হারারে টেস্টে প্রথম দিন শেষে চালকের আসনে জিম্বাবুয়ে

১৪০ রানে অলআউট বাংলাদেশ

হারারে টেস্টে প্রথম দিন শেষে চালকের আসনে জিম্বাবুয়ে

ফন্ট সাইজ:

টেস্টে সময়টা দারুণই কাটছিল বাংলাদেশের। ঘরের মাটিতে সবশেষ সিরিজে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করেছিল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। অথচ এই দলটাই কিনা জিম্বাবুয়ে সফরে গিয়ে প্রথম দিনেই খাবি খেলো।

হারারেতে রোববার (২৮ জুন) সিরিজের একমাত্র টেস্টেরপ্রথম দিনটিই বাজে কেটেছে লাল সবুজদের। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে মমিনুল হক, সাদমান ইসলাম ও নাজমুল হোসেন শান্ত ছাড়া কেউই দুই অঙ্কের ঘরে প্রবেশ করতে পারেননি। তাতে মাত্র ১৪০ রানে অলআউট হয়ে যায় দল। জবাব দিতে নেমে ১ ‍উইকেট হারিয়ে ১৩৬ রান তুলে নেয় জিম্বাবুয়ে। তারা যে বড় লিডের পথে হাঁটছে তাতে কোনো সংশয় নেই। এ ম্যাচ বাঁচাতে হলে বোলারদের চমক দেখানোর পাশাপাশি দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট হাতে কার্যকরী ইনিংস খেলতে হবে শান্তদেরও।

এর আগে বাংলাদেশের ইনিংসের শুরুটা ছিল হতাশাজনক। মাত্র ৬ রানেই ভেঙে যায় উদ্বোধনী জুটি। ১৭ বল মোকাবিলা করে মাত্র ২ রান করা মাহমুদুল হাসান জয় প্রথম ব্যাটার হিসেবে সাজঘরে ফেরেন।

এরপর সাদমান ইসলামের সঙ্গে জুটি বাঁধেন মুমিনুল হক। দুজনই ধীরে ধীরে ইনিংস গড়ার চেষ্টা করেন। উইকেটের চারদিকে শট খেলে রান তোলার পাশাপাশি চাপও সামাল দেন তারা। তবে ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেননি সাদমান। ৩৮ বলে ২০ রান করে দলীয় ৩৬ রানে আউট হন এই বাঁহাতি ওপেনার।

চার নম্বরে নেমে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত যোগ দেন মুমিনুলের সঙ্গে। শান্ত ছিলেন সতর্ক, অন্যদিকে মুমিনুল খেলেছেন কিছুটা স্বচ্ছন্দ ভঙ্গিতে। তাদের জুটিতে আর কোনো বিপদ হয়নি লাঞ্চ পর্যন্ত। প্রথম সেশন শেষে ২৫ ওভারে ২ উইকেটে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৭৬ রান।

বিরতির পরও দুজন আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং চালিয়ে যান। ধীরে ধীরে নিজের অর্ধশতকও পূর্ণ করেন মুমিনুল। তবে ফিফটির পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি তিনি। ৮১ বলে ৬০ রান করে দলীয় ১১৩ রানে বিদায় নেন। এরপরই বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপে শুরু হয় ধস।

মুমিনুলের বিদায়ের কিছুক্ষণ পরই ফিরে যান অধিনায়ক শান্তও। ৭৩ বল খেলে তার ব্যাট থেকে আসে ১৯ রান। এরপর আর কোনো ব্যাটার ইনিংসকে এগিয়ে নিতে পারেননি। মুশফিকুর রহিম ২১ বলে করেন ৯ রান, অমিত হাসান ১৫ বলে ৪ এবং তাওহিদ হৃদয় ১৬ বলে মাত্র ৩ রান করেন। শীর্ষ চার ব্যাটারের বাইরে আর কেউ দুই অঙ্কের রান স্পর্শ করতে পারেননি।

নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকা বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ৪৭.২ ওভারে ১৪০ রানেই অলআউট হয়ে যায়।

জিম্বাবুয়ের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন নিউম্যান নিয়ামহুরি, যিনি ৪টি উইকেট নেন। এছাড়া ব্লেসিং মুজারাবানি, রিচার্ড এনগারাভা ও ব্র্যাড ইভান্স প্রত্যেকে শিকার করেন ২টি করে উইকেট।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই দাপট দেখায় জিম্বাবুয়ের দুই ওপেনার ইনোসেন্ট কাইয়া ও বেন কারান। বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে তারা দ্রুত রান তুলতে থাকেন। উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৮৯ রান। ফিফটির কাছাকাছি পৌঁছে ৫১ বলে ৪২ রান করে আউট হন কারান।

এরপর ব্রেন্ডন টেইলর ক্রিজে এসে কাইয়ার সঙ্গে জুটি গড়েন। কাইয়া তুলে নেন নিজের অর্ধশতক এবং এরপরও রান তোলার গতি ধরে রাখেন। টেইলরও ছিলেন দায়িত্বশীল। দিনের বাকি সময়ে আর কোনো উইকেট হারায়নি সফরকারীরা।

প্রথম দিনের খেলা শেষে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ ১ উইকেটে ১৩৬ রান। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে তারা পিছিয়ে আছে মাত্র ৪ রানে, হাতে রয়েছে ৯টি উইকেট। ইনোসেন্ট কাইয়া ১০৮ বলে ৭৬ রানে এবং ব্রেন্ডন টেইলর ৪৫ বলে ১৭ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন