বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের মহালড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে ৫ বারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ও এশিয়ার পরাশক্তি জাপান। মাঠের লড়াই শুরুর আগে রণকৌশল বিশ্লেষণে মেতেছেন ফুটবলবোদ্ধারা। এই হাইভোল্টেজ ম্যাচ নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার মোহাম্মদ ওয়ালী ফয়সাল বলেন, ‘নিঃসন্দেহে ব্রাজিল সব দিক থেকেই জাপানের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। দলের সামগ্রিক সক্ষমতা, ব্যক্তিগত দক্ষতার মান কিংবা কোচের কৌশল- সবকিছুতেই লাতিন আমেরিকার দলটি এগিয়ে। তবে এশিয়ার শক্তি জাপান দলটি বেশ পরিকল্পিত ফুটবল খেলছে। তাদের হারানোর কিছু নেই বলেই তারা মাঠে অনেকটা নির্ভার হয়ে নামবে এবং এই বিষয়টিই ব্রাজিলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।’ যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য এই ম্যাচে শক্তির বিচারে ব্রাজিল এগিয়ে থাকলেও জাপানকে হালকাভাবে নেয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে মনে করেন ফয়সাল।
ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের আক্রমণভাগের বিশ্বমানের বৈচিত্র্য। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র রয়েছেন অবিশ্বাস্য ফর্মে। গ্রুপ পর্বের ৩ ম্যাচে ৪ গোল করে তিনি টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা গোলদাতা। এই মাদ্রিদ ফরোয়ার্ডের গতি জাপানের জন্য বড় পরীক্ষা হতে পারে বলে মনে করেন ওয়ালী ফয়সাল। সাবেক এই ডিফেন্ডার বলেন, ‘ভিনিসিয়ুসের গতি এবং ওয়ান-অন-ওয়ান ড্রিবলিংয়ের ক্ষমতা যেকোনো ডিফেন্সকে ভেঙে দেয়ার মতো। তাকে আটকাতে জাপানি ডিফেন্ডারদের পজিশন ছাড়তে হবে, যা ব্রাজিলের অন্য ফরোয়ার্ডদের জন্য বাড়তি জায়গা তৈরি করে দেবে। তাছাড়া নেইমার যেকোনো মুহূর্তেই ম্যাচের চিত্র বদলে দিতে পারেন। এছাড়াও আলিসন বেকারের মতো বিশ্বমানের গোলরক্ষক ব্রাজিলের গোলপোস্ট আগলে রাখছেন। তিনি যেকোনো আক্রমণ নস্যাৎ করতে সক্ষম।’
অন্যদিকে জাপানের প্রধান শক্তি হলো দলগত ঐক্য এবং গতিশীল কাউন্টার-অ্যাটাক। কোচ হাজিমে মোরিয়াসুর শিষ্যরা মাঠের প্রতিটি প্রান্তে সুশৃঙ্খল ফুটবল উপহার দেয়। মাঠের লড়াইয়ে লাতিন পরাশক্তিদের হারিয়ে দেয়ার মানসিকতা জাপানের রয়েছে। গত বছরের আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিলকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথম জয়ের স্বাদ পেয়েছিল এশিয়ার দলটি। এই ঐতিহাসিক জয় ব্লু সামুরাইদের মানসিকভাবে এগিয়ে রাখবে। ফয়সাল মনে করেন, জাপানের রক্ষণভাগ থেকে চোখের পলকে প্রতি-আক্রমণে চলে যাওয়ার ক্ষমতা ব্রাজিলকে ভোগাতে পারে। তিনি বলেন, ‘জাপানিরা মাঝমাঠে হাই-প্রেসিং করে প্রতিপক্ষের পা থেকে বল কেড়ে নিতে ওস্তাদ। তারা বড় দলের বিপক্ষে শক্ত রক্ষণব্যুহ তৈরি করে।’ জাপানের বেশ কয়েকজন ফুটবলার ব্রাজিলের উদ্বেগের কারণ হতে পারেন। ফেইনুর্দের গোলমেশিন আয়াসে উয়েদা ডাচ লীগে ২৫ গোল করে অবিশ্বাস্য ফর্মে আছেন। এছাড়াও রিয়াল সোসিয়েদাদের উইঙ্গার তাকেফুসা কুবো এবং সেল্টিকের দাইজেন মায়েদার গতিশীল ড্রিবলিং ব্রাজিলের ডিফেন্সকে এলোমেলো করতে পারে। কেইতো নাকামুরা এবং রিতসু দোয়ানও আক্রমণভাগে ভয়ংকর হতে পারেন।
ওয়ালী ফয়সাল জাপানের এই বিপজ্জনক স্কোয়াড নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘উয়েদা জাপানের প্রধান গোল-স্কোরার এবং ডি-বক্সের ভেতর তার চমৎকার পজিশনিং ও ফিনিশিং ব্রাজিলের ডিফেন্ডারদের বড় পরীক্ষায় ফেলবে।’ মাঝমাঠে ওয়াতারু এন্দো এবং দাইচি কামাদার সৃজনশীলতা খেলা গড়ে দিতে দারুণ ভূমিকা রাখবে। ইউরোপ কাঁপানো ডিফেন্ডার তাকেহিরো তোমিয়াসু রক্ষণ সামলাতে বড় ভূমিকা রাখবেন।
তারা ব্রাজিলের বিশ্বমানের আক্রমণ নস্যাৎ করার জন্য মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়বে। নকআউট পর্বের এক ম্যাচের সমীকরণ সব সময়ই রোমাঞ্চকর ও চাপযুক্ত হয়। হারলেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ের ভীতি ব্রাজিলের মতো বড় দলের উপর বাড়তি মানসিক চাপ সৃষ্টি করবে। অতীতের এক বিশ্বকাপে জাপানকে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়েছিল লাতিন আমেরিকার দলটি। তবে মাঠের লড়াইয়ে অতীত ইতিহাস কোনো ম্যাজিক দেখায় না বলে মনে করেন ফয়সাল. এই স্নায়ুচাপ সামলানো প্রসঙ্গে অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার ফয়সাল বলেন, ‘বিশ্বকাপের চাপ অনেক বেশি, তবে ব্রাজিল নামটিই ফুটবলের একটি বড় ব্র্যান্ড। খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা ও বিশ্বমানের কোচের কৌশল সেই চাপ জয় করতে দারুণ সাহায্য করবে।’
