তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করতে খুব দ্রুত সম্ভাব্যতা জরিপ শেষ করা হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী। চীনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাষ্ট্রীয় সফরকালে তার সফরসঙ্গী পানিসম্পদ মন্ত্রী গতকাল গণমাধ্যমের কাছে সফরের বিষয়ে আলাপকালে এ কথা জানান। তিনি বলেন, তিস্তায় একটা ফ্যাসিলিটি স্টাডির ব্যাপারে চীন সম্মত হয়েছে, আমরা যৌথভাবে সেই সম্মতিতে একত্রিত হয়ে সেই স্টাডিটা কমপ্লিট করবো। খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে আমরা স্টাডিটাকে কমপ্লিট করবো বলে আশা করছি।
পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, সামগ্রিক নদী ব্যবস্থাপনায় অন্যান্য যে সকল নদী রয়েছে, সেগুলোর জন্য আমরা তাদের থেকে সহযোগিতা চেয়েছি, অনেকগুলো নদীর সঙ্গে তাদের যে সম্পৃক্ততা সেগুলো তো আমরা এডজাস্ট করবোই। তার পাশাপাশি তিস্তার ব্যাপারে আমাদেরকে চীন যে সহযোগিতা দেবেন, এর ভিত্তিতে আমরা খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে আমরা আমাদের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেবো কবে নাগাদ হবে, খুব শিগগিরই তিস্তার যে পরিকল্পনাÑ এই পরিকল্পনাটা আমরা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেবো। সেটার জন্য ইনশাআল্লাহ্ এই বাজেটেই যেন কাজ করতে পারি, সেই দিকটাকে আমরা বিশেষভাবে নজর দিয়েছি।
চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠকের কথা উল্লেখ করে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী বলেন, তিস্তার ব্যাপারে আমাদের প্রধানমন্ত্রী কয়েকবার আলোচনা করেছেন। ইভেন চীনের প্রেসিডেন্টের সামনে, চীনের প্রধানমন্ত্রীর সামনে তিস্তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। চীনের সাইডে সেখানকার ওয়াটার রিসোর্স মিনিস্টার ছিলেন এবং আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে অন্যান্য মন্ত্রী এবং উপদেষ্টামণ্ডলী ছিলেন। সেখানে ডেলিগেটস যারা ছিলেন সবার মধ্যে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, তিস্তার জন্য আমাদের যে দীর্ঘদিনের অপেক্ষা-চাওয়া, তিস্তা অববাহিকায় যেখানে আমাদের হাজার হাজার, লাখ লাখ মানুষ সেখানে দীর্ঘদিন থেকে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। এর থেকে উত্তরণে আমাদেরকে একটা বাস্তবের রূপ নিয়ে যাওয়া খুব জরুরি ছিল বিধায় উনাদের (চীনে) একটা টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স প্রয়োজন। সেখানে একটা ফ্যাসিলিটি স্টাডিং ব্যাপারে উনারা (চীন) সম্মত হয়েছেন।
পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, চীনের সঙ্গে আমাদের বাংলাদেশের একটা দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। ১৯৭৬ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তার হাত ধরেই এই সম্পর্কটি স্থাপন হয়েছিল। তিনি তার জীবদ্দশায় দুইবার চীনে এসেছিলেন। পরবর্তীতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ৭ বার চীন সফর করেন। তার মধ্যদিয়েই সম্পর্কটা আরও বেশি গভীর হয়েছিল বিধায় আমাদের চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের যে একটা ধারাবাহিকভাবে সম্পর্ক এত উন্নত, এটা তারা ফিল করে আমরাও সেটাকে বেশি অনার করি।
গত ২১শে জুন প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমে মালয়েশিয়া এবং পরে চীন সফর করেন। চীনের চারদিনের সফরের মধ্যে দুইদিন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে তালিয়ানে। এরপর বুধবার বিকালে প্রধানমন্ত্রী চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে যান।
