আরেকটি লাতিন পরীক্ষায় জার্মানি

আরেকটি লাতিন পরীক্ষায় জার্মানি

ফন্ট সাইজ:

ইকুয়েডরের কাছে ধরাশায়ী হওয়ার পর জার্মানির সামনে আরেক লাতিন পরীক্ষা। এবার প্যারাগুয়ে। শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে আগামীকাল রাত আড়াইটায় বোস্টনে মুখোমুখি হবে দু’দল। জার্মানি কাগজে-কলমে ফেভারিট হলেও প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নেয়ার সুযোগ নেই। শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ, শারীরিক শক্তিনির্ভর ফুটবল এবং দ্রুত পাল্টা আক্রমণ- এই তিন অস্ত্রেই নকআউটে জায়গা করে নেয় প্যারাগুয়ে। আলবিরোহা শিবির আত্মবিশ্বাসে টইটম্বুর। অধিনায়ক গুস্তাভো গোমেজ সমর্থকদের উদ্দেশে লিখেছেন, ‘আমরা আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ফিরেছি এবং শেষ পর্যন্ত লড়াই করবো। কারণ একজন প্যারাগুইয়ান যখন বিশ্বাস করে, তখন কোনো কিছুই অসম্ভব নয়।’

গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন জার্মানি শেষ ম্যাচে ইকুয়েডরের কাছে ২-১ গোলে হেরে বসে। গা ছাড়া ভাব দেখা গেছে চারবারের চ্যাম্পিয়নদের মাঝে। এ নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েন জার্মানির কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যান। ইকুয়েডরের কাছে হারের পর দলের মানসিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ। তিনি বলেন, ‘আমরা ভুল কৌশল বেছে নিয়েছিলাম, আক্রমণাত্মক প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ভুল ফুটবল খেলেছি। ম্যাচে এমন অনেক কিছুই ছিল, যা ভালো লাগেনি। আমাদের মানের সঙ্গে মানসিকতার সমন্বয় করতে হবে। আজ সেটারই অভাব ছিল।’ তবে দলের ক্রীড়া পরিচালক রুডি ফোলারের মতে, ইকুয়েডর ম্যাচের বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। প্যারাগুয়ে ম্যাচে ক্ষুরধার পারফরম্যান্সের প্রতিশ্রুতি দিলেন ফোলার। তিনি বলেন, ‘সোমবারের (আজ) ম্যাচ পুরোপুরি আলাদা। এটি নকআউট। হয় আমরা পরের রাউন্ডে যাব, নয়তো বাড়ি ফিরবো। খেলোয়াড়রা সেটা জানে।

প্যারাগুয়ে সম্ভবত একটু নিচে নেমে রক্ষণ করবে, খুবই শারীরিক ফুটবল খেলবে। তবে চ্যাম্পিয়নস লীগে আমাদের খেলোয়াড়রা এমন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নিয়মিত খেলে। আমি নিশ্চিত, তারা এর ভালো জবাব দেবে।’ ফোলার সতর্কও করেছেন। বলেছেন, মাঝমাঠে অপ্রয়োজনীয়ভাবে বল হারানোর পুনরাবৃত্তি ঘটতে থাকলে প্যারাগুয়ে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে শাস্তি দিতে পারে। নকআউটে বড় কোনো রদবদলের পথে হাঁটছেন না জার্মান কোচ নাগেলসম্যান। জশুয়া কিমিখ, ফ্লোরিয়ান ভির্টজ, জামাল মুসিয়ালা ও লেরয় সানেদের ঘিরেই আক্রমণ সাজানোর পরিকল্পনা তার। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ডেনিজ উনদাভকে নিয়ে। বিশ্বকাপে মাত্র ৮৬ মিনিট খেলেই ৩ গোল ও ২ অ্যাসিস্ট করেছেন এই স্ট্রাইকার। পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে ফিফার পাওয়ার র‌্যাঙ্কিংয়েও তিনি সবার ওপরে।

অথচ তাকে শুরুর একাদশে রাখার সম্ভাবনা কম। এই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যাও দিয়েছেন নাগেলসম্যান। তিনি বলেন, ‘তাকে শুরু থেকে খেলানো যায়, আবার বদলি হিসেবেও নামানো যায়। আমাদের ভাবনা হলো, বদলি হিসেবে তার সাফল্য যেন অব্যাহত থাকে। যদি ডেনিজ শুরু করে, তাহলে পরে ম্যাচের শেষ দিকে গোল করার জন্য অন্য কাউকে খুঁজতে হবে। কিন্তু বেঞ্চ থেকে নেমে ২০ মিনিটে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেওয়ার মতো খেলোয়াড় আমাদের দলে খুব বেশি নেই। ডেনিজ সেই ধরনের একজন।’

নাগেলসম্যানের যুক্তি মানতে নারাজ প্রভাবশালী জার্মান সংবাদমাধ্যম বিল্ড। তারা প্রশ্ন তুলেছে, কিংবদন্তি গার্ড মুলার আজ খেললে তাকেও কি বেঞ্চে বসিয়ে রাখতেন নাগেলসম্যান? খেলার ধরনে মুলারের সঙ্গে উনদাভের অনেক মিল। দু’জনেরই সবচেয়ে বড় শক্তি বক্সের ভেতরে। উনদাভকে বরং শুরু একাদশেই দেখতে চায় বিল্ড।

হেড টু হেড
বিশ্বকাপে একবারই মুখোমুখি হয়েছিল জার্মানি-প্যারাগুয়ে। ২০০২ সালে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে জার্মানি জেতে ১-০ গোলে। এরপর ২০১৪ সালে প্রীতি ম্যাচে ৩-৩ সমতা নিয়ে মাঠ ছাড়ে দু’দল।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন