মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে আলোচনা আবার শুরু করতে আগ্রহী। তবে ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে শান্তিচুক্তির সমঝোতা স্মারকের শর্ত লঙ্ঘন করায় তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে ইচ্ছুক নয়। এতে কাতারের রাজধানী দোহায় মঙ্গলবার নির্ধারিত বৈঠক নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এক ধরনের ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প ট্রুথ স্যোশালে ঘোষণা করেন, মঙ্গলবার দোহায় দুই দেশের মধ্যে একটি বৈঠক হবে। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, এই বৈঠকটি হয়তো গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। আবার নাও হতে পারে।
তবে আমরা সামরিকভাবে জয়ী হচ্ছি। আমরা ইরানকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করতে চাই এবং তারা এতে সম্মত হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতাকারী স্টিভ উইটকফ এই আলোচনার জন্য ইতিমধ্যে দোহা রওনা হয়েছেন বা হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের বৈঠকের পরিকল্পনা সরাসরি অস্বীকার করা হয়েছে। ইরানি প্রতিনিধি দলের মুখপাত্র এবং সে দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, আগামী দিনগুলোতে মার্কিন পক্ষের সঙ্গে কোনো স্তরেই তাদের আলোচনার বৈঠক হবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের কাতার সফরের সঙ্গে ইরানি প্রতিনিধি দলের সফরের কোনো সম্পর্ক নেই। বাঘাই স্পষ্ট করেন যে, তেহরানের বর্তমান অগ্রাধিকার হলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সই হওয়া সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় কাতার ও অন্যান্য জায়গায় আটকে থাকা ইরানের ১২০০ কোটি ডলারের বেশি তহবিল দুটি কিস্তিতে অবমুক্ত করার বিষয়ে কাজ চলছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও সোমবার জানিয়েছেন যে, কাতারে আটকে থাকা প্রথম কিস্তির ৬০০ কোটি ডলার ফেরত দেয়া হবে। সম্প্রতি সমঝোতা স্মারক সই হওয়া সত্ত্বেও দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা কমেনি। গত কয়েক দিনে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় বেশ কয়েকটি জাহাজে ইরান হামলা চালায়। এর জবাবে মার্কিন বাহিনী ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালিয়েছে। ইরান জোর দিয়ে বলেছে, হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী সমস্ত জাহাজকে অবশ্যই তাদের ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড করপসের (আইআরজিসি) সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। ইসমাইল বাঘাই আরও জানান, পরমাণু কর্মসূচি বা অন্য কোনো বিষয়ে চূড়ান্ত চুক্তির জন্য এখনো মূল আলোচনা শুরুই হয়নি।
এমওইউ-এর ১৩ নম্বর ধারা অনুযায়ী, চূড়ান্ত চুক্তির আলোচনা শুরু করার আগে আগের সব শর্ত, যেমন সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা, ইরানি বন্দর থেকে মার্কিন নৌ অবরোধ ও সেনা প্রত্যাহার, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা এবং ইরানের তেল রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার মতো বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। মধ্যস্থতাকারীরা দুই পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আনার চেষ্টা করলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে এটিই প্রতিয়মান হচ্ছে যে, এই শান্তি প্রক্রিয়া কতটা জটিল।
