নতুন সরকার প্রতিটি দেশের সঙ্গে লাভজনক সম্পর্ক গড়তে চায়Ñ এমন মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, আমরা চাইÑ পারস্পরিক অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কেউ হস্তক্ষেপ করবে না এবং আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা হবে। গত রোববার ও সোমবার দু’দিনে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। ড. খলিলুর রহমান বলেন, গত রোববার থেকে আমরা বাংলাদেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে বৈঠক শুরু করেছি। আমরা তাদের কাছে আমাদের সরকারের বৈদেশিক নীতির আউটলাইন তুলে ধরেছি। আমাদের লক্ষ্য হলো, বাংলাদেশ ফার্স্ট। সবার উপরে থাকবে বাংলাদেশ। তিনি আরও বলেন, আমরা স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবো, পরস্পরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবো না এবং আমাদের নীতিমালা হবেÑ পারস্পরিক স্বার্থ ও জাতীয় মর্যাদার ওপর ভিত্তি করে। আমরা প্রতিটি দেশের সঙ্গে পারস্পরিক লাভজনক সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাই। এখন পর্যন্ত সৌদি আরব, চীন, ভারত, পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। আমি লক্ষ্য করেছি, তারা আমাদের সরকারের প্রতি গভীর আস্থা এবং ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রবল ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
সীমান্তে প্রাণক্ষয় নিয়ে ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ পর্যন্ত যে সাক্ষাৎগুলো হয়েছে, সেগুলো সৌজন্যমূলক-বন্ধুত্বমূলক। এরপর আমরা সুনির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো এবং সেজন্য তো অনেকটা সময় পড়েই আছে। রোববার সকালে ঢাকাস্থ সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকের মধ্যদিয়ে নতুন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলের সৌজন্য সাক্ষাৎ পর্ব শুরু হয়। ওইদিন একে একে আসেন চীনের রাষ্ট্রদূত এবং ভারত ও পাকিস্তানের হাইকমিশনার। সোমবার দুপুরে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। এরপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারের নেতৃত্বে ইউরোপীয় জোটভুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরা।
সম্পর্ক জোরদারে আশাবাদী মার্কিন রাষ্ট্রদূত: পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। সেইসঙ্গে তিনি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রকে আরও নিরাপদ, শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করতে যৌথভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে প্রথম সৌজন্য বৈঠক শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেয়া এক পোস্টে এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।
বাংলাদেশের সঙ্গে নতুন অধ্যায় শুরুর অপেক্ষায় ইইউ: রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার
বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু করার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান। মাইকেল মিলার বলেন, ইইউ বাংলাদেশের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে রয়েছে। ইইউ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার, সবচেয়ে বড় বিনিয়োগকারী এবং একটি প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। ইইউ দূত জানান, আলোচনায় উন্নয়ন সহযোগিতা, মানবিক বিষয় এবং অভিবাসনসহ দ্বিপক্ষীয় সম্পৃক্ততার বিস্তৃত ক্ষেত্র অন্তর্ভুক্ত ছিল। নতুন সরকারের সঙ্গে অগ্রাধিকারের বিষয়ে মিলার অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে শুরু হওয়া সংস্কারগুলো অব্যাহত রাখার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্কের সম্ভাবনাকে পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে চাই।
প্রস্তাবিত পার্টনারশিপ অ্যান্ড কো-অপারেশন এগ্রিমেন্ট (পিসিএ) প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, আলোচনাগুলো ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে এবং চুক্তিটি প্রায় চূড়ান্ত হওয়ার পথে। চুক্তিটি শিগগিরই স্বাক্ষরিত হতে পারে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। বৈঠকে মানবাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং বাক-স্বাধীনতা সম্পর্কিত বিষয়গুলোও আলোচনা হয়েছে। মৌলিক স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বলে যোগ করেন তিনি।
সার্ক পুনরুজ্জীবিত করার প্রতিশ্রুতির কথা জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
সার্ক পুনরুজ্জীবিত করতে বাংলাদেশের অটল সমর্থন এবং দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধির অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি অর্জনের জন্য সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি সার্কের মহাসচিব মো. গোলাম সারওয়ারের সঙ্গে বৈঠকে তিনি সার্বভৌম সাম্য, আঞ্চলিক অখণ্ডতা, রাজনৈতিক স্বাধীনতা, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং সদস্য দেশগুলোর জনগণের পারস্পরিক সুবিধাসহ সার্ক সনদে উল্লিখিত নীতিমালার প্রতি অবিচল প্রতিশ্রুতিতে বাংলাদেশের দৃঢ় প্রত্যয়ের বার্তা দেন।
সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় প্রতিমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন, দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সহযোগিতার ধারণাটি বাংলাদেশ প্রথম ১৯৮০ সালের গোড়ার দিকে প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান জনগণের কল্যাণ, জীবনযাত্রার মান উন্নত এবং সম্মিলিত স্বনির্ভরতা জোরদারের জন্য প্রস্তাব করেছিলেন। প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং ১৯৮৫ সালের ডিসেম্বরে সার্কের প্রথম শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজক হিসেবে, বাংলাদেশ ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক গতিশীলতার মধ্যে সার্কের প্রাসঙ্গিকতা বজায় রাখতে সদস্য দেশগুলোর মূল্যবান অবদানকে স্বীকৃতি দেয়। শামা ওবায়েদ ইসলাম আরও বলেন, সার্ক অভিন্ন আঞ্চলিক মূল্যবোধকে লালন করে চলেছে এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ, দারিদ্র্যবিমোচন, বিদ্যুৎ, জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্য নিরাপত্তা, শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য, সংস্কৃতি, মানুষে মানুষে যোগাযোগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা প্রচার অব্যাহত রেখেছে।
প্রতিটি দেশের সঙ্গে লাভজনক সম্পর্ক গড়তে চাই: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
স্টাফ রিপোর্টার
২৪ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
