সিংহের মুখোমুখি ডাচ্‌রা

সিংহের মুখোমুখি ডাচ্‌রা

ফন্ট সাইজ:

‘মরক্কোর বিপক্ষে আমরা ফেভারিট কি না, নিশ্চিত নই’- নেদারল্যান্ডস কোচ রোনাল্ড কোমানের সরল স্বীকারোক্তিই বলে দেয় অ্যাটলাস লায়নরা কতোটা সমীহ জাগানিয়া দল। কাগজ-কলম আর ইতিহাসের ভারে হয়তো ডাচ্‌রা এগিয়ে। ২০১০ ফাইনালের পর বিশ্বকাপে টানা ১৪ ম্যাচ অপরাজিত তারা। ১২০ মিনিটেও হারের নজির নেই। কিন্তু মরক্কোরও আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন। এমনকি ফিফা র‌্যাংকিংয়ে ডাচদের চেয়ে বরং এক ধাপ এগিয়ে রয়েছে মোহাম্মদ ওয়াহাবির শিষ্যরা (৬)। গতবারের সেমিফাইনালিস্টদের সম্মান জানিয়েই তাই নেদারল্যান্ডস নামছে মাঠে। আগামীকাল সকাল ৭টায় এক ধ্রুপদী লড়াইয়ের ডালি সাজাচ্ছে এস্তাদিও মনতেরে।

যে লড়াইয়ে জয়ীরা পাবে শেষ ষোলোর টিকিট। আর রাউন্ড অব ৩২-তেই থামবে পরাজিতদের যাত্রা। গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচে কেউ হারেনি। সাত পয়েন্ট নিয়ে ‘এফ’ গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হয় নেদারল্যান্ডস। জাপানের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র দিয়ে শুরু করলেও পরে সুইডেনকে ৫-১ ও তিউনিসিয়াকে ৩-১ গোলে উড়িয়ে দেয় রোনাল্ড কোমানের দল। সমান ৭ পয়েন্ট নিয়ে ‘সি’ গ্রুপে রানার্সআপ হয় মরক্কো। হাকিমি-সাইবারিরা ব্রাজিলের কাছ থেকে পয়েন্ট কেড়ে নেন। স্কটল্যান্ড ও হাইতিকে হারাতে তেমন বেগ পেতে হয়নি। মরক্কো কোচ এরই মধ্যে বলে রেখেছেন, ‘নকআউটে সামনে যেই আসুক আমরা ভীত নই।’ ডাচ কোচ কোমান তাই হালকাভাবে নিচ্ছেন না মরক্কোকে। তিনি বলেন, ‘তারা মানসম্পন্ন খেলোয়াড়ে ভরা একটি দল। আসল পরীক্ষাটা এখনই।’ ডাচ অধিনায়ক ভার্জিল ভ্যান ডাইকও মরক্কোকে যথেষ্ট সমীহ করছেন। তিনি বলেন, ‘ওরা টেকনিক্যালি অসাধারণ একটি দল। আমরা জানি, সামনে কঠিন এক প্রতিপক্ষ অপেক্ষা করছে।’

মরক্কো বাধা টপকাতে কী হতে পারে ডাচদের কৌশল? কোমানের নেদারল্যান্ডস সাধারণত ৪-৩-৩ ছকে খেলে। এই ফরমেশনের প্রাণ ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং। মাঝমাঠ থেকে খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ, আক্রমণ গড়ে তোলা কিংবা প্রয়োজন অনুযায়ী খেলার ছন্দ বদলে দেওয়ার দায়িত্ব তার কাঁধে। ডি ইয়ংকে সহায়তা করতে আছেন রায়ান গ্রাভেনবের্খ ও তিজানি রেইনডার্স। আর সামনে ব্রায়ান ব্রবির শক্তিশালী উপস্থিতি প্রতিপক্ষের দুই সেন্টারব্যাককে ব্যস্ত রাখে, ফলে উইঙ্গারদের জন্য জায়গা তৈরি হয়। তবে ডাচ আক্রমণের সবচেয়ে বড় অস্ত্র ডান প্রান্ত। ডেনজেল ডামফ্রিস প্রায় উইঙ্গারের মতোই ওপরে উঠে খেলেন। তার ওভারল্যাপিং রান, বক্সে ঢুকে পড়া এবং নিখুঁত ক্রস নেদারল্যান্ডসের আক্রমণের ধার বাড়িয়ে তোলে। কর্নার কিংবা ফ্রি-কিকেও ভার্জিল ফন ডাইক, জান পল ফন হেকে ও ব্রবি আকাশের লড়াইয়ে ভয়ংকর।
তবে এই আক্রমণাত্মক মানসিকতাই কখনো কখনো ডাচদের দুর্বলতা হয়ে দাঁড়ায়।

ফুলব্যাকরা ওপরে উঠে গেলে তাদের পেছনে বড় জায়গা ফাঁকা পড়ে। জাপান, সুইডেন ও তিউনিসিয়া তিন দলই সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল আদায় করে নিয়েছিল। ফলে বলের দখল নেওয়ার চেয়ে দ্রুত ট্রানজিশন আর কাউন্টার অ্যাটাকই হতে পারে মরক্কোর সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র। ব্রাহিম দিয়াজ, বিলাল আল খান্নুস কিংবা ইসমাইল সাইবারির গতি সেই পরিকল্পনায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

আর মরক্কো যদি ডি ইয়ংকে সময় ও জায়গা না দেয়, তাহলে ডাচদের আক্রমণের ধার অনেকটাই কমে যেতে পারে। আবার মাঝমাঠে বল হারালে মুহূর্তেই বিপদে পড়তে পারে আটলাস লায়ন্সরা। তাই আইয়ুব বুয়াদ্দি, নিল আল আইনাউই ও আজেদ্দিন উনাহিদের দায়িত্ব হবে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা। ফর্মে থাকা সাইবারির ভূমিকা হবে সাইলেন্ট কিলারের মতো। হাকিমি-দিয়াজদের ভিড়ে খুব বেশি আলোচনায় না থাকলেও গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচেই গোল পেয়েছেন এই স্ট্রাইকার।

হেড টু হেড
এখন পর্যন্ত মাত্র তিনবার মুখোমুখি হয়েছে মরক্কো-নেদারল্যান্ডস। দুই জয়ে এগিয়ে রয়েছে ডাচরা। অন্যদিতে জিতেছে মরক্কো। বিশ্বকাপে এটি তাদের দ্বিতীয় সাক্ষাত। যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত ১৯৯৪ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে প্রথমবার মরক্কোর মুখোমুখি হয় নেদারল্যান্ডস। ডেনিস বার্গক্যাম্প ও ব্রায়ান রয়ের গোলে ডাচরা জেতে ২-১ ব্যবধানে। ৩২ বছর উত্তর আমেরিকায় দ্বিতীয় সাক্ষাতে কি সেই বদলা নিতে পারবে মরক্কো? দেখা যাক, উত্তর তোলা রইলো সময়ের হাতে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন