ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের মামলায় গ্রেপ্তার আসামি আনোয়ার হোসেনেকে দ্বিতীয় দফায় দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম ইউনিটের এসআই জহিরুর ইসলাম জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনোয়ারের পাঁচদিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। এর আগে, গত ২২শে জুন দৈনিক প্রথম আলোর কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় করা মামলায় তাকে তিনদিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়।
রিমান্ড শুনানি শেষে আদালত থেকে কারাগারে যাওয়ার সময় আনোয়ার বলেন, আমার অপরাধ আমি জুলাইযোদ্ধা। আমার বাড়িঘর ভাঙচুর করছে বিএনপি সভাপতি নাজমুল ইসলাম মিঠু। আমারে যখন মারে দৌড়ে ঘরে গিয়ে পালাই। হাজারখানেক লোক নিয়ে আমার বাড়িঘর ঘেরাও করে। মিঠু বলে, ওকে মারতেই হবে। ওকে মারার অর্ডার আছে। মিঠু এ্যানী চৌধুরীর খাস লোক। মিঠু আমারে মারধর করলে যখন ঘরে দৌড়ে পালাই, তখন সে এক হাজার লোক নিয়ে বাড়ি ঘেরাও করে। তারা মনে করে কোনো জুলাইযোদ্ধা দেশে থাকবে না। আমাকে দিয়ে তারা শুরু করছে। আমি এ্যানী চৌধুরীর যত অনিয়ম, দুর্নীতি সব জাতির কাছে তুলে ধরছি। আমি আওয়ামী লীগের আমলেও অন্যায়-দুর্নীতি তুলে ধরছি। আওয়ামী লীগের আমলে হামলার শিকার হয়েছি, মাইরের শিকার হয়েছি। বিএনপি আমলে আরও বেশি হয়েছি। বিএনপি আমারে অতিরিক্ত মারছে।
বিএনপি আমার মা, বউ-ভাই সবাইরে মারছে। ভাইয়ের ঘর ভাঙচুর করছে। লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেনকে সংশ্লিষ্ট জেলার মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। দৈনিক প্রথম আলোর কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের মামলায় গত ২২শে জুন তাকে তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এদিন ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুরের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে পাঁচদিনের রিমান্ড চায় পুলিশ।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, গত বছরের ১৯শে ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ১২টা ৩৫ মিনিটে লাঠিসোটা ও দাহ্য পদার্থ নিয়ে একদল হামলাকারী উস্কানিমূলক সেøাগান দিয়ে ডেইলি স্টার ভবনে প্রবেশ করে। এ সময় তারা প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ওপর শারীরিকভাবে আক্রমণ করে। এ সময় তারা নগদ অর্থ ও বিভিন্ন সরঞ্জাম লুট করাসহ ভবনের একাধিক তলায় আগুন ধরিয়ে দেয়। পাশাপাশি অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও সিসিটিভিসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নষ্ট করে ফেলে। এতে পাঁচ কোটি টাকা মূল্যের ২০০টির বেশি ইলেকট্রনিক ডিভাইস এবং ৩৫ লাখ টাকা নগদ অর্থ লুট করা হয়। এতে সবমিলিয়ে প্রায় ৪০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। এ ঘটনায় ২২শে ডিসেম্বর দ্য ডেইলি স্টারের হেড অব অপারেশনস মিজানুর রহমান তেজগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেন।
