটাই প্রস্তাবগুলোর স্ববিরোধিতা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘বিরোধীদলীয় সদস্যদের মধ্য থেকে দুই ধরনের দাবি এসেছে। একজন বলছেন বরাদ্দ বেশি হয়ে গেছে তাই ১ টাকায় কমানো হোক, আরেকজন বলছেন বরাদ্দ অনেক কম হয়ে গেছে তাই ১ টাকায় কমানো হোক। ১ টাকা দিয়ে যদি আইন বিভাগ চালাতে বলা হয়, তাহলে তো বিচার বিভাগের দরকার নাই, এটা একটা পুলিশি রাষ্ট্র হয়ে যাক।’

সংসদ সদস্যদের দাবিগুলোকে ‘জনপ্রিয়’ কিন্তু কার্যপ্রণালী বিধির ১১৮ বিধির পরিপন্থি (মিসকনসিভড) বলে আখ্যায়িত করেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘১ টাকা দিয়ে কীভাবে গোটা বিচার বিভাগ চালানো সম্ভব, তার কোনও বিকল্প নীতি ছাঁটাই প্রস্তাবে দেয়া হয়নি।’
বর্তমান বাস্তবতায় এই বরাদ্দ বিচার বিভাগের জন্য অপ্রতুল হলেও আপাতত এর কোনও বিকল্প নেই জানিয়ে আইনমন্ত্রী ছাঁটাই প্রস্তাবগুলো নাকচ করে মূল বরাদ্দ অনুমোদনের জন্য সংসদের কাছে আহ্বান জানান।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন