কন্নড় চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী কৃষি থাপান্ডার বাসায় ব্যবসায়ী বৈশাখের আত্মহত্যা। সেখান থেকে লাশ উদ্ধার। এ নিয়ে চারদিকে সরগরম। ব্যাঙ্গালোরের রাজরাজেশ্বরী নগর এলাকায় অভিনেত্রীর নিজ বাসায় ব্যবসায়ী বৈশাখ আত্মহত্যা করেন। এরপর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়েছেন অভিনেত্রী কৃষি থাপান্ডা। ইনস্টাগ্রামে দেয়া এক আবেগঘন বিবৃতিতে কৃষি বলেন, জীবনে কখনো ভাবেননি এত বেদনাদায়ক একটি বিষয় নিয়ে তাকে প্রকাশ্যে কথা বলতে হবে। তিনি লিখেছেন, আমি কখনো কল্পনাও করিনি যে আমাকে এমন কিছু লিখতে হবে। এটি লেখার বা সবার সামনে প্রকাশ করার মতো মানসিক শক্তি কিংবা শক্তি- কোনোটাই এখন আমার নেই।
অভিনেত্রী জানান, শুরুতে তিনি নীরব থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু ঘটনাটি নিয়ে ক্রমাগত জল্পনা-কল্পনা এবং তাকে, তার বন্ধুদের ও উভয় পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে বারবার প্রশ্ন ছোড়া হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত তিনি মনে করেছেন, কথা বলা ছাড়া তার আর কোনো উপায় নেই। তিনি লিখেছেন, যা কিছু ঘটেছে, তাতে আমিও এমন একজন মানুষকে হারিয়েছি, যিনি আমার হৃদয়ের খুব কাছের ছিলেন। তিনি সবসময় আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন, আমাকে সুরক্ষা দিয়েছেন এবং নিঃস্বার্থভাবে আমার যত্ন নিয়েছেন। তাকে হারানোর যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। আমি জানি না, এই ক্ষতি কোনো দিন সত্যিই মেনে নিতে পারব কি না।
দীর্ঘদিন ধরে নিজের ভেতরে বহন করা মানসিক যন্ত্রণার কথাও তুলে ধরেন কৃষি। তিনি বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে কষ্ট বয়ে বেড়াচ্ছি। আর এখন আমাকে আরেকটি অকল্পনীয় শোকের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। মনে হচ্ছে, পথ চলতে চলতে আমি যেন নিজেরই কিছু অংশ হারিয়ে ফেলেছি।
ঘটনাটি ঘিরে ছড়িয়ে পড়া গুজব ও নানা ধরনের অনুমান তার পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে বলেও জানান তিনি। কৃষি লিখেছেন, সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো, আমি শোক প্রকাশ করার মতো সময় বা সুযোগও পাইনি। যখন তার পরিবার, বন্ধু এবং প্রিয়জনরা এই অকল্পনীয় ক্ষতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করছেন, তখন একের পর এক জল্পনা-কল্পনা, ভিত্তিহীন ধারণা এবং একজন মানুষের মৃত্যুকে গল্পে পরিণত করার চেষ্টা চলছে।
এই কঠিন সময়ে পাশে থাকার জন্য বন্ধু এবং শুভাকাক্সক্ষীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। বিবৃতির শেষ অংশে সবাইকে মানবিক হওয়ার আহ্বান জানান কৃষি। তিনি লিখেছেন, একটি পরিবার তাদের সন্তানকে হারিয়েছে। কিছু বন্ধু এমন একজন মানুষকে হারিয়েছে, যাকে তারা ভাষায় প্রকাশের অতীত ভালোবাসত। অনেক মানুষ প্রতিটি মুহূর্তে এই শোকের সঙ্গে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছে। যদি আপনি কাউকে হাসি উপহার দিতে না পারেন, অন্তত তার চোখের জলের কারণ হবেন না। যদি কাউকে বেঁচে থাকার প্রেরণা দিতে না পারেন, অন্তত তার আশা হারানোর কারণ হবেন না।
শেষে দুই হাত জোড় করে কৃষি সবার প্রতি অনুরোধ জানান, বৈশাখকে শান্তিতে বিশ্রাম নিতে দেয়া হোক এবং তার পরিবার, বন্ধু ও প্রিয়জনদের যেন মর্যাদা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার সঙ্গে শোক পালন করার সুযোগ দেয়া হয়। তিনি তার ইনস্টাগ্রাম পোস্টের মন্তব্যের সুযোগও বন্ধ করে দিয়েছেন। বিবৃতির শেষ লাইনে তিনি লিখেছেন, আমি আপনাদের কাছে অনুরোধ করছি, দয়া করে এগুলো বন্ধ করুন।
