কানাইঘাটে সুরমায় ড্রেজার দিয়ে বালু লুট, এলাকায় ক্ষোভ

কানাইঘাটে সুরমায় ড্রেজার দিয়ে বালু লুট, এলাকায় ক্ষোভ

ফন্ট সাইজ:

সিলেটের কানাইঘাটের সুরমা নদীতে ড্রেজার দিয়ে বালু লুট করা হচ্ছে। এ নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে। বাড়িঘর হুমকির মুখে পড়ায় বিষয়টি নিয়ে এরই মধ্যে কানাইঘাট প্রশাসনে অভিযোগ জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। তবে প্রশাসন বলছে, কানাইঘাট অংশে বালু উত্তোলন করা হলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে উপজেলার দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের কায়স্থগ্রাম এখন অস্তিত্ব সংকটে। সুরমা নদীর তীরবর্তী জনপদে প্রভাবশালী একটি বালু সিন্ডিকেটের অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে বসতভিটা, ফসলি জমি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেনÑ চন্দন বাবু নামে এ ব্যক্তির নামে ১ কোটি ৬৪ লাখ টাকা দিয়ে নদীর দক্ষিণ অংশে জকিগঞ্জের নোয়াগ্রাম এলাকার একটি বালুমহাল লিজ নেন। কিন্তু লিজকৃত এলাকায় বালু না থাকায় তারা এখন কানাইঘাটের কায়স্থগ্রাম বালুচর থেকে বালু লুট করছে। এতে করে ওই এলাকার কয়েকটি বসতি হুমকির মুখে পড়েছে। তারা বলেনÑ গত বছর মিজানুর রহমান ডিপজল নামের এক ব্যক্তি ওই মহাল ইজারা নিয়েছিলেন। এ নিয়ে গত বছরও এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। কানাইঘাটের অংশে কোনো সরকারি বালুমহাল অনুমোদিত নেই। জকিগঞ্জ ও কানাইঘাটের সীমানা নির্ধারণের বিতর্কিত বিষয়টি ব্যবহার করে তারা আইনি জটিলতার নাটক সাজিয়ে অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসন বা টাস্কফোর্সের অভিযান মোকাবিলায় তারা কোম্পানির নামে ২০ জনের প্রশিক্ষিত ‘লাঠিয়াল বাহিনী’ প্রস্তুত রেখেছে। কায়স্থগ্রাম এলাকার কৃষকরা জানানÑ বালু উত্তোলনের ফলে কৃষিজমি নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে। গ্রামের প্রধান রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে অচিরেই কায়স্থগ্রাম মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে। এভাবে ধ্বংসযজ্ঞ চললেও স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ কেন কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে নাÑ তা নিয়ে জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত স্থানীয় বাণীগ্রামের ওয়ার্ড মেম্বার আজমল হোসেন। তিনি গতকাল বিকালে জানিয়েছেনÑ বালু লুটপাটের বিষয়টি তার কাছেও স্থানীয়রা জানিয়েছেন। যেহেতু কানাইঘাট অংশে লিজ নেই সুতরাং কায়স্থগ্রাম চরে বালু লুটপাট বৈধ নয়। বিষয়টি প্রশাসন দেখছে বলে জানান তিনি। কানাইঘাটের সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাপস চক্রবর্তী তুষার মানবজমিনকে জানিয়েছেন- অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি সোমবার দুপুরে তহসিলদারকে ওই এলাকায় পাঠিয়েছেন। কানাইঘাট অংশে কোনো লিজ নেই। যদি ওই এলাকা থেকে বালু উত্তোলন করা হয় তাহলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ইজারাদার অংশের পার্টনার মিজানুর রহমান ডিপজল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেনÑ লিজকৃত জায়গা থেকে বালু উত্তোলন করা হয়েছে। এর বাইরে তাদের কোনো কার্যক্রম নেই। বিষয়টি নিয়ে কিছু মানুষ অভিযোগ দিয়ে ইজারাদার অংশকে হয়রানি করছে বলে জানান তিনি।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন