ইরানের কপাল পুড়িয়ে আলজেরিয়া-অস্ট্রিয়ার ‘সাজানো’ ড্র?

বিবিসির প্রতিবেদন

ইরানের কপাল পুড়িয়ে আলজেরিয়া-অস্ট্রিয়ার ‘সাজানো’ ড্র?

ফন্ট সাইজ:

ইতিহাসের চাকা কি তবে ঘুরেই ফিরে একই বিন্দুতে এসে মেলায়? ফুটবল ভক্তদের মনে এই চিরন্তন প্রশ্নটি আবার উসকে দিল ক্যানসাস সিটির রোববারের সকাল। ১৯৮২ সালের স্পেনের সেই কুখ্যাত ‘ডিসগ্রেইস অব গিজোঁ’ কী ৪৪ বছর পর নতুন এক অবয়বে ফিরে এলো উত্তর আমেরিকার মঞ্চে? সেবার পশ্চিম জার্মানি ও অস্ট্রিয়ার সেই বহুল চর্চিত ‘সমঝোতার’ বলি হয় আলজেরিয়া। আর এবার ইতিহাসের এক অদ্ভুত খেয়ালে, সেই আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়াই মুখোমুখি দাঁড়ায় একই সমীকরণে। হিসাব ছিল সহজ-ম্যাচ ড্র হলেই কপাল পুড়বে ইরানের, হাসিমুখে নকআউটের টিকিট কাটবে এই দুদল।

মাঠের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত ৩-৩ গোলের এক অবিশ্বাস্য ড্র-ই হয়েছে ম্যাচের পরিণতি। কিন্তু এই রোমাঞ্চকর ফলের আড়ালে ফুটবল বিশ্ব এখন দুই ভাগে বিভক্ত- এটি কি মাঠের চরম উত্তেজনা, নাকি নিখুঁত কোনো চিত্রনাট্য? আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি স্পোর্টের এক চুলচেরা বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এই সন্দেহের নানা খতিয়ান।

কাগজে-কলমে ম্যাচটি ছিল চরম নাটকীয়তায় ঠাসা। ২৮ মিনিটে মার্কো আরনাউটোভিচের গোলে অস্ট্রিয়া এগিয়ে যায়। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে আলজেরিয়াকে সমতায় ফেরান রফিক বেলগালি। বিরতির পর মার্সেল সাবিতজার আবারও অস্ট্রিয়াকে লিড এনে দিলে, পাঁচ মিনিট পরেই রিয়াদ মাহরেজের ম্যাজিকে সমতায় ফেরে আলজেরিয়া।

আসল নাটকের শুরু ম্যাচের ইনজুরি টাইমে। ৯৩ মিনিটে মাহরেজের দুর্দান্ত গোল আলজেরিয়াকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেয়। তখন ইরানি সমর্থকদের মনে আশার আলো জ্বলছিল। কারণ আলজেরিয়া জিতলে বাদ যেত অস্ট্রিয়া। কিন্তু সবাইকে স্তব্ধ করে দিয়ে ঠিক ৯৬ মিনিটে সাসা কালাচডিচের হেড অস্ট্রিয়াকে এনে দেয় কাঙ্ক্ষিত ৩-৩ গোলের সমতা। ফলে দুদলই একযোগে টিকিট পায় শেষ ৩২-এর।

তবে এই রূপকথার মতো সমাপ্তিকেই এখন সন্দেহের চোখে দেখছেন ফুটবলবোদ্ধা ও ইরানি সমর্থকরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, ম্যাচ ২-২ সমতায় থাকার সময় দুদলের খেলোয়াড়দের মধ্যেই এক অদ্ভুত গাছাড়া ভাব ছিল। যেন কেউই আর গোল করতে চাচ্ছিলেন না! সবচেয়ে বড় রহস্য তৈরি হয়েছে মাহরেজের দ্বিতীয় গোলের পর দুই বেঞ্চের মধ্যে ঘটে যাওয়া এক মৃদু হট্টগোল নিয়ে। অনেকের ধারণা, পরিকল্পনার বাইরে গিয়ে আলজেরিয়া গোল করে বসায় ডাগআউটে এই ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এরপরই ক্যামেরায় ধরা পড়ে আলজেরিয়ার আইসা মান্দির মুখ ঢেকে মাহরেজকে কিছু একটা বলার দৃশ্য। নেটিজেনদের দাবি, মাহরেজকে মনে করিয়ে দেয়া হয়েছিল-ম্যাচ জিতলে শেষ ৩২-এ তাদের খেলতে হবে শক্তিশালী স্পেনের বিরুদ্ধে। আর ড্র করলে প্রতিপক্ষ হবে তুলনামূলক সহজ দল সুইজারল্যান্ড। আর এর ঠিক পরেই অস্ট্রিয়া গোলটি পেয়ে যায়।

ম্যাচ শেষে অবশ্য এই সব ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’কে স্রেফ পাগলামি বলে উড়িয়ে দেন অস্ট্রিয়ার মাস্টারমাইন্ড রালফ রাংনিক। নিজের ৪০ বছরের দীর্ঘ কোচিং ক্যারিয়ারের দোহাই দিয়ে তিনি বলেন, ‘আলফ্রেড হিচককও যদি এমন কোনো থ্রিলার লিখতেন, তবে তাকে মানুষ উন্মাদ ভাবত। শেষ ৯০ সেকেন্ডের নাটকীয়তাই প্রমাণ করে এখানে কোনো সমঝোতা ছিল না।’ আলজেরিয়ার কোচ ভ্লাদিমির পেটকোভিচও সুর মিলিয়েছেন রাংনিকের সঙ্গে। তার মতে শেষ পর্যন্ত মাঠের ফুটবলেরই জয় হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন