শিশুশ্রম ও পথশিশুদের ওপর সহিংসতা প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং তাদের অধিকার বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে রাজধানীর সদরঘাট এলাকায় লোকসঙ্গীত ও স্বাস্থ্যক্যাম্প আয়োজন করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা লোকাল এডুকেশন অ্যান্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (লিডো)।
রোববার (২৯ জুন) বাহাদুর শাহ পার্কে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শতাধিক সুবিধাবঞ্চিত শিশু, কিশোর-কিশোরী, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা অংশ নেন।
কর্মসূচিতে শিশু অধিকারবিষয়ক সচেতনতামূলক আলোচনা, শিশুদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে লোকসঙ্গীত পরিবেশনা এবং বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হয়। স্বাস্থ্যক্যাম্পে অংশগ্রহণকারী শিশুদের সাধারণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয় এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যপরামর্শ দেওয়া হয়।
লোকসঙ্গীতের সুর ও বাণীর মাধ্যমে শিশু অধিকার রক্ষা, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক স্বাস্থ্যবিধি, শিশুশ্রমের ক্ষতিকর প্রভাব এবং পথ-সংযুক্ত শিশুদের ওপর সব ধরনের সহিংসতা ও নির্যাতন প্রতিরোধের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
অনলাইনে যুক্ত হয়ে লিডোর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ফরহাদ হোসেন বলেন, “বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ন্যাশনাল চাইল্ড লেবার সার্ভে ২০২২ অনুযায়ী, দেশে ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী প্রায় ৩৫ লাখ ৩৭ হাজার শিশু কোনো না কোনো ধরনের কাজে নিয়োজিত রয়েছে। এই বাস্তবতা আমাদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”
তিনি বলেন, “শিশুশ্রম শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নিরাপদ শৈশবকে বাধাগ্রস্ত করে। তাই শিশুশ্রম এবং শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে পরিবার, সমাজ, সরকার ও বেসরকারি সংস্থাগুলোকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত—প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় শৈশব নিশ্চিত করা।”
অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সংবাদকর্মী এবং বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অংশগ্রহণকারী শিশু ও স্থানীয় বাসিন্দারা এ ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচিকে সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয় বলে অভিহিত করেন।
আয়োজকদের মতে, সংস্কৃতি ও মৌলিক স্বাস্থ্যসেবার সমন্বয়ে পরিচালিত এ ধরনের উদ্যোগ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক সম্পৃক্ততা জোরদার এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
লিডো জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও পথ-সংযুক্ত শিশুদের কল্যাণে এবং শিশুশ্রম ও সহিংসতামুক্ত সমাজ গঠনে এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
