ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার বিশেষ বৈঠকে দলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। শনিবার রাজধানীর বিজয়নগরস্থ ফারস হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টসে অনুষ্ঠিত বিশেষ শুরা অধিবেশনে নির্বাচনোত্তর কার্যক্রম পর্যালোচনা, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দলকে আরও সুসংহত করার লক্ষ্যে এ বিশেষ অধিবেশনের আয়োজন করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই)। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি গতানুগতিক রাজনৈতিক সংগঠন নয়; বরং শরীয়াহর পূর্ণ অনুসরণ ও বাস্তবায়নই দলের প্রধান লক্ষ্য। শরীয়াহ ও ইসলামের আলোকে রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণ করা হয় এবং সময়ের পরিবর্তন থেকে শিক্ষা নিয়ে দলকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধিরও আহ্বান।
বৈঠকের উদ্বোধনী বক্তব্য দেন বিদায়ী মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদ। পরে বিগত সেশনের সার্বিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন যুগ্ম মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ। সাংগঠনিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ ইফতেখার তারিক এবং রাজনৈতিক প্রতিবেদন পেশ করেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও দলীয় মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর শুরা সদস্যদের পরামর্শক্রমে নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করেন দলের আমীর।
নতুন কমিটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন: মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, অধ্যক্ষ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, শাহ ইফতেখার তারিক, মাওলানা নেছার উদ্দিন, সহকারী মহাসচিব মাওলানা সৈয়দ এসহাক মুহাম্মদ আবুল খায়ের, মাওলানা আহমদ আব্দুল কাইয়ুম, কে এম আতিকুর রহমান, শেখ ফজলুল করীম মারুফ। এ ছাড়া ৪৮ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটিও ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে, ২০০৮ সাল থেকে মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করে আসা অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদকে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পরিষদ প্রেসিডিয়ামের সদস্য করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ শুরা অধিবেশনে তার প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।
