আসন্ন ১২ই ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাইরে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের উপস্থিতি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। কুতুপালং, বালুখালী, পালংখালী, থাইংখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় ক্যাম্পসংলগ্ন ও ক্যাম্পের বাইরের এলাকায় নীরবে গড়ে ওঠা রোহিঙ্গা বসতিগুলো এখন আর প্রশাসন কিংবা স্থানীয়দের চোখ এড়ানোর মতো নয়। সরজমিন দেখা গেছে, কুতুপালং মরা আমগাছতলা সংলগ্ন আরকান সড়কের উভয় পাশে পাহাড়ের পাদদেশে ছোট ছোট ঝুপড়ি ঘর গড়ে উঠেছে। এসব অস্থায়ী বসতিতে রোহিঙ্গারা স্থানীয় কিছু মানুষের কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে বসবাস করছে। যেহেতু এসব বসতি আনুষ্ঠানিক ক্যাম্প এলাকার বাইরে, ফলে সেখানে অবস্থানরত রোহিঙ্গারা ক্যাম্প প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত নজরদারির বাইরে থেকেই চলাচল করতে পারছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও একাধিক সূত্র জানায়, ক্যাম্পের বাইরে অবস্থানকারী রোহিঙ্গাদের একটি অংশ স্থানীয় শ্রমবাজার, পরিবহন খাত এবং সামাজিক যোগাযোগ ব্যবস্থারের সঙ্গেও যুক্ত হয়ে পড়ছে। কুতুপালং-উখিয়া এলাকায় এই প্রবণতা নতুন না হলেও জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে বিষয়টি বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি রাষ্ট্রের সবচেয়ে সংবেদনশীল গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। সেখানে বিদেশি নাগরিক বিশেষ করে শরণার্থী জনগোষ্ঠীর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততার আশঙ্কা থাকলে তা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন তৈরি করে। বিভিন্ন গণমাধ্যম ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে অতীতেও অভিযোগ উঠেছে নির্বাচন কিংবা রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কোনো কোনো এলাকায় রোহিঙ্গাদের দিয়ে পোস্টার লাগানো, মিছিলের ভিড় বাড়ানো কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করা হয়েছে। ক্যাম্পের বাইরে অবস্থানের কারণে এসব কর্মকাণ্ড শনাক্ত ও প্রমাণ করা আরও জটিল হয়ে পড়ে। সরজমিন অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, পাহাড় কেটে, বনভূমি কিংবা সরকারি জমি দখল করে গড়ে ওঠা এসব ঝুপড়ি বসতিতে রোহিঙ্গাদের ভাড়া দেয়া হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে রোববার ভোর থেকে উখিয়ার বালুখালী এলাকায় যৌথ বাহিনী অভিযান শুরু করে। অভিযানে ক্যাম্পের বাইরে ভাড়া বাসা ও স্থানীয়দের দখল করা জমিতে বসবাসরত সহস্রাধিক রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অভিযান এখনো চলমান রয়েছে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রোহিঙ্গাদের ব্যবহারের শঙ্কা থাকায় ক্যাম্পের বাইরে ছড়িয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের নিয়ন্ত্রণে নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে। যৌথ বাহিনীর এই অভিযানকে নির্বাচনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এর আগে গত ২১শে জানুয়ারি সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের অপারেশন্স ও পরিকল্পনা পরিদপ্তর থেকে পাঠানো এক সরকারি চিঠিতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোকে কেন্দ্র করে নির্বাচনকালীন নাশকতার ঝুঁকি, অবৈধ অস্ত্রের উপস্থিতি এবং ভোটার তালিকায় অনিয়মের আশঙ্কার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নির্বাচন সামনে রেখে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা জোরদার, ভুয়া এনআইডি চক্র দমন এবং ক্যাম্পের বাইরে রোহিঙ্গাদের চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে জাতীয় নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
উখিয়া-টেকনাফে ক্যাম্পের বাইরের রোহিঙ্গা উপস্থিতি ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ
স্টাফ রিপোর্টার, উখিয়া থেকে
৯ ফেব্রুয়ারি (সোমবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
