নতুন মালিকের কাছে নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর

পাকিস্তান এয়ারলাইন্স বেসরকারিকরণ

নতুন মালিকের কাছে নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর

ফন্ট সাইজ:

পাকিস্তানের প্রাইভেটাইজেশন কমিশন (পিসি) সোমবার পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স করপোরেশন লিমিটেড (পিআইএসিএল)-এর বেসরকারিকরণের প্রথম ধাপের আর্থিক চুক্তি (ফার্স্ট ক্লোজিং) সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। শেয়ার পারচেজ অ্যান্ড সাবস্ক্রিপশন অ্যাগ্রিমেন্ট (এসপিএসএ)-এ উল্লেখিত সব পূর্বশর্ত পূরণ হওয়ার পর আরিফ হাবিব করপোরেশন লিমিটেডের নেতৃত্বাধীন বিনিয়োগকারী কনসোর্টিয়ামের কাছে জাতীয় বিমান সংস্থাটির ব্যবস্থাপনার নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর করা হয়েছে। কমিশনের প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পিআইএসিএলের বেসরকারিকরণ লেনদেনের প্রথম ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হওয়া সরকারের অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এ খবর দিয়েছে অনলাইন জিও নিউজ।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, এটি প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের ঘোষিত অর্থনৈতিক ভিশনের প্রতিফলন। তিনি টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে বেসরকারি খাতের বৃহত্তর ভূমিকার পক্ষে ধারাবাহিকভাবে সমর্থন জানিয়ে আসছেন। একই সঙ্গে এটি একটি স্বচ্ছ, প্রতিযোগিতামূলক এবং বিনিয়োগবান্ধব বেসরকারিকরণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকারের অঙ্গীকারও তুলে ধরে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কনসোর্টিয়াম মোট ১৮০ বিলিয়ন পাকিস্তানি রুপি বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেয়। এর মধ্যে ৫৫ বিলিয়ন রুপি সরকারকে পিআইএসিএল বিক্রির মূল্য হিসেবে দেয়া হবে এবং ১২৫ বিলিয়ন রুপি নতুন মূলধন হিসেবে পিআইএসিএলে বিনিয়োগ করা হবে। এই অর্থ জাতীয় বিমান সংস্থাটির দীর্ঘমেয়াদি রূপান্তর এবং একসময়কার গৌরব পুনরুদ্ধারে ব্যয় করা হবে। এ অনুযায়ী, সব পূর্বশর্ত পূরণ হওয়ার পর প্রথম ধাপের আর্থিক চুক্তির আওতায় কনসোর্টিয়াম সোমবার সরকারকে বিক্রয়মূল্যের অংশ হিসেবে ১০ বিলিয়ন রুপি পরিশোধ করেছে। পাশাপাশি পিআইএসিএলের আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে ৮০ বিলিয়ন রুপি নতুন মূলধন হিসেবে বিনিয়োগ করেছে। এই অর্থ বিমান বহর সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণ, নতুন রুট চালু, পরিচালন দক্ষতা ও গ্রাহকসেবা উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদে বিমান সংস্থাটির প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে ব্যবহার করা হবে।

এসপিএসএ-এর শর্ত অনুযায়ী, প্রথম ধাপের ১২ মাসের মধ্যে দ্বিতীয় ধাপের আর্থিক চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। সে সময় কনসোর্টিয়াম আরও ৪৫ বিলিয়ন রুপি পিআইএসিএলে বিনিয়োগ করবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, এসপিএসএ-এর আওতায় থাকা কল অপশন ব্যবহার করে কনসোর্টিয়াম পিআইএসিএলের অবশিষ্ট ২৫ শতাংশ শেয়ারও কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এ জন্য তারা পাকিস্তান সরকারকে অতিরিক্ত ৪৫ বিলিয়ন রুপি পরিশোধ করবে।

প্রাইভেটাইজেশন কমিশন উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার, অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব এবং ক্যাবিনেট কমিটি অন প্রাইভেটাইজেশন-এর সহায়তা ও দিকনির্দেশনার উচ্চ প্রশংসা করেছে। ২০২৬ সালের ২৯ জানুয়ারি এসপিএসএ স্বাক্ষরের পর থেকে প্রাইভেটাইজেশন কমিশন এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো চুক্তির আওতায় থাকা জটিল সব পূর্বশর্ত সফলভাবে পূরণ করেছে। এসবের মধ্যে ছিল দেশীয় ও আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন, বিমান ইজারাদাতা প্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক অংশীদারদের সম্মতি, বেসামরিক বিমান চলাচল নীতির সংস্কার, করপোরেট অনুমোদন, পুরোনো দায়-দেনা সংশ্লিষ্ট কর কাঠামোর পুনর্বিন্যাস, বিমান অর্থায়নের ব্যবস্থা, সুশাসনসংক্রান্ত পরিবর্তন, করসংক্রান্ত বিষয়, বিমানবন্দর অবকাঠামো-সংক্রান্ত ব্যবস্থা এবং বিনিয়োগকারী কনসোর্টিয়ামের পক্ষ থেকে লেনদেনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অত্যন্ত সীমিত সময়ের মধ্যে এসব পূর্বশর্ত পূরণ করা হলেও পুরো সময়জুড়ে বিমান সংস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পর্ক ও বিমান চলাচলের সনদ অক্ষুণ্ন রাখা হয়েছে, কর্মীদের স্বার্থ রক্ষা করা হয়েছে এবং যাত্রীসেবা নিরবচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে। এ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারিকরণবিষয়ক উপদেষ্টা মুহাম্মদ আলী বলেছেন, এই লেনদেন প্রমাণ করেছে যে পাকিস্তান একটি স্বচ্ছ, ন্যায্য, প্রতিযোগিতামূলক এবং পেশাদারভাবে পরিচালিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জটিল কৌশলগত লেনদেন সফলভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম।

তিনি বলেন, এটি অর্থনৈতিক সংস্কার, রাজস্ব শৃঙ্খলা এবং বেসরকারি খাতের অধিকতর অংশগ্রহণের প্রতি সরকারের অঙ্গীকারকে আরও দৃঢ় করেছে। একই সঙ্গে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থাও বৃদ্ধি করবে। তিনি আরও বলেন, সরকার কর্মচারি, যাত্রী এবং ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি নির্বিঘ্ন মালিকানা হস্তান্তর এবং বিমান সংস্থার নিরবচ্ছিন্ন পরিচালনা নিশ্চিত করা হবে। তার ভাষ্য, প্রযোজ্য সব বেসামরিক বিমান চলাচল আইন এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকি আগের মতোই বহাল থাকবে। প্রাইভেটাইজেশন কমিশন আরও জানিয়েছে, ফেডারেল মন্ত্রিসভা, কমিশনের পরিচালনা পর্ষদ, সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়- বিশেষ করে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়, এছাড়া অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ এবং ইওয়াই কনসাল্টিং এলএলসি দুবাই-এর নেতৃত্বাধীন আর্থিক উপদেষ্টা কনসোর্টিয়ামের অবদান এই প্রথম ধাপের সফল সমাপ্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ পিআইএসিএলের প্রথম আর্থিক চুক্তি সফলভাবে সম্পন্ন হওয়াকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং পাকিস্তানের বেসরকারিকরণের ইতিহাসে এই ঐতিহাসিক মাইলফলকের জন্য দেশবাসীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, পিআইএর বেসরকারিকরণ লেনদেনের প্রথম ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হওয়া আমার সরকার এবং পাকিস্তানের জনগণের জন্য সত্যিই সন্তোষজনক একটি মুহূর্ত।

প্রধানমন্ত্রী এ সাফল্যের জন্য উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার-এর ভূমিকা ও কঠোর পরিশ্রমের প্রশংসা করেছেন। পাশাপাশি ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং তার নিবেদিতপ্রাণ দলকে এই যৌথ প্রচেষ্টার জন্য শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। তিনি আরও প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ, অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব, বেসরকারিকরণবিষয়ক উপদেষ্টা মুহাম্মদ আলী, ক্যাবিনেট কমিটি অন প্রাইভেটাইজেশন এবং প্রাইভেটাইজেশন কমিশন-এর সদস্যদের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই এই লেনদেন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন