অস্ট্রিয়া-আলজেরিয়ার শেষ মুহূর্তের নাটকে ইরানের নির্মম বিদায়

অস্ট্রিয়া-আলজেরিয়ার শেষ মুহূর্তের নাটকে ইরানের নির্মম বিদায়

ফন্ট সাইজ:

সিয়াটেলের বিশ্বমঞ্চে তখন কান্নার রোল। গ্রুপ পর্বে কোনো ম্যাচ না হেরেও হোটেলের ড্রয়িংরুমে বসে বিশ্বকাপের সবচেয়ে নিষ্ঠুরতম বিদায়ের সাক্ষী হলো ইরান। গ্রুপ জে-এর ম্যাচে অস্ট্রিয়া ও আলজেরিয়ার মধ্যকার ম্যাচটি ৩-৩ গোলে ড্র হওয়ায় নকআউটে যাওয়ার স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেল ‘টিম মেল্লি’র। বেলজিয়াম, নিউজিল্যান্ড এবং মিশরের সঙ্গে ড্র করে আসরে অপরাজিত থেকেও গোল ব্যবধানের সামান্য হিসেবে বিদায় নিতে হলো এশিয়ান পরাশক্তিদের।

ইরানের এই বিদায়ের গল্পটা যেন কোনো অতিপ্রাকৃত ট্র্যাজেডির চেয়ে কম নয়। গত শুক্রবার মিশরের বিপক্ষে জয়ের খুব কাছে চলে যায় ইরান। ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে শোজা খলিলজাদেহ গোল করে জার্সি খুলে বুনো উদ্‌যাপনে মেতে ওঠেন। তবে ভিএআর রিভিউতে মাত্র কয়েক মিলিমিটারের অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। ফলে ম্যাচটি ১-১ ড্র হয়।

ভাগ্য তখনো ইরানের হাতে ছিল না, তাকিয়ে থাকতে হতো অন্য ম্যাচের দিকে। গতকাল আলজেরিয়া-অস্ট্রিয়া ম্যাচের ৯৩ মিনিটে রিয়াদ মাহরেজ গোল করে আলজেরিয়াকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে নিলে আবারও উল্লাসে ফেটে পড়ে ইরানি শিবির। কারণ, যেকোনো এক দল জিতলেই কপাল খুলতো ইরানের। কিন্তু নাটকের তখনও অনেকটা বাকি ছিল। ম্যাচের একদম শেষ কিকের ঠিক আগমুহূর্তে, ৯৬ মিনিটে সাশা কালাদজিচের এক হেডারে অস্ট্রিয়া সমতায় ফেরে। ৩-৩ সমতার ম্যাচে দুই দলই একসঙ্গে পরের রাউন্ডে চলে যায়। আর টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায় ইরান।

তবে এই বিদায়ের চেয়েও ইরানকে বেশি পুড়িয়েছে মাঠের বাইরের রাজনীতি ও বৈষম্য। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতের প্রভাব সরাসরি পড়েছে ফুটবলারদের ওপর। নিরাপত্তার অজুহাতে টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই তাদের বেজক্যাম্প অ্যারিজোনা থেকে সরিয়ে মেক্সিকোর টিজুয়ানায় নিয়ে যাওয়া হয়। মার্কিন সরকারের ভিসা জটিলতায় কড়া বিধিনিষেধের কারণে ম্যাচের মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে তাদের ভেন্যুতে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হতো এবং ম্যাচ শেষ হওয়া মাত্রই ওই দিনই দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হতো। এমন চরম অপেশাদার ও বৈষম্যমূলক আচরণে নিজেদের ম্যাচ শেষেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন অধিনায়ক মেহেদি তারেমি।

আন্তর্জাতিক মিডিয়ার সামনে অত্যন্ত অসহায়ভাবে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘আসলে আমাদের সাহায্য করার কে আছে? তারা যদি চায় আমরা টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ে যাই, তবে ঠিক আছে, আমরা চলে যাচ্ছি। কিন্তু এটা মোটেও ন্যায়সঙ্গত না।’ এমনকি দলের অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্টাফ ও কোচিং মেম্বার ভিসাই পাননি। কোচ আমির ঘালেনোই ক্ষোভ প্রকাশ করে ফিফাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আমার দল সবচেয়ে বেশি নিপীড়িত হয়েছে। আয়োজক দেশ আমাদের সঙ্গে যে অন্যায় আচরণ করেছে, তা ইতিহাসে লেখা থাকবে। আমি ফিফাকে বলব, ভবিষ্যতে কোনো আয়োজক দেশ যেন কোনো দলের সঙ্গে এমন আচরণ করার সাহস না পায়।’

মিশরের বিপক্ষে প্রথমার্ধে তারেমির পেনাল্টি মিস কিংবা ক্রসবারে লেগে বল ফিরে আসার আক্ষেপ হয়তো ফুটবলীয়। তবে মাঠের বাইরে পরাশক্তিদের অদৃশ্য দেয়াল আর অস্ট্রিয়া-আলজেরিয়া ম্যাচের শেষ মুহূর্তের ওই টাইমিং-সব মিলিয়ে ইরানকে বিশ্বকাপের ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্ভাগা দল বললেও হয়তো ভুল হবে না।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন