বিশ্বকাপে দর্শকসংখ্যার নতুন রেকর্ড

বিশ্বকাপে দর্শকসংখ্যার নতুন রেকর্ড

ফন্ট সাইজ:

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম পূর্ণ সপ্তাহ শেষ হওয়ার পর সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান ফক্স জানিয়েছে, তারা ইংরেজি ভাষার সম্প্রচারে একের পর এক দর্শকসংখ্যার নতুন রেকর্ড গড়ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের কল্যাণে গত শুক্রবার ইংরেজি ভাষায় সম্প্রচারিত ফিফা পুরুষ বিশ্বকাপের ইতিহাসে একদিনের হিসেবে সবচেয়ে বেশি দর্শকে রেকর্ড হয়েছে। চূড়ান্ত হিসাবে, যুক্তরাষ্ট্র-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচটি গড়ে ১ কোটি ৬২ লাখ ২০ হাজার দর্শক দেখেছেন। প্রাথমিক হিসাবে এই সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৪৭ লাখ ৮০ হাজার। দর্শকসংখ্যার বিচারে এটি বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বোধনী ম্যাচ প্যারাগুয়ের বিপক্ষে খেলার পর দ্বিতীয় সর্বাধিক দেখা ম্যাচ।

এ খবর দিয়েছে অনলাইন ইয়াহু স্পোর্টস। ফক্সে সম্প্রচারিত স্কটল্যান্ড-মরক্কো ম্যাচ গড়ে ৯১ লাখ ৭০ হাজার দর্শক দেখেছেন। এটি চলতি বিশ্বকাপে ইংরেজি ভাষায় সম্প্রচারিত ম্যাচগুলোর মধ্যে চতুর্থ সর্বাধিক দর্শকপ্রিয় ম্যাচ। একই দিনের পরবর্তী ম্যাচ ব্রাজিল-হাইতি গড়ে ৮৭ লাখ ৪০ হাজার দর্শক দেখেছেন। রোববার এফএস-১ চ্যানেলে সম্প্রচারিত উরুগুয়ে-কেপ ভার্দে ম্যাচ গড়ে ৬১ লাখ ৮০ হাজার দর্শক দেখেছেন। এর ফলে এটি এফএস-১-এর ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি দর্শক দেখা ফুটবল ম্যাচে পরিণত হয়েছে। একই দিন পরে সম্প্রচারিত নিউজিল্যান্ড-মিশর ম্যাচ গড়ে ৫৮ লাখ ৮০ হাজার দর্শক দেখেছে। এটি এফএস-১-এর ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বাধিক দর্শকপ্রিয় ফুটবল সম্প্রচার। ফক্সের ইনসাইটস অ্যান্ড অ্যানালাইটিক্স বিভাগের প্রেসিডেন্ট মাইকেল মুলভিহিল জানিয়েছেন, গত সপ্তাহটি এফএস-১-এর ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি দর্শক পাওয়া সপ্তাহ ছিল।

তার মতে, পুরো সপ্তাহ জুড়ে চ্যানেলটির দৈনিক গড় দর্শকসংখ্যা ছিল ৮ লাখ ৮৫ হাজার। এফএস-১-এর বাইরে শনিবার ফক্সে সম্প্রচারিত জার্মানি-আইভরি কোস্ট ম্যাচটি সপ্তাহান্তের সবচেয়ে বেশি দেখা ম্যাচ ছিল। ম্যাচটি গড়ে ৭৭ লাখ ৯০ হাজার দর্শক উপভোগ করেছেন। বিশ্লেষকদের ধারণা, শুক্রবার জুনটিন্থ সরকারি ছুটির কারণে ঘরের বাইরে বিভিন্ন স্থানে একসঙ্গে খেলা দেখার প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় দর্শকসংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

স্পোর্টিকো’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘরের বাইরে একসঙ্গে খেলা দেখার প্রবণতার কারণে ফক্সের দর্শকসংখ্যা ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। ঐতিহাসিকভাবে থ্যাঙ্কসগিভিং এবং ইস্টারের মতো ছুটির দিনগুলোতে ঘরের বাইরে বসে খেলা দেখার হার সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পায়। এ ছাড়া ২০২৬ বিশ্বকাপই প্রথম আসর, যেখানে নিলসেন তাদের সম্প্রসারিত আউট-অব-হোম ভিউয়িং মেট্রিকস ব্যবহার করে টেলিভিশন দর্শকসংখ্যা পরিমাপ করছে। দর্শকসংখ্যা বৃদ্ধির আরেকটি কারণ হতে পারে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে নিলসেনের বিগ ডাটা+ প্যানেল পদ্ধতিতে রূপান্তর। এর ফলে স্মার্ট টিভির মাধ্যমে টেলিভিশন দর্শকসংখ্যা পরিমাপের পরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে।

তুলনামূলকভাবে ২০২২ বিশ্বকাপের চেয়ে এবারের ফলাফল অনেক ভালো। ২০২২ সালে ইংরেজি ভাষায় সম্প্রচারিত যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের তিনটি গ্রুপ পর্বের ম্যাচে গড় দর্শকসংখ্যা ছিল ১ কোটি ১৭ লাখ ১০ হাজার। সেই আসরে ইংরেজি ভাষায় যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচ ছাড়া সবচেয়ে বেশি দেখা ম্যাচ ছিল ব্রাজিল-সার্বিয়া। থ্যাঙ্কসগিভিং দিবসে অনুষ্ঠিত ওই ম্যাচটি গড়ে ৬১ লাখ ৯০ হাজার দর্শক দেখেছিলেন। এদিকে স্প্যানিশ ভাষার সম্প্রচারকারী টেলেমুন্দো সম্প্রতি তাদের দর্শকসংখ্যার হিসাব সংশোধন করায় বিশ্বকাপের দর্শকসংখ্যা কিছুটা কমে গেছে। তবে ফক্সের ইংরেজি ভাষার দর্শকসংখ্যার ওপর এই পরিবর্তনের কোনো প্রভাব পড়েনি। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই গ্রুপ পর্বের একটি ম্যাচ বাকি থাকতেই নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে। ফলে সামনের ম্যাচগুলোতে ফক্সের ইংরেজি ভাষার সম্প্রচারে দর্শকসংখ্যা আরও নতুন রেকর্ড গড়তে পারে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন