ব্রাজিলের সামুরাই চ্যালেঞ্জ

ব্রাজিলের সামুরাই চ্যালেঞ্জ

ফন্ট সাইজ:

হিউস্টনে যা গরম! হাঁসফাঁস অবস্থা। শনিবার ব্রাজিল দল যখন সেখানে পৌঁছালো, থার্মোমিটারে হিট ইনডেক্স উঠে গেছে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। তীব্র গরম তোয়াক্কা না করেই ব্রাজিলের টিম হোটেলের সামনে ভিড় জমালেন শত শত ভক্ত-সমর্থক। প্রিয় তারকাদের এক ঝলক দেখাই যেন তাদের কাছে স্বপ্নপূরণের মুহূর্ত।

আসলে স্বপ্ন দেখা যতটা সহজ, পূরণের পথ ততটাই কঠিন। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ২৪ বছর ধরে ‘হেক্সা’ জেতার স্বপ্নে বিভোর। কিন্তু কখনো কোয়ার্টার, কখনো সেমিতে থেমে যেতে হচ্ছে তাদের। এবার নকআউটের শুরুতে সেলেসাওদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে ‘জায়ান্ট কিলার’খ্যাত জাপান। হিউস্টনে শেষ ৩২ রাউন্ডের লড়াইটা শুরু হবে রাত ১১টায়। আর জাপানকে মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই জবাব দিতে চান ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলোত্তি। তাই তো সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তার আর্জি, ‘শান্ত থাকুন।’ পরিসংখ্যানে ব্রাজিল যোজন-যোজন এগিয়ে। কিন্তু ফুটবলে পরিসংখ্যানের বাইরেও একটা হিসাব থাকে। গ্রুপ পর্বে নেদারল্যান্ডস, সুইডেনের মতো দলের সঙ্গে সমান তালে লড়ে জাপান সেটা প্রমাণ করেছে। জায়ান্ট বধে সিদ্ধহস্ত সামুরাই ব্লুরা। গত আসরে গ্রুপ পর্বে জার্মানি ও স্পেনের মতো দলকে কাঁদিয়েছিল জাপান। সাবেক দুই বিশ্বচ্যাম্পিয়নকে পেছনে ফেলে হয়েছিল গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন।

গত অক্টোবরে প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিলের বিপক্ষে প্রথম জয়ের স্বাদ নেয় জাপান। সেলেসাওদের ৩-২ গোলে হারিয়ে দেয় তারা। ওই জয় থেকে অনুপ্রেরণা খুঁজছে জাপান। কোচ হাজিমে মরিয়াসু স্পষ্ট করেই বলেছেন, ‘গতবার আমরা ব্রাজিলকে দেখিয়েছি যে আমরা সহজ প্রতিপক্ষ নই। এটা আমাদের জন্য বড় অগ্রগতি। ব্রাজিল বিশ্বের অন্যতম সেরা দল এবং আমরা তাদের সম্মান করি। কিন্তু ম্যাচে কী হবে, কেউ জানে না। আমাদেরও জেতার সুযোগ থাকবে।’
ব্রাজিলও প্রস্তুত। টুর্নামেন্টের শুরুটা ড্র দিয়ে হলেও কোচ কার্লো আনচেলোত্তি দল গুছিয়ে নিয়েছেন। পরের দুই ম্যাচ দাপট দেখিয়েই জিতে নেয় ব্রাজিল। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র প্রতি ম্যাচেই গোল পাচ্ছেন, গোল করাচ্ছেন। ছন্দে ফিরেছেন তার আক্রমণভাগের সঙ্গী ম্যাথিয়াস কুনহাও। আর নেইমারের ফেরা শক্তি ও আত্মবিশ্বাস দুটোই বাড়িয়েছে। যদিও জাপানের বিপক্ষে তার
শুরুর একাদশে থাকা নিশ্চিত নয়। আলচেলোত্তি সাধারণত ম্যাচের আগমুহূর্তে স্কোয়াড চূড়ান্ত করেন।

স্কটল্যান্ড ম্যাচের আগে কোচ জানান, নেইমার খেলার জন্য প্রায় ফিট। এরপর ম্যাচের ৭৬ মিনিটে কুনহার বদলি হিসেবে নামান নেইমারকে। তার ৯৮১ দিনের অপেক্ষার অবসান ঘটে। আবেগাপ্লুত নেইমার চোখে পানি ধরে রাখতে পারেননি। জাপানের বিপক্ষে নিশ্চয়ই আরেকবার কাঁদতে চাইবেন না তিনি। সুযোগ পেলে প্রিয় শিকারকে গুঁড়িয়েই দিতে চাইবেন ব্রাজিলের সর্বকালের সেরা গোলদাতা। ব্রাজিলের জার্সিতে এখন পর্যন্ত ১২৯ আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৭৯ গোল করেছেন নেইমার। সবচেয়ে বেশি ৯ গোল জাপানের বিপক্ষে। তার প্রিয় শিকারের তালিকায় জাপানের পরে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র (৫), পেরু (৫), ক্রোয়েশিয়া (৪), বলিভিয়া (৪), দক্ষিণ আফ্রিকা (৪)। স্কটল্যান্ড ম্যাচে আলোচনায় আসেন ১৯ বছর বয়সী উইঙ্গার রায়ানও। রাফিনহা ইনজুরিতে পড়ায় রায়ানকে সুযোগ দেন আনচেলোত্তি। নেমেই পেলের পর বিশ্বকাপে সর্বকনিষ্ঠ ব্রাজিলিয়ান হিসেবে অ্যাসিস্টের রেকর্ড গড়েন রায়ান। জাপানের বিপক্ষেও আলো ছড়াতে চান তিনি। বলেন, ‘আমরা জানি জাপান অনেক শক্তিশালী। তবে তাদের হারাতে নিজেদের সর্বস্বই উজাড় করে দেবো।’

নজর থাকবে ভিনির ওপরেই
বিশ্বকাপে নেইমারহীন ব্রাজিলকে পথ দেখিয়েছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। তিন ম্যাচে চার গোল করে গোল্ডেন বুটের দাবিটা জোরালো করেছেন তিনি। জাপানের বিপক্ষে ভিনিই হবেন সেলেসাওদের তুরুপের তাস। আর রিয়াল মাদ্রিদে নতুন বস হোসে মরিনহোর কাছ থেকে ইতিমধ্যে সেরার তকমাও পেয়ে গেছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। শিষ্যকে নিয়ে মরিনহোর মূল্যায়ন, ‘ভিনিসিয়ুস নিজেই একটা ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিতে পারে। সে ইতিমধ্যেই বড় খেলোয়াড়। কিন্তু আরও বড় হওয়ার সব গুণাবলি তার মধ্যে আছে।’

হেড টু হেড
জাপানের বিপক্ষে ব্রাজিলের হেড টু হেড রেকর্ডটা বড্ড একপেশে। ১৪ ম্যাচের ১১টিতেই জয় সেলেসাওদের। হার মাত্র একটি। বিশ্বকাপে একবারই মুখোমুখি হয়েছিল দু’দল। ২০০৬ সালের গ্রুপ পর্বে জাপানকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দেয় ব্রাজিল। ম্যাচে জোড়া গোল করেন রোনালদো নাজারিও ডি লিমা।

ব্রাজিলের জয় ১১,  জাপানের জয় ১,  ড্র ২।
        

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন