মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরানোর লক্ষ্যে সমঝোতা স্বারক স্বাক্ষরিত হবার এক সপ্তাহের মাথায় যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি চরম হুমকির মুখে পড়েছে। ওমান উপকূলে একটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার অভিযোগ এনে শুক্রবার ইরানের একাধিক সামরিক ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। এর জবাবে মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা রকেট ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানের রেভ্যুলেশনারি গার্ডস করপস (আইআরজিসি)। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা। উভয় পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি হামলায় পুরো অঞ্চলে নতুন করে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ওমান উপকূলে জাহাজে হামলা ও ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি: মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী ‘এমভি এভার লাভলি’ নামের একটি বড় কার্গো জাহাজে ইরানের ড্রোন হামলার পর এই প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই ঘটনাকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির চরম লঙ্ঘন বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেন, আমি মোটেও পছন্দ করিনি যে তারা গতকালকে টার্গেট করে শট নিয়েছে। আসলে মোট চারটি ড্রোন শট নেওয়া হয়েছে। স্পষ্টতই, এটি আমাদের যুদ্ধবিরতি চুক্তির একটি বোকামিপূর্ণ লঙ্ঘন। যুক্তরাষ্ট্রের কী পদক্ষেপ হবে জানতে চাইলে ট্রাম্প সংক্ষিপ্তভাবে বলেন, আপনারা দ্রুতই জানতে পারবেন। এর পরপরই মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো দক্ষিণ ইরানের সিরিক বন্দর ও কেশম দ্বীপের মোট ৪টি সামরিক ঘাঁটিতে বোমাবর্ষণ করে, যার মধ্যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র মজুতগার এবং উপকূলীয় রাডার স্টেশন রয়েছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এক হুঁশিয়ারিতে বলেন, সহিংসতার জবাব কঠোর সহিংসতা দিয়েই দেওয়া হবে।
ইরানের পাল্টা আঘাতের হুমকি: মার্কিন হামলার পর ইরানের সামরিক বাহিনীর সর্বোচ্চ মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ইরানের জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা ইব্রাহিম আজিজি বলেন, এটি কোনো যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন নয়, বরং এটি হচ্ছে যুদ্ধবিরতির ব্যবস্থাপনা। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন পক্ষকে উসকানি দিয়ে এই প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করতে চেয়েছিল, যার প্রয়োজনীয় জবাব দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও দেওয়া হবে। এই আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি ঘটলে আমাদের প্রতিক্রিয়া এর চেয়েও ব্যাপক হবে। ইরানের খাতাম আল আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের প্রাতিষ্ঠানিক সামরিক মুখপাত্র ইব্রাহিম আল ফিকার একে যুক্তরাষ্ট্রের নগ্ন আগ্রাসন আখ্যা দিয়ে এক নজিরবিহীন ও বিধ্বংসী জবাবের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
ইরানের সামরিক মুখপাত্র ইব্রাহিম আল ফিকার সতর্ক করে বলেন, আজ রাতে যখন তিনটি সংখ্যা (সময়) মিলে যাবে, তখন হরমুজের প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাবে এবং নীরবতা এক প্রলয়ংকরী ঝড়ে রূপ নেবে। আমাদের এই পাল্টা আঘাত হবে নজিরবিহীন, যা আপনাদের সামরিক উপস্থিতিকে এমনভাবে মুছে দেবে যেন তার কোনো অস্তিত্বই ছিল না। বারুদ আজ রাতে আপনাদের সমস্ত বিভ্রমের শেষ লাইনটি লিখবে। এই বিবৃতির পরপরই ওমান উপসাগর সংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা ড্রোন ও রকেট নিক্ষেপ করে ইরানি বাহিনী, বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন।

মোঃ হারুনুর রশিদ
১ ঘন্টা আগেযুদ্ধের দামামা বাজছে