২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বরাদ্দকে একটি মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি জানিয়েছেন, মুদ্রানীতি ও ফিসক্যাল সাপোর্টসহ সব সুবিধা যোগ করলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে এটিই দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ। রোববার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
মন্ত্রী জানান, আগামী অর্থবছরের বাজেটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের জন্য ১৭ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা মোট বাজেটের ১ দশমিক ৮৫ শতাংশ। গত অর্থবছরের ১৬ হাজার ৯৫২ কোটি টাকার তুলনায় এটি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। বরাদ্দের সিংহভাগই রাখা হয়েছে উন্নয়ন কাজে। উন্নয়ন ব্যয় ১৭ হাজার ১৯২ কোটি ৮২ লক্ষ টাকা (৯৯.১২ শতাংশ) এবং পরিচালন ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫২ কোটি ২২ লক্ষ টাকা (০.৮৮ শতাংশ)। এর মাধ্যমে সরকার অবকাঠামো উন্নয়ন ও গবেষণাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে তিনি জানান।
মন্ত্রী আরো বলেন, আমরা পূর্ববর্তী সরকারের কাছ থেকে একটি বিধ্বস্ত বিদ্যুৎ খাত পেয়েছি। গত ১৫ বছরে এই মন্ত্রণালয়কে ধ্বংসের প্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তারা ৫৬ হাজার কোটি টাকার বকেয়া রেখে গেছে। এমনকি বেসরকারি খাতের বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে এমনভাবে চুক্তি করা হয়েছে যে, সেগুলো পুনর্বিবেচনা করতে গেলে ‘সভরেন গ্যারান্টি এনক্যাশ’ করার হুমকি দেয়া হয়। তবে আমরা সব পক্ষকে নিয়ে উইন-উইন বেসিসে সমাধান করার চেষ্টা করছি।
ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সোলার পাওয়ারের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ও ক্যাপাসিটি ব্যাংকের ওপর থেকে যাবতীয় শুল্ক তুলে নেয়া হয়েছে। ২০৩১ সাল পর্যন্ত এই খাত থেকে আয়ের ওপর ট্যাক্স হলিডে সুবিধা দেয়া হয়েছে। এর ফলে ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সোলার পাওয়ার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সহজ হবে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এতে উৎসাহিত হবে এবং দেশ সোলার ও উইন্ড পাওয়ারে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে।
তিনি বলেন, ইভি খাতে বাস আমদানিতে ডিউটি ফ্রি সুবিধা দেয়া হয়েছে এবং অন্যান্য যানবাহনের ট্যাক্স কমানো হয়েছে। এতে জ্বালানি তেলের আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে।
মন্ত্রী বলেন, বঙ্গোপসাগরে জ্বালানি তেল ও গ্যাস উত্তোলনের জন্য আন্তর্জাতিক বিডিং ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী নভেম্বরের মধ্যে এটি চূড়ান্ত করে দেশীয় প্রতিষ্ঠান ‘বাপেক্স’ ও আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলোকে সাথে নিয়ে কাজ শুরু হবে। এছাড়া দেশের পুরোনো বিদ্যুৎ গ্রিডগুলোকে ‘স্মার্ট গ্রিড’-এ রূপান্তরের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। পাকিস্তানে আমলে তৈরি পুরোনো রিফাইনারির পরিবর্তে একটি অত্যাধুনিক সেকেন্ড রিফাইনারি তৈরির কারিগরি টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে বলেও তিনি সংসদকে জানান।
ভুটান, নেপাল ও ভারতের সাথে সমন্বিতভাবে জলবিদ্যুৎ আমদানির পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সস্তায় বিদ্যুৎ আমদানি করে শিল্প-কারখানায় সরবরাহ করা হবে। এতে উৎপাদন খরচ কমবে এবং মিল-কারখানা সচল থাকবে।
