কলম্বিয়ার দাপট নিষ্প্রভ রোনালদো

কলম্বিয়ার দাপট নিষ্প্রভ রোনালদো

ফন্ট সাইজ:

মায়ামি স্টেডিয়ামে যেন এক টুকরো কলম্বিয়া! গ্যালারির ৯০ শতাংশ হলুদ ঝড়ের মাঝে দুই ফুটবল পরাশক্তি কলম্বিয়া ও পর্তুগালের গ্রুপ ‘কে’-এর হাইভোল্টেজ ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়। তবে মাঠের লড়াইয়ে আধিপত্য দেখিয়ে পর্তুগালকে রুখে দিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই পরের রাউন্ডে পা রাখলো কলম্বিয়া। শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে কলম্বিয়ার প্রতিপক্ষ ঘানা, আর গ্রুপ রানার্সআপ পর্তুগাল মুখোমুখি হবে ক্রোয়েশিয়ার।

আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন ৪১ বছর বয়সী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। আগের ম্যাচে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করলেও, গতকাল কলম্বিয়ার জমাট ডিফেন্সের সামনে একদমই সুবিধা করতে পারেননি তিনি। প্রথমার্ধে সিআরসেভেনের একটি ওভারহেড কিক প্রতিহত হওয়া ছাড়া পুরো ম্যাচে তিনি ছিলেন ছায়া হয়ে। ম্যাচে আক্রমণ আর সুযোগ তৈরির দিক থেকে কলম্বিয়াই ছিল এগিয়ে। ম্যাচের শুরুর মিনিটেই বায়ার্ন মিউনিখ তারকা লুইস দিয়াজের পাস থেকে গোল করার সহজ সুযোগ মিস করেন জন কর্দোবা। এরপর তার আরেকটি নিশ্চিত শট দুর্দান্ত এক হাতে আটকে দেন পর্তুগিজ গোলকিপার দিওগো কস্তা। ম্যাচের বয়স এক ঘণ্টা পেরোনোর পর রিচার্ড রিওস, জন আরিয়াসরা একের পর এক আক্রমণ চালালেও ফিনিশিংয়ের অভাবে গোল পায়নি কলম্বিয়া। ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে ড্যাভিনসন সানচেজের দুর্দান্ত হেডার পর্তুগালের জালে জড়ালে উৎসবে মাতে কলম্বিয়া শিবির। তবে লাইন্সম্যান অফসাইডের পতাকা তোলায় সেই আনন্দ মাটি হয়।

পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্টিনেজ দলের এমন পারফরম্যান্সে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা কলম্বিয়াকে ঠিক তেমন ম্যাচ খেলার সুযোগ দিয়েছি, যা তারা চেয়েছিল। আমরা বল পজিশন নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারিনি এবং আমাদের প্রতিভা ও মেধার সঠিক ব্যবহার করতে ব্যর্থ হয়েছি।’

প্রথমবার নকআউটে কঙ্গো, লড়বে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে
গ্রুপের অন্য ম্যাচে আটলান্টায় ইতিহাস গড়ে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব (ডিআর) কঙ্গো। উজবেকিস্তানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে এই প্রথম বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে আফ্রিকান দেশটি। শেষ ৩২-এ তাদের প্রতিপক্ষ শক্তিশালী ইংল্যান্ড।

ম্যাচের শুরুটা অবশ্য দারুণ করে প্রথমবার বিশ্বকাপে আসা উজবেকিস্তান। মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মাথায় অধিনায়ক এলডর শময়মুরোদভের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। তবে ১০ মিনিটের মাথায় দুর্দান্ত এক চিপ শটে কঙ্গো গোলকিপার লিওনেল এমপাসির মাথার ওপর দিয়ে বল জালে জড়ান তিনি। দ্বিতীয়ার্ধে দৃশ্যপট বদলে দেন ইয়োয়ান উইসা। ম্যানচেস্টার সিটির উজবেক ডিফেন্ডার আবদুকোদির খুসানভ বক্সের ভেতর উইসাকে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় কঙ্গো। স্পট কিক থেকে ঠাণ্ডা মাথায় গোল করেন উইসা। দুই মিনিট পর মেসচাক এলিয়ার ডিফ্লেক্টেড শট থেকে আলতো ছোঁয়ায় বল জালে জড়ান ফিস্টন মায়েলে। আর ম্যাচের ইনজুরি টাইমে বক্সের কোণ থেকে জোরালো কার্লিং শটে গোল করেন উইসা। পরে উজবেকিস্তানের ইতালিয়ান কোচ ফাবিও কানেভারো বলেন, ‘বিশ্বকাপ সত্যিই নিষ্ঠুর। ছেলেরা তাদের সবটুকু দিয়েছিল। ড্রেসিংরুমে ওরা সবাই কাঁদছে।’

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন