ক্লাব ফুট বা বাকা পা

ক্লাব ফুট বা বাকা পা

ফন্ট সাইজ:

মানব শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হচ্ছে পা। যার মাধ্যমে আমরা স্বাভাবিক চলাফেরা করতে পারি। যতক্ষণ পর্যন্ত এটা কোন রোগ বা আঘাতের সম্মুখীন না হয়, ততক্ষণ স্বাভাবিক চলাফেরা সম্ভব। কিন্তু যখন কোন রোগ বা আঘাতের দ্বারা পা আক্রান্ত হয়, তখন আর শারীরিক চলাফেরা সম্ভব নয়। ক্লাব ফুট এমন একটি রোগ যার দ্বারা স্বাভাবিক চলাফেরা সম্ভব নয়।

ক্লাব ফুট কি:
ক্লাব ফুট বা কনজেনিটাল টেলিপাস ইকুইনোভেরাস কে আমরা বাঁকা পা নামে চিনি।টেলি পাস অর্থ পায়ের গোড়ালি বা পাতা এবং ইকুইনোভেরাস অর্থ পা ভেতরের দিকে বাকানো। একটি সাধারণ একটি জন্মগত সমস্যা। এটি পায়ের পাতা ও গোড়লির অস্বাভাবিক গঠন। সমস্যাটি একবার দুই পায়ের হতে পারে। তবে যে শিশুরা এই সমস্যা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে তাদের অর্ধেকের দুই পায়ে এর সমস্যা নিয়ে জন্মায়। জন্ম পরবর্তী আঘাত হতে এ সমস্যাটি হতে পারে। এ রোগটিতে পায়ের ভেতরে দিকের মাংসপেশীর অনুন্নত থাকায় শিশু স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারে না।
ক্লাব ফুটের কারণ:
যদি ক্লাব ফুটের কারণ এখনো পর্যন্ত সুস্পষ্ট নয়। ধারণা করা হয় বংশগতির জন্য যে উপাদানগুলো রয়েছে তা কিছু উপাদান এর জন্য দায়ী।বাবা ও মা দুজনেরই যদি সমস্যাটি থাকে, তবে সন্তানের এই সমস্যাটি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। মায়ের গর্ভে থাকাকালীন সময়ে যদি বাচ্চার পার সঠিক অবস্থানে না থাকে তাহলেও এ রোগটি হয়। যেসব বাচ্চা এ সমস্যা নিয়ে জন্মায় পাঁচজনের মধ্যে চার জনের সমস্যা অন্য কোন সমস্যা থাকে না। তবে পাঁচ জনের মধ্যে একজনের ক্লাব ফুটের সাথে নিচের সমস্যা থেকে থাকে
১. স্পাইনা বাইফিডা
২. সেরিব্রাল পালসি
৩. আর্থ্রোগ্রোইপোসিস
রোগ নির্ণয়:
জন্মের পর বাচ্চার পায়ের গঠন দেখে রোগ নির্ণয় করা হয়।

চিকিৎসা:
যত দ্রুত সম্ভব করা যাবে, উন্নতির সম্ভাবনা তত বেশি থাকে। ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার মাধ্যমে এ রোগটি উন্নতি করা সম্ভব। ক্লাব ফুট এর জন্য যে সকল চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়ে থাকে,তার মধ্যে পনসিটি মেথড বেশি কার্যকরী। এটি ক্লাব ফুট রোগীদের জন্য একটি ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা পদ্ধতি। এটা একজন ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক করে থাকেন।
চিকিৎসার পদ্ধতি:
কনজারভেটিভ ম্যানেজমেন্ট: প্রথম ছয় মাস :সপ্তাহে একবার সিরিয়াল মেনিপুলেশন কাস্টিং। প্রথম ছয় মাস সপ্তাহে একবার করে এই চিকিৎসা চলবে। এই চিকিৎসায় পা ১৫% হতে৮০% পারছেন স্বাভাবিক অবস্থায় চলে আসে সেবায় সংশোধন হয়। স্পিন্ট: ৬ মাস হতে ১৮ মাস। সেলফ ব্রেছ দিনের বেলায় সেলফ ব্রেছ দিয়ে হাটাতে হবে। রাতের বেলা ডেনিস ব্রাউন স্পিন্ট দিতে হবে। ১৮ মাস হতে ৪ বছর: সি জে ই ভি নামে এক ধরনের বিশেষ জুতা আছে ক্লাব ফুট বাচ্চাদের জন্য। বাচ্চাকে এই জুতা পড়াতে হবে।স্কেলিটাল মেচিউরিটি না আসা পর্যন্ত চিকিৎসকেরপরামর্শে থাকতে হবে। পনসিটি পদ্ধতিতে উন্নতি না হলে সার্জারি করতে হবে। বাচ্চার বয়স ৪বছরের নিচে হলে সফট টিস্যু রিলিজ সার্জারি। ৪বছরের বেশি হলে সফট টিস্যু পসিডিউর ও বনি পসিডিউর সার্জারি করতে হবে।

লেখক
তাসমিন আরা
ফিজিওথেরাপিস্ট
চেম্বার: আলোক হেলথকেয়ার, মিরপুর-১ শাখা
হটলাইন: ১০৬৭২, ০৯৬১০১০০৯৯৯

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন