মধ্যরাতে স্মরণকালের সর্বোচ্চ লোডশেডিং

সহযোগীদের খবর

মধ্যরাতে স্মরণকালের সর্বোচ্চ লোডশেডিং

ফন্ট সাইজ:

যুগান্তর

দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘মধ্যরাতে স্মরণকালের সর্বোচ্চ লোডশেডিং’। খবরে বলা হয়, দেশে স্মরণকালের সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয়েছে রোববার মধ্যরাতে। রাত ২টায় দেশে লোডশেডিং হয় ৩ হাজার ৪৩১ মেগাওয়াট। সরকারি হিসাব অনুযায়ী ওই সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৫০৪ মেগাওয়াট। সরবরাহ ছিল ১৩ হাজার ৭৩ মেগাওয়াট। রোববার সারা দিন গড়ে লোডশেডিং ছিল ২ থেকে আড়াই হাজার মেগাওয়াট। এর আগে মে মাসে সারা দেশে আড়াই হাজার মেগাওয়াটের মতো লোডশেডিং হয়েছিল। বর্তমান সরকারের সময়ে দেশে বিদ্যুতের এই সংকট চিন্তায় ফেলেছে সংশ্লিষ্টদের। গরম আরও বাড়লে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি আওতার বাইরে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বর্তমানে ঢাকায় বিচ্ছিন্নভাবে কিছু কিছু জায়গায় সামান্য লোডশেডিং হয়। যা এখনো সহনীয় পর্যায়ে। তবে ঢাকার বাইরের পরিস্থিতি বেশ নাজুক। বহু জেলায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। ময়মনসিংহের শিল্প ও কৃষিপ্রধান এলাকায় দৈনিক গড়ে ১২-১৪ ঘণ্টা থাকে বিদ্যুৎহীন। সারা দেশে বিদ্যুতের জন্য চলছে হাহাকার। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঢাকায়ও লোডশেডিং করার চিন্তা করছে সরকার। ঢাকায় লোডশেডিংয়ের আগে প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি নিতে চায় বিদ্যুৎ বিভাগ। যদিও ঢাকায় লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানান বিদ্যুৎমন্ত্রী।

এদিকে, সার কারখানা বা অন্য কোনো খাতে গ্যাস কমিয়ে বিদ্যুতে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ময়মনসিংহ এলাকায় মারাত্মক লোডশেডিং কমাতে ইউনাইটেড পাওয়ার কোম্পানির দুই কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রোববার সংসদ সচিবালয়ে বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ওই সিদ্ধান্ত হয়। ওই বৈঠকে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী, জ্বালানি এবং বিদ্যুৎ সচিবসহ বিভিন্ন সিনিয়র কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এদিন বিকালে বিদ্যুৎমন্ত্রী যুগান্তরকে বলেন, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ। অন্য একটিতে উৎপাদন কম হচ্ছে। তাই লোডশেডিং বেড়েছে। তবে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পুরোদমে চালাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের নির্দেশের পর পরিস্থিতি সামাল দিতে খুলনার ৩০০ মেগাওয়াটের ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) জানিয়েছে, অর্থ সংকট, গ্যাস সংকট এবং কয়লাভিত্তিক দুই কেন্দ্র ঠিকমতো চালু না থাকায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। এ ছাড়া পিডিবি এবং বিতরণ কোম্পানির মধ্যে সমন্বয়ের অভাবও রয়েছে। সবকিছু মিলে গত ৫ বছরে এমন পরিস্থিতি হয়নি বিদ্যুৎ খাতে।

ময়মনসিংহের ভালুকার বড়াই এলাকা থেকে রবিন বড়ুয়া জানান, ওই এলাকায় দিনে ৪-৫ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ থাকে না। রাতে কখন বিদ্যুৎ আসে তা বলা কঠিন। এই গরমে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় সেখানকার ব্যবসা-বাণিজ্য একেবারে লাটে উঠেছে। টেক্সটাইল এবং বিভিন্ন কৃষি খামারিরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। রাজধানীসংলগ্ন কেরানীগঞ্জের সাবান ফ্যাক্টরি এলাকার বাসিন্দা সোহেল আহমেদ জানান, সেখানে প্রতিদিন ৮-১০ ঘণ্টা লোডশেডিং হয়। তার প্রশ্ন, রাজধানীতে কোনো লোডশেডিং নেই। কিন্তু রাজধানীর পাশের থানায় ৮-১০ ঘণ্টা লোডশেডিং কেন? চট্টগ্রামের লোহাগড়া থেকে ইমন আহমেদ জানান, গরমে এলাকার অবস্থা ভয়াবহ। বিদ্যুৎ থাকে না বললেই চলে। কখন বিদ্যুৎ আসে তার জন্য আমরা তীর্থের কাকের মতো অপেক্ষা করি।

পরিস্থিতি এত খারাপ কেন : দেশে এখন পিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা ১৮ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। কিন্তু উৎপাদন হচ্ছে ১৪ হাজারের মতো। অথচ বিদ্যুৎ উৎপাদন করার সক্ষমতা আছে ২৯ হাজার ৫৯৩ মেগাওয়াট। তাহলে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে না কেন। এর উত্তরে পিডিবির কর্মকর্তারা জানান, বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় বাধা অর্থ সংকট। পিডিবির কাছে সরকারি-বেসরকারি কোম্পানিগুলোর বিল পাওনা ৪৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে বেসরকারি খাতে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পাবে ১৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। তারা পিডিবির কাছে ৭-৮ মাসের বিল পাওনা আছে।

বাংলাদেশ প্রাইভেট পাওয়ার প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশনের (বিপ্পা) সভাপতি ডেভিড হাসনাত যুগান্তরকে জানান, বেসরকারি কোম্পানিগুলো সরকারকে সহায়তা করে দেশকে লোডশেডিং মুক্ত করতে চায়। কিন্তু এজন্য বিদ্যুতের বকেয়া বিল পরিশোধ করতে হবে। বকেয়া টাকা না পেলে কোম্পানিগুলো বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য তেল কিনবে কীভাবে।

পিডিবি জানিয়েছে, দেশে সরকারি-বেসরকারি খাতে ৪৩টি ছোট-বড় ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে। এর মধ্যে ডিজিটাল পাওয়ারের ১০২ মেগাওয়াট, দেশ এনার্জি চাঁদপুরের ২০০ মেগাওয়াট, টাঙ্গাইল ২২ মেগাওয়াট এবং অরিয়ন খুলনা ১০৫ মেগাওয়াটের কেন্দ্রে এক লিটার তেলও মজুত নেই। এছাড়া নাটোরে রাজ লংকা পাওয়ার কেন্দ্রে ৩ টন, ইপিভির ঠাকুরগাঁও ১১৫ মেগাওয়াট কেন্দ্রে ৭৪ টন, নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ারের মোল্লার হাট বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৯৮ টন, কুমিল্লা ৫২ মেগাওয়াট কেন্দ্রে ৬ টন, ফেনী ১১৪ মেগাওয়াট কেন্দ্রে ৩৯ টন, ওরিয়ন মেঘনাঘাট কেন্দ্রে ৩২ টন ফার্নেস অয়েল মজুত আছে। যা দিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্র চালানো যাবে না। বাকি বেশির ভাগ কেন্দ্রে ১০ থেকে ১৫ দিনের বেশি তেল মজুত নেই। এর বাইরে পিডিবির ১০টি তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে শুধু শান্তাহার কেন্দ্র ১০ দিন চালু রাখার মতো তেল আছে। বাকিগুলোতে ১ থেকে ৮ দিন পর্যন্ত চালুর তেল রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৫ হাজার ৬৪১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা থাকলেও এখন উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ১ হাজার ৩ মেগাওয়াট (রোববার বেলা ১১টায়)। জানা গেছে, ময়মনসিংহে ইউনাইটেড গ্রুপের ২০০ এবং ১৫০ মেগাওয়াটের দুটি তেলভিত্তিক কেন্দ্র আছে। বকেয়া বিলের কারণে ওই কেন্দ্রে দুটি থেকে মাত্র ১০০ থেকে ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। এখন তাদের বকেয়া পরিশোধ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন বিদ্যুৎমন্ত্রী। ইউনাইটেড পিডিবির কাছে ৪ হাজার কোটি টাকা বকেয়া পাওনা আছে।

কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র থেকে ৬ হাজার ৯২৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা আছে দেশে। কিন্তু রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট টিউবের সমস্যার কারণে বন্ধ। বাকি ইউনিটও ৬০০ মেগাওয়াটের ক্ষমতা থাকলে উৎপাদন করছে ৪০০ মেগাওয়াট। নরেনকো কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের বেশি উৎপাদন করার কথা। কিন্তু সেটি এক হাজার মেগাওয়াটের বেশি উৎপাদন করতে পারছে না। এস আলম গ্রুপের এসএস পাওয়ার ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ দেওয়ার কথা। কিন্তু বকেয়া বিল এবং তাদের বিভিন্ন দাবি দাওয়ার কারণে কেন্দ্রটি সব সময় পুরোদমে চলছে না। সব মিলিয়ে কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র থেকে পাওয়া যাচ্ছে ৫ হাজার মেগাওয়াটের মতো।

গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা আছে ১২ হাজার ৪৭২ মেগাওয়াট। কিন্তু রোববার বেলা ১১টায় উৎপাদন হয়েছে মাত্র ৫ হাজার ১১১ মেগাওয়াট। অন্যান্য বছর বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য গ্যাস বরাদ্দ ছিল ১২০ কোটি ঘনফুট থেকে ১০০ কোটি ঘনফুট। এখন সেখানে দেওয়া হচ্ছে ৯১ কোটি ৫০ লাখ ঘনফুট। জানা গেছে, লোডশেডিং কমাতে রোববারের বৈঠকে বিদ্যুৎ খাতে কমপক্ষে ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। জ্বালানি বিভাগ বলছে ক্যাপটিভসহ বিদ্যুৎ খাতে দেশের উৎপাদিত ৬০ শতাংশ গ্যাস ব্যবহার হয়। এটা দেশের ক্ষতিকর। কারণ গ্যাস সংকটের কারণে শিল্পসহ বিভিন্ন খাত ডুবতে বসেছে।

প্রথম আলো

‘সরকারি প্রকল্পে বেসরকারি খাত থেকেও পরিচালক নেওয়া যাবে’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে বেসরকারি খাত থেকে পরিচালক নিয়োগের সুযোগ রাখতে চায় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে একটি পরিপত্রের খসড়া করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে ‘নির্ধারিত যোগ্যতাসম্পন্ন যেকোনো নাগরিককে’ প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ করা যাবে।

সরকারি প্রকল্পে সাধারণত সরকারি কর্মকর্তাদের পরিচালক নিয়োগ করা হয়। পদটি তাঁদের জন্য আকর্ষণীয়। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নে অদক্ষতা, ধীরগতি, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিস্তর অভিযোগ রয়েছে।

এমন পরিপ্রেক্ষিতে বেসরকারি খাত থেকে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগ করার সুযোগ রেখে তৈরি পরিপত্রটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অনুমোদন পেলে জারি হতে পারে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, সরকারের উদ্যোগটি ভালো। এতে যোগ্যতাসম্পন্ন প্রকল্প পরিচালকের ঘাটতি দূর করার সুযোগ তৈরি হবে। এক ব্যক্তিকে একাধিক প্রকল্পের দায়িত্ব দিতে হবে না। কিন্তু সমস্যা হলো, এই সুযোগের অপব্যবহার হলে দলীয়করণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে আমলারা সরকারি এ উদ্যোগে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেন এবং বেসরকারি ব্যক্তি প্রকল্প পরিচালক হলে অসহযোগিতার মুখে পড়তে পারেন। বেসরকারি খাতের কেউ সরকারি কাজের প্রক্রিয়া বুঝবেন কি না, সেটাও প্রশ্ন।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পে গতি আনতে উদ্যোগটি ভালো। তবে বেসরকারি খাত থেকে কাউকে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দিলে তাঁর দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহি কীভাবে নিশ্চিত হবে, তা স্পষ্ট থাকতে হবে। তিনি বলেন, নতুন উদ্যোগটির মাধ্যমে কেমন ফলাফল আসে, তা দেখা যেতে পারে।

দুর্নীতি, ধীরগতি

সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় এখন ১ হাজার ১৫০টি প্রকল্প চলমান রয়েছে। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এডিপিতে অনুমোদনের জন্য ১ হাজার ২৭৭টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্প যথাযথভাবে এবং যথাসময়ে বাস্তবায়নের ওপর দেশের উন্নয়ন এবং জনগণের সেবাপ্রাপ্তি নির্ভর করে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যেনতেনভাবে প্রকল্প নেওয়া এবং তা বাস্তবায়নে সময়ক্ষেপণের বহু অভিযোগ রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে অর্থনীতি নিয়ে করা দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বাধীন কমিটির শ্বেতপত্রে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে এডিপির মাধ্যমে খরচ করা হয়েছে প্রায় ৭ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা। শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি মনে করে, এই টাকার ২৩ থেকে ৪০ শতাংশ অপচয় ও লুটপাট হয়েছে।

শুধু দুর্নীতির অভিযোগ নয়; বাংলাদেশে যথাসময়ে এবং নির্ধারিত ব্যয়ে প্রকল্প শেষ করা বিরল ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বিশেষ করে অবকাঠামো প্রকল্প যথাসময়ে নির্ধারিত ব্যয়ে শেষ হলে সেটা বিশেষ খবর হিসেবে গণ্য হয়।

যেমন ২০১৯ সালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দ্বিতীয় মেঘনা সেতু ও দ্বিতীয় গোমতী সেতুর কাজ নির্ধারিত সময়ের আগে শেষ হওয়া ছিল একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা। তা নিয়ে তখন গণমাধ্যমে খবরও প্রকাশিত হয়েছিল।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) গত মে মাসে সরকারের চলমান ১ হাজার ৩৫২টি প্রকল্প নিয়ে একটি গবেষণা করে। এতে উঠে আসে, প্রায় ৫৫ শতাংশ (৭৩৭টি) প্রকল্পের মেয়াদ অন্তত একবার বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে দুবার বাড়ানো হয়েছে ২৩৪টি প্রকল্পের মেয়াদ। তিনবার বাড়ানো হয়েছে ৪৩টির। চারবার ছয়টির এবং পাঁচবার দুটি প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

১ হাজার ৩৫২টির মধ্যে ৬১৫টি প্রকল্প এখনো সংশোধন হয়নি। তবে সেগুলো নির্ধারিত সময়ে শেষ হওয়ার সম্ভাবনা কম। সিপিডি বলেছে, এগুলোর বেশির ভাগের মেয়াদও বাড়ানো হতে পারে। মেয়াদের সঙ্গে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে খরচও বাড়ে।

সিডিপির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান প্রকল্প নিয়ে গবেষণাটি করেছিলেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বেসরকারি খাত থেকে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ করা যেতে পারে সেই সব বিশেষ প্রকল্পে, যেখানে বিশেষ জ্ঞানের দরকার হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিশেষ জ্ঞান আছে কি না, সেটাও দেখা জরুরি। তিনি বাড়তি কী করবেন, প্রকল্প দক্ষতার সঙ্গে এবং যথাসময়ে শেষ করার দিকে তাঁর বিশেষ আগ্রহ থাকবে কি না, সেটাও দেখার বিষয়।

কালের কণ্ঠ

‘সংসদে অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্নীতি তদন্তের দাবি’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে ভয়াবহ দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) নির্দেশ দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ অনুরোধ জানান।

এ সময় সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের প্রাতিষ্ঠানিক লুটপাট ও অর্থপাচারের পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের সব কর্মকাণ্ডও দুদকের মাধ্যমে তদন্তের নির্দেশ দিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের ভিত্তি স্বচ্ছতা। তাই যেকোনো ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া উচিত।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছর একটি অস্থির সময় ছিল। যমুনার অভ্যন্তরে এবং যমুনার কিনারে কী পরিস্থিতি ছিল, আপনারা সবাই জানেন।’

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করছি, অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের সব কার্যক্রম দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে তদন্তের নির্দেশ দিন। কোথায় দুর্নীতি হয়েছে, কিভাবে হয়েছে, কারা করেছে—সবকিছু খুঁজে বের করা হোক।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘টিআইবি কয়েক দিন আগে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। আপনারা (সংসদ সদস্যরা) নিশ্চয়ই পত্রিকায় দেখেছেন। সেখানে বলা হয়েছে যে সর্বোচ্চ দুর্নীতি হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে। আমি নিজে এই দাবি করছি না; আমি শুধু প্রকাশিত প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করছি।
তাই তারা (অন্তর্বর্তী সরকার) কোনো ধরনের দায়মুক্তি পেতে পারে না।’

অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে প্রণীত শ্বেতপত্রের তথ্য তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে গণতান্ত্রিক জবাবদিহির অভাবে দেশে ‘লুটেরা অর্থনীতি’ ও ‘ক্রনি ক্যাপিটালিজম’ গড়ে ওঠে। এ সময় বছরে গড়ে ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ১৫ বছরে প্রায় ২৯ থেকে ৩০ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। ব্যাংকঋণ কেলেঙ্কারি, রাজনৈতিক বিবেচনায় ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ, মেগাপ্রকল্পে ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো এবং আইনের মাধ্যমে দুর্নীতিকে বৈধতা দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে।”

তিনি বলেন, বিগত সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থা এবং অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের অস্থির সময় পার করে বর্তমান সরকার ৯ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও নতুন অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েই এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমার বন্ধু, মাননীয় এমপি নাহিদ সাহেব বলেছেন, আমি নাকি এখানে একটি সরল স্বীকারোক্তি করেছি যে অনেক আপস করে আমরা জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছি। হ্যাঁ, আমরা নির্বাচনের স্বার্থে এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে জুলাই সনদে সবাই মিলে সমঝোতায় পৌঁছেছি এবং স্বাক্ষর করেছি। হয়তো সব বিষয়ে আমরা একমত ছিলাম না, কিন্তু জাতির বৃহত্তর স্বার্থে আমরা আপস করেছি। এটিকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ‘যাদের পরিকল্পনা ছিল পাঁচ বছর নির্বাচন হবে না এবং ক্ষমতায় থেকে যাবে, সেই বিষয়টিও আমাদের বিবেচনায় রাখতে হয়েছে।’

সমকাল

দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘বিদ্যুৎ পরিস্থিতি: লোডশেডিংয়ে জনদুর্ভোগ, ৭ জেলায় বিক্ষোভ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, তাপপ্রবাহের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দেশজুড়ে বাড়ছে লোডশেডিং। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি বেশি খারাপ। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবিতে দেশের অন্তত সাত জেলায় গ্রাহকরা বিক্ষোভ করেছেন। কোথাও বিদ্যুৎ অফিসে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। ফুটবল বিশ্বকাপের ম্যাচ চলাকালে লোডশেডিংয়ে ক্ষোভ আরও বাড়ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিভিন্ন জেলায় বিদ্যুৎ বিতরণ প্রতিষ্ঠানগুলো নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশকে চিঠি দিয়েছে।

বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জ্বালানি সংকট, বিদ্যুৎকেন্দ্রে কারিগরি ত্রুটি, বৈরী আবহাওয়া, রাতে ব্যাটারিচালিত রিকশার চার্জ এবং ফুটবল বিশ্বকাপের কারণে লোডশেডিং বেড়েছে।

বেড়েছে লোডশেডিং

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি বাংলাদেশ (পিজিসিবি) এবং বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশে লোডশেডিং বাড়ছে। ছুটির দিনেও লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। তিন সপ্তাহ ধরে গড়ে দুই হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং রেকর্ড করা হয়েছে। দেশে বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৮ হাজার মেগাওয়াটের বেশি হলেও জ্বালানি সংকটের কারণে বাস্তবে উৎপাদন হচ্ছে ১৩ থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াট। এর বিপরীতে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের চাহিদা ১৭ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে বাধ্য হচ্ছে বিতরণ সংস্থাগুলো।

পিজিসিবির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সাধারণত মধ্যরাতের পর বিদ্যুতের চাহিদা কম থাকে। কিন্তু এখন চিত্র ভিন্ন দেখা যাচ্ছে। রাত ১০টার পর থেকে লোডশেডিংয়ের মাত্রা বাড়ে এবং মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি লোডশেডিং করা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন বলছেন, আসল বৈষম্যের শিকার হচ্ছে গ্রাম। তবে এতদিন রাজধানীসহ বড় শহরগুলো তুলনামূলক লোডশেডিংমুক্ত রাখা গেলেও কয়েক দিন ধরে তা সম্ভব হচ্ছে না। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দুই থেকে তিনবারে এক থেকে দেড় ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের তথ্য পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) আওতাধীন এলাকায় দৈনিক পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টার বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকছে না বলে জানিয়েছেন গ্রাহক। গেল দুই সপ্তাহের মধ্যে গত শনিবার রাত ২টায় সবচেয়ে বেশি– তিন হাজার ৪৩১ মেগাওয়াট লোডশেডিং ছিল। এ সময় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল কমবেশি ১৭ হাজার মেগাওয়াট। গতকাল রোববার রাত ৮টায় ১৭ হাজার ১৪৬ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে এক হাজার ৯৮৩ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি দেখিয়েছে পিজিসিবি।

বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ-ভাঙচুর

লোডশেডিংয়ের কারণে গতকাল টাঙ্গাইল, ঝালকাঠি, নেত্রকোনা, রাজশাহী, শেরপুর, সিলেট ও ঢাকা জেলার দোহারে গ্রাহকরা বিক্ষোভ করেছেন। আর্জেন্টিনা-জর্ডান ফুটবল বিশ্বকাপের ম্যাচ চলাকালে বিদ্যুৎ না থাকায় নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যালয়ে হামলা করা হয়। কেন্দুয়া জোনাল অফিসের ডিজিএম প্রকৌশলী ওমর ফারুক বলেন, তাদের চাহিদা ২৭ মেগাওয়াট, কিন্তু আসে মাত্র ৯ মেগাওয়াট। অফিসে হামলার ঘটনায় তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবিতে টাঙ্গাইলের জামুর্কীতে পল্লী বিদ্যুতের সাবস্টেশনের সামনে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন দেলদুয়ার ও মির্জাপুর উপজেলার বাসিন্দারা। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এ সময় ক্ষুব্ধ জনতা সাবস্টেশন ভাঙচুরের চেষ্টা করে।

ঢাকার দোহারের নুরপুর এলাকায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যালয় ঘেরাও এবং ঢাকা-দোহার সড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন করেন গ্রাহকরা। ঝালকাঠি প্রেস ক্লাবের সামনে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন করেছে একটি সংগঠন।

বিদ্যুতের দাবিতে সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ মহাসড়ক অবরোধ করেন ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা। গতকাল রাত ১০টার দিকে হাইটেক পার্কের বর্ণী এলাকায় বিভিন্ন গ্রামের গ্রাহকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। শনিবার দিবাগত রাতে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের বাইরে থাকা ৩৩ কেভি অটোমেটিক সার্কিট রিক্লোজার বন্ধ করে দেয় ক্ষুব্ধ জনতা। এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুতের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

রাজশাহীর বাগমারার মচমৈল বাজারে এলাকায় লোডশেডিংয়ের কারণ ব্যাখ্যাসহ সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বের হওয়া পল্লী বিদ্যুতের একটি প্রচার গাড়ি আটকে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় জনতা।

গতকাল বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখতে না পেরে শেরপুরের নকলা ও ঝিনাইগাতী উপজেলার পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে এসে বিক্ষুব্ধ লোকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হুমকি দেন। শেরপুর পল্লী বিদ্যুতের জিএম (ভারপ্রাপ্ত) আখতারুজ্জামান বলেন, ‘প্রয়োজন ৭০ মেগাওয়াট। পাচ্ছি ৩৫ মেগাওয়াট। তাই বিশ্বকাপ ফুটবলের পুরো খেলার সময় বিদ্যুৎ দেওয়া সম্ভব হয়নি।’

ইত্তেফাক

‘বেড়েছে নৃশংস হত্যাকাণ্ড বাড়ছে উদ্বেগ, অস্থিরতা’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে অস্বাভাবিক কিছু নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা দেশ জুড়ে আলোচিত হয়েছে। এই ধরনের হত্যাকাণ্ডের কারণে সমাজে বাড়ছে উদ্বেগ, অস্থিরতা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিটি ঘটনায় যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে বিচার নিশ্চিত করতে পারলেই এই ধরনের ঘটনা কমে আসবে। এক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরো বেশি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। কেন এই হত্যাকাণ্ড, খুনি কেন এত বেশি নৃশংস হয়ে উঠল এর কারণ অনুসন্ধান করতে হবে। মানুষের মধ্যে সহিষ্ণুনতা কমাতে হলে সামাজিক বন্ধনের উপর জোর দিতে বলেছেন কেউ কেউ।

বাংলাদেশ মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী ও চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এলিনা খান ইত্তেফাককে বলেন, “বিচারহীনতার সংস্কৃতি আমাদের এই অবস্থার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। প্রতিটি ঘটনার অনুসন্ধান করে বিচার নিশ্চিত করতে পারলে এই ধরনের নৃশংসতা কমে আসবে। সমাজে অস্থিরতা তৈরি হলে এর প্রতিফলন ঘটে এসব ঘটনায়। আসলে আমাদের সামাজিক বন্ধন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এরফলে আমরা আরো বেশি অসহিষ্ণু হয়ে উঠছি।

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে বাসায় ঢুকে মা ও তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠে এক যুবকের বিরুদ্ধে। গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার পৌর শহরের টিনহাটা সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আটক এক যুবককে গণপিটুনি দিলে হাসপাতালে নেওয়ার পর তারও মৃত্যু হয়। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সকালে বাসার ভেতরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে শাহিনুর ও তার দুই মেয়ে নিহত হন। আহত হন আরেক মেয়ে ইকরা। পরে হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত চার জন হলেন মা শাহিনুর বেগম (৩৮), তার বড় মেয়ে কলেজছাত্রী সায়মা আক্তার (২১), মেঝ মেয়ে ইকরা আক্তার (১৭) ও ছোট মেয়ে শিফা আক্তার (৯)। আর সন্দেহভাজন নিহত ঘাতক হলেন অন্তর মজুমদার। তার বাড়ি নোয়াখালীর সুবর্ণচর এলাকায়। ঘটনাটি দেশ জুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়।

তুরাগ নদ থেকে গত বুধ ও বৃহস্পতিবার দুই দিনে তিন জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তারা হলেন মো. সুমন, তুরাগ থানার রানাভোলা এলাকার আরিফ হাসান রাকিব ও রাজধানীর মনিপুর মোল্লাপাড়ার রনি মোল্লা। এদের দুই জন নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন বলে তাদের ফেসবুক আইডি থেকে জানা গেছে। ঢাকার মহানগর পুলিশের তুরাগ, রূপনগর, দারুস সালাম ও ঢাকা জেলা পুলিশের আশুলিয়া থানা এলাকার তুরাগ নদের আওতাধীন ফায়ার সার্ভিস, দুটি নৌ পুলিশ ফাঁড়ির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পৃথক জায়গা থেকে পৃথকভাবে এই লাশগুলো পুলিশ উদ্ধার করেছে।

বরিশালের মেঘনা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় অজ্ঞাত এক যুবকের ভাসমান লাশ উদ্ধার করেছে হিজলা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি। গত শনিবার হিজলা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক গৌতম চন্দ্র মন্ডল জানিয়েছেন, মেঘনা নদীর হিজলা উপজেলার বড়জালিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বাউশিয়া চৌমুহুনি এলাকায় স্থানীয়রা লাশটি নদীতে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পায়। খবর পেয়ে তারা গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শেরই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরিদর্শক বলেন, আনুমানিক দুই থেকে তিন দিন পূর্বে মারা গেছে। জয়পুরহাট সদর উপজেলার দুর্গাদহ ঢুলিপাড়া এলাকায় বন্দনা রানি দাস নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্বামীর মারপিটে তার মৃত্যু হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মো. রেজাউল করিম বলেন, কিছু মানুষ আছে যারা অপরাধ প্রবণ। তাদের বলা হয় লাইকলি অফেন্ডার। তারা অপরাধের সুযোগ খোঁজে। তারা সুইটেবল টার্গেট খোঁজে। তারা কখন অপরাধ করলে সেটা এফেকটিভ হবে তা বিবেচনা করে। তারা দেখছে অপরাধ করলে তারা পার পাচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নিচ্ছে না। আর তৃতীয়ত হলো লিগ্যাল গার্ডিয়ানশিপ। মনিটরিং, সার্ভিলেন্স, বিচার এগুলো ঠিক মতো হচ্ছে না। অপরাধের ক্ষেত্রে টেকনিক অব নিউট্রালাইজেশন আছে। এর পাঁচটি ভাগ আছে। ঐ পাঁচটি বিষয় দূর করা না গেলে রাষ্ট্র ও সমাজে অপরাধ বাড়ে।

সর্বশেষ গতকাল রবিবার জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় আট মাস বয়সি এক শিশুকে হত্যার অভিযোগে তার মা শ্রাবন্তী বেগমকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। গতকাল ভোরে উপজেলার ভাবকী গোয়ালবাড়ী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত শ্রাবন্তী বেগম ঐ এলাকার হুমায়ুন আহমেদের স্ত্রী। পুলিশ ও নিহত শিশুর স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, দাম্পত্য কলহের কারণে শ্রাবন্তী তার আট মাস বয়সি ছেলে শাওনকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। কিছুক্ষণ পর মা ছেলেকে হত্যা করে পালানোর সময় জনগণ তাকে আটক করে।

বণিক বার্তা

দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম আশ্রয়ণের ঘরে থাকছেন না ‘আশ্রিত’রা, বিক্রি করে দিয়েছেন অনেকে। খবরে বলা হয়, আশ্রয়ণ প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের মাথার ওপর স্থায়ী ছাদ নিশ্চিত করা। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পে খরচ হয়েছে ১১ হাজার কোটির বেশি টাকা।

কিন্তু দেশের বিভিন্ন জেলায় আশ্রয়ণ প্রকল্প সরজমিনে ঘুরে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। কোথাও বরাদ্দ পাওয়া পরিবার ঘরে থাকছে না, কোথাও সরকারি ঘর বিক্রি হয়ে গেছে মোটা অংকের টাকায়, আবার কোথাও বছরের পর বছর খালি পড়ে থাকা ঘর মাদকসেবী ও জুয়াড়িদের আস্তানায় পরিণত হয়েছে। বণিক বার্তার অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, অনেক প্রকল্পেই প্রকৃত উপকারভোগীর পরিবর্তে স্থানীয় প্রভাবশালী, মধ্যস্বত্বভোগী কিংবা অননুমোদিত ব্যক্তিরা ঘর দখল করে আছেন।

ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার রোহিতপুর ইউনিয়নের সাহাপুর (ধর্মশুর) আশ্রয়ণ প্রকল্পে ২০২২ সালে ৪৫টি ঘর ভূমিহীন ও গৃহহীনদের বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। গতকাল সরজমিনে দেখা যায়, ৪৫টি ঘরের ২১টিতেই তালা ঝুলছে। তালায় জমে থাকা মরিচা ও চারপাশের মাকড়সার জালই বলে দিচ্ছিল, দীর্ঘদিন ধরে এসব ঘরে কেউ থাকে না।

অন্যদিকে যে ২৪টি ঘরে মানুষ বসবাস করছে, তাদের অনেকেরই সরকারি বরাদ্দ নেই। অনুসন্ধানে জানা গেছে, কেউ স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহায়তায়, কেউ আত্মীয়ের নামে বরাদ্দ পাওয়া ঘরে, আবার কেউ অর্থের বিনিময়ে এসব ঘরে থাকছে।

সরজমিনে দেখা যায়, রাহিমা নামের এক নারী তার প্রতিবন্ধী বোনের নামে বরাদ্দ পাওয়া ঘরে স্বামী-সন্তান নিয়ে থাকছেন। সেলিনা নামের এক বিধবা নারী বাড়িভাড়া দিতে না পেরে স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার সহযোগিতায় একটি খালি ঘরে ওঠেন। স্বামী পরিত্যক্তা আরেক নারী জানান, একজন সমাজকর্মী ও ‘জুলাই যোদ্ধা’র সহায়তায় তিনি সন্তানদের নিয়ে সেখানে উঠেছেন; পরে কাগজপত্র করে দেয়ার আশ্বাস দেয়া হয়েছে। তবে তাদের কারো কাছেই বৈধ কোনো বরাদ্দপত্র নেই।

এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. উমর ফারুক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘যারা নথির বাইরে বা অবৈধভাবে অবস্থান করছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। একই সঙ্গে যারা বরাদ্দ পেয়েও বসবাস করছেন না, তাদের বরাদ্দ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’

কেরানীগঞ্জের চিত্রটি বিচ্ছিন্ন নয়। দেশের বিভিন্ন জেলার আশ্রয়ণ প্রকল্পেও মিলেছে একই ধরনের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার প্রমাণ। রংপুর সদর উপজেলার কাটাবাড়ির বড়ভিটা ও বেলতলা আশ্রয়ণ প্রকল্পে দুই বছর আগে নির্মিত ৩৯টি ঘরের মধ্যে ৩১টিই খালি পড়ে আছে। যে আটটি ঘরে মানুষ আছে, তারাও বিদ্যুৎ না থাকা, ভাঙা রাস্তা, ডেবে যাওয়া টয়লেট ও ফেটে যাওয়া মেঝের মতো নানা সমস্যায় ভুগছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকায় কিছু ঘর এখন মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে।

আবার নওগাঁর রাণীনগরে মালিপুকুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১২টি ঘর বিক্রির অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, সরকারি কোনো অনুমোদন ছাড়াই স্ট্যাম্পে সই নিয়ে একেকটি ঘর ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকায় হাতবদল হয়েছে। বর্তমানে সেখানে বসবাসকারী অনেকেই সরাসরি টাকা দিয়ে ঘর কেনার কথা স্বীকার করেছেন।

মালিপুকুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বিক্রির অভিযোগ নিয়ে জানতে চাইলে রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান বলেন, ‘৩২টি ঘরের মধ্যে ১২টি বেচাকেনার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব ঘরের বরাদ্দ বাতিলের প্রক্রিয়া চলছে।’

একই ধরনের চিত্র পাওয়া গেছে নাটোরেও। জেলার সাতটি উপজেলায় প্রায় ছয় হাজার ঘর নির্মাণ করা হলেও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অনেক ঘর এখন পরিত্যক্ত। কোথাও প্রকৃত ভূমিহীন নন—এমন ব্যক্তিরা ঘর বরাদ্দ পেয়েছেন, আবার কেউ জীবিকার প্রয়োজনে অন্যত্র চলে যাওয়ায় ঘরগুলো জঙ্গলাকীর্ণ হয়ে পড়েছে। নাটোরের জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন বলেন, ‘যারা বরাদ্দ নিয়ে ঘরে থাকছেন না, তদন্ত করে তাদের বরাদ্দ বাতিল করা হবে।’

আজকের পত্রিকা

‘মাদক ঢুকছে ১৮ জেলা দিয়ে, বড় বাজার ঢাকা’-এটি দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দেশে মাদকদ্রব্যের সবচেয়ে বড় বাজার রাজধানী ঢাকা। তিনটি সীমান্ত অঞ্চলের ১৮ জেলার অন্তত ১০৫টি পয়েন্ট দিয়ে দেশে ঢুকছে ইয়াবা, আইস, হেরোইন, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদক। এরপর সেগুলো সারা দেশে ছড়িয়ে পড়লেও বেশির ভাগ ঢুকছে ঢাকায়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের প্রায় ৮২ লাখ মানুষ মাদকাসক্ত। মাদকসেবীদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। সবচেয়ে বেশি মাদকসেবী ঢাকায়। এ কারণে ২০২৫ সালে দেশে মাদকের সবচেয়ে বড় বাজারও ছিল ঢাকা। এরপর বড় বাজার কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা।

মাদক এখন গ্রামাঞ্চল ও প্রত্যন্ত এলাকায়ও উদ্বেগজনকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান, কড়াকড়ির পরও পরিস্থিতি বদলাচ্ছে না।

জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমানে মাদকের যে বিস্তার এবং যে সংখ্যক মাদক কারবারি রয়েছে, বিদ্যমান আইন দিয়ে তাদের কার্যকরভাবে দমন করা কঠিন। তাই আইন সংশোধনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। তিনি বলেন, আইন আরও শক্তিশালী করে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে মাদক নির্মূল করা হবে।

ডিএনসির গত শুক্রবার প্রকাশিত ‘বার্ষিক প্রতিবেদন-২০২৫’-এ বলা হয়েছে, বাংলাদেশ মাদক উৎপাদনকারী দেশ না হলেও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বিশ্বের তিনটি প্রধান মাদক উৎপাদন অঞ্চল গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল, গোল্ডেন ক্রিসেন্ট ও গোল্ডেন ওয়েজের মাঝামাঝি অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে মিয়ানমার ও ভারতের বিস্তীর্ণ সীমান্ত ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক চক্রগুলো বাংলাদেশকে মাদকের ট্রানজিট ও বাজার হিসেবে ব্যবহার করছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ৪ হাজার ১৫৬ কিলোমিটার এবং মিয়ানমারের সঙ্গে ২৭১ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। এসব সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে সবচেয়ে বেশি মাদক দেশে ঢুকছে। প্রতিবেদনে বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকাগুলোকে মাদক চোরাচালানের ঝুঁকি অনুযায়ী তিনটি প্রধান অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে—পশ্চিম সীমান্ত, উত্তর সীমান্ত এবং দক্ষিণ-পূর্বের মিয়ানমার সীমান্ত। এর মধ্যে পশ্চিম সীমান্ত দিয়ে মূলত ফেনসিডিল, হেরোইন ও অন্যান্য মাদক দেশে ঢোকে। মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে ঢোকে ইয়াবা ও ক্রিস্টাল মেথ (আইস)।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের সঙ্গে সংযুক্ত পশ্চিমে সীমান্তের সাতক্ষীরার কলারোয়া, দেবহাটা, ভোমরা, কাকডাঙ্গা ও পলাশপুর; যশোরের বেনাপোল, পুটখালী, চৌগাছা, নারায়ণপুর ও শার্শা; চুয়াডাঙ্গার কার্পাসডাঙ্গা, দর্শনা ও জীবননগর; মেহেরপুরের দরিয়াপুর ও বুড়িপোতা; রাজশাহীর মনিগ্রাম, চারঘাট, সারদাহ, ইউসুফপুর, কাজলা, বেলপুকুরিয়া, হরিপুর, গোদাগাড়ী, বাঘা ও রাজশাহী সদর; চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট, শিবগঞ্জ, বিনোদপুর, সোনামসজিদ স্থলবন্দর ও কানসাট; জয়পুরহাটের পাঁচবিবি; দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট, ফুলবাড়ী, বিরামপুর, হিলি, হাকিমপুর, কামালপুর, বিরল, আশকারপুর, খানপুর, দাইনুর, মালিগ্রাম ও বানতারা; সিলেটের জকিগঞ্জ, চুনারুঘাট ও মাধবপুর; ব্রাহ্মণবাড়িয়ার করিমপুর, কসবা, আখাউড়া, সিংগারবিল, পাহাড়পুর ও বিজয়নগর; কুমিল্লার জগন্নাথ দিঘি, চৌদ্দগ্রাম, গোলাপশা, কালিকাপুর, জগন্নাথপুর, রাজাপুর, বুড়িচং, ব্রাহ্মণপাড়া ও বিবিরবাজার এবং ফেনীর ছাগলনাইয়া, ফুলগাজী ও পরশুরামকে মাদক চোরাচালানের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

দেশ রূপান্তর

দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘বাসা-বাড়িতে গ্যাস সংযোগ আর নয়’। খবরে বলা হয়, চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে আবাসিকের সব গ্যাস সংযোগ কেটে দিতে চায় সরকার। সম্প্রতি জ্বালানি বিভাগের এক বৈঠকে জ্বালানি সচিব এমন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত আসেনি।

তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহনেওয়াজ পারভেজ এ বিষয়ে গতকাল রবিবার বিকেলে দেশ রূপান্তরকে বলেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক সভায় সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে জানানো হয়েছে, আবাসিকে এখন যে সংযোগ রয়েছে তা পর্যায়ক্রমে বন্ধ করে দেওয়া হবে। কতদিনের মধ্যে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘চার থেকে পাঁচ বছরের কথা বলা হয়েছে। সরকার মনে করছে আবাসিকে যে ১২ শতাংশ গ্যাস ব্যবহার হয় তা শিল্পে সরবরাহ করলে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। অন্যদিকে গৃহস্থালির গ্যাস ব্যবহারকারীরা এলপিজি ব্যবহার করবে। পৃথিবীর কোথাও এমন পাইপলাইনের গ্যাস নেই। আমাদের এখানেও থাকবে না।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এজন্য গৃহস্থালির গ্যাস উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাতিল করে দিয়েছে নতুন সরকার। এমনকি উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য যে ঋণ চুক্তি সই হয়েছিল এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক এবং বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে তাও বাতিল করতে বলা হয়েছে। এই খাত থেকে টাকা নিয়ে এলপিজির অবকাঠামো নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। বলা হচ্ছে, এতে করে এলপিজির প্রতি বোতলে ১১০ থেকে ১৪০ টাকা পর্যন্ত কমে আসবে।

এক খাতের ঋণের টাকা অন্য খাতে ব্যবহার করা সম্ভব কি না বা এমন ধরনের কোনো নজির আছে কি না জানতে চাইলে শাহনেওয়াজ পারভেজ বলেন, এটা এখন এডিবি এবং বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। তবে এ ধরনের ব্যবস্থা সহজ নয় বলে মনে করেন তিনি।

আবাসিকের গ্যাস সংযোগ এখন বন্ধ রয়েছে। কিন্তু আগে থেকে আবাসিকে যেসব সংযোগ রয়েছে তারা পাইপলাইনের গ্যাস ব্যবহার করেন। তবে আবাসিকে যে গ্যাস দেওয়া হয় তার বড় একটি অংশ চুরি হয়। যেহেতু বৈধ সংযোগ নেওয়ার উপায় নেই তাই অবৈধভাবে সংযোগ নিয়ে গ্যাস ব্যবহার করেন অনেকে। আবাসিক সংযোগ বৈধ হলে গ্যাস চুরির দরকার হতো না; সেক্ষেত্রে আবাসিক গ্যাস ব্যবহার থেকে সরকারের রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পেত বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

আবাসিকে গ্যাস সংযোগ ক্রমান্বয়ে বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়টি কীভাবে আলোচনায় এলো জানার জন্য তিতাস এবং জ্বালানি বিভাগে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন বলেন, জ্বালানি বিভাগের একটি বৈঠকে জ্বালানি সচিব মো. সাইফুল ইসলাম এ পরিকল্পনার কথা বলেন। তিনি ওই বৈঠকে বলেন, এখন যারা আবাসিকে গ্যাস ব্যবহার করছেন তাদের গ্যাস সংযোগও চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে কেটে দেওয়া হবে।

সূত্র জানায়, গত ২০ এপ্রিল বেলা ১১টায় জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগে তিতাসের উন্নয়ন প্রকল্প বিশেষ করে ঢাকা এবং নারায়ণগঞ্জে পুরনো পাইপলাইন প্রতিস্থাপন এবং প্রিপেইড মিটার স্থাপন নিয়ে বৈঠক হয়। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকটির কার্যপত্রে গত ৬ মে স্বাক্ষর করেন তিনি। তবে বৈঠকের কার্যপত্রে আবাসিকে গ্যাস ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে সংযোগ কেড়ে নেওয়ার এই পরিকল্পনার কথা সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। বৈঠকে আবাসিকের গ্যাস সংযোগ না থাকার বিষয়টি সরাসরি উল্লেখ না করা হলেও সাত পৃষ্ঠার কার্যপত্রের পঞ্চম পৃষ্ঠার ৪.৩-এ বলা হয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে চলমান প্রকল্পসমূহে বিনিয়োগকৃত ঋণ অন্য কোনো উপযুক্ত প্রকল্পে স্থানান্তর করা সম্ভব কি না, সে বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই করতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের পরিবর্তে নাগরিকদের জন্য এলপিজি সরবরাহ ব্যবস্থা সহজীকরণ ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সেই ঋণ পুনর্বিন্যাস করার বিষয়ে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর সঙ্গে প্রয়োজনীয় আলোচনা, সমন্বয় এবং কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এই প্যারার ৪টি শব্দ ‘প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের পরিবর্তে’ উল্লেখ করে বিষয়টির ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ প্রতিদিন

‘মোহাম্মদপুরে এখনো ভয়’-এটি দৈনিক বাংলাদেশের প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, রাজধানীর মোহাম্মদপুর যেন আতঙ্কের এক জনপদ। কিছুতেই ঠেকানো যাচ্ছে না অপরাধীদের তৎপরতা। চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি থেকে শুরু করে মাদক কারবার-এমন কোনো অপরাধ নেই, যা মোহাম্মদপুরে নেই। সরকারের হাই অ্যালার্ট, পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, প্যাট্রলিং জোরদারের পরও অপরাধীদের তৎপরতা যেন কমছেই না। বাসিন্দারা এখনো ছিনতাইয়ের ভয় নিয়ে বাসার বাইরে পা বাড়ান।


আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, তালিকাভুক্ত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার পরেও অপরাধী না কমার পেছনে রয়েছে ভিন্ন কারণ। মোহাম্মদপুরের বেশির ভাগ এলাকায় বসবাস করে কয়েক লাখ উদ্বাস্তু। সেসব পরিবারের কিশোর ও যুবকরা বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপে নাম লেখিয়ে মোহাম্মদপুর জনপদকে ভয়ংকর করে তুলেছে। তাদের বিষয়ে পুলিশের কাছে কোনো তথ্য না থাকায় অনেকটাই অন্ধকারে থাকতে হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে। জানা যায়, দুই শীর্ষ সন্ত্রাসীর ছত্রছায়ায় চলছে নীরব চাঁদাবাজি। ছিঁচকে চোর-ছিনতাইকারীরাও মাদক কারবারে ঝুঁকে পড়ায় তাদের এ অপরাধ সাম্রাজ্য নিয়ে ভয় বাড়ছে জনমনে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সূত্র বলছে, বিশাল আয়তনই মোহাম্মদপুর এলাকার আইনশৃঙ্খলা অবনতির অন্যতম কারণ। পাশেই আদাবর থানা থাকলেও সেটির আয়তন মোহাম্মদপুর থানার তুলনায় ৩ ভাগের ১ ভাগ। এর মধ্যে মোহাম্মদপুরের অর্ধেক এলাকায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউকের) অনুমোদন ছাড়াই আবাসন গড়ে উঠছে। তুরাগ নদীর পারে যত্রতত্র বসতি গড়ে তুলেছে বিভিন্ন এলাকার নদী সিকস্তি মানুষ। বিশেষ করে ভোলার নদীভাঙন এলাকাগুলোর বসতি এখানে সবচেয়ে বেশি।

এ ছাড়াও কম ভাড়ার কারণে নির্মাণশ্রমিকসহ অনেক নিম্ন আয়ের মানুষ সেখানে বসতি গড়েছে। এই ঘনবসতিপূর্ণ বিশাল বস্তি এলাকাই এখন মোহাম্মদপুরের অপরাধ সাম্রাজ্যের প্রধান আতঙ্কের নাম। জানা যায়, এই এলাকা থেকে থানা-পুলিশ প্রতিদিন গড়ে ২৪ জন করে গ্রেপ্তার করছে। এ ছাড়া র‌্যাব ও ডিবির অভিযানেও উল্লেখযোগ্য হারে অপরাধীরা গ্রেপ্তার হচ্ছে। কিন্তু সুযোগসন্ধানী এই উদ্বাস্তু পরিবারের কিশোর অপরাধীরা কোনো কিছুকেই পরোয়া করছে না। হিরোইজম দেখাতে কোমরে চাপাতি ও অবৈধ অস্ত্র নিয়ে ঘুরছে তারা। আর যখনই সুযোগ পাচ্ছে পথচারীদের সর্বস্ব লুটে নিচ্ছে। মোহাম্মদপুর থানায় গ্রেপ্তার হওয়া মোট অপরাধীদের ৮০ শতাংশই এই উদ্বাস্তু বলে জানিয়েছে পুলিশ। মোহাম্মদপুর থানা সূত্র জানায়, বছিলা গার্ডেন সিটি, রিভারভিউ পয়েন্ট, রামচন্দ্রপুর, একতা হাউজিং, মোহাম্মদপুর ফিউচার, রাজধানী হাউজিং, শাহজালাল হাউজিং, বছিলা, রায়েরবাজার বধ্যভূমি, চাঁদ উদ্যান, নবীনগর হাউজিং, ঢাকা উদ্যোন, চন্দ্রিমা মডেল টাউন এলাকাই মোহাম্মদপুরের অপরাধীদের অভয়ারণ্য। এসব এলাকাজুড়েই উদ্বাস্তুদের বসবাস। সম্প্রতি বছিলা এলাকায় একটি পুলিশ ক্যাম্প করা হলেও অন্য এলাকাগুলো থাকছে অনেকটা নজরদারির বাইরে। সেখানে বসবাসকারীরা ওই সব এলাকার ভোটার না হওয়ায় কোনো তথ্যও নেই পুলিশের কাছে। ফলে বিভিন্ন অলিগলিতে ছিনতাই করা অফরাধীদেও গ্রেপ্তারেও বেগ পেতে হচ্ছে পুলিশকে। এ ছাড়াও মাদকের গডফাদারদের সবচেয়ে বড় হটস্পট জেনেভা ক্যাম্প। সেখানে প্রতিদিনই যেন মাদক গডফাদারদের নিত্যনতুন নাম সামনে আসে। রয়েছে আধিপত্য বিস্তারের লড়াইও।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন