ভিন্ন সংস্কৃতির দ্বন্দ্বে মুখোমুখি মিশর ও ইরান

বিশ্বকাপের ‘প্রাইড ম্যাচ’

ভিন্ন সংস্কৃতির দ্বন্দ্বে মুখোমুখি মিশর ও ইরান

ফন্ট সাইজ:

সিয়াটলের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আগামীকাল সকাল ৯টায় মুখোমুখি হচ্ছে মিশর ও ইরান। তবে মাঠের ফুটবলের চেয়েও এই ম্যাচকে ঘিরে তৈরি হয়েছে অন্যরকম এক আবহ। প্রাইড উইকএন্ডের ঠিক আগের শুক্রবার ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ায় স্থানীয় আয়োজকরা একে ‘প্রাইড ম্যাচ’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। স্টেডিয়ামের ভেতর উড়বে এলজিবিটিকিউ+ সম্প্রদায়ের প্রতীক রংধনু পতাকা। কিন্তু সমকামিতা নিষিদ্ধ থাকা দুই দেশ মিশর ও ইরান এই আয়োজনে বেশ অস্বস্তিতে পড়েছে।

ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে দুই দলের কোচই এই প্রসঙ্গ এড়িয়ে গেছেন। ইরানের প্রধান কোচ আমির ঘালেনোই সরাসরি বলেন, ‘আমরা এখানে ফুটবল খেলতে এসেছি, অন্য কিছুর জন্য নয়। যেসব বিষয় আমাদের ধর্মে নিষিদ্ধ এবং যার কোনো অস্তিত্ব নেই, তা নিয়ে আমরা কথা বলতে চাই না। আমরা শুধু ম্যাচ, ফুটবল এবং এই খেলার সৌন্দর্য নিয়ে কথা বলবো।’ মিশরের কোচও রাজনৈতিক বা সামাজিক বিতর্ক এড়িয়ে মাঠের খেলাতেই মনোযোগ দিচ্ছেন।

অন্যদিকে সিয়াটল আয়োজক কমিটির কর্মকর্তা হেড্ডা ম্যাকলেনডন জানান, এই টাইমিং কোনো উসকানি নয়। সূচি আগেই ঠিক করা ছিল। তিনি বলেন, ‘এটি হয়তো আপনার জীবনযাত্রার সঙ্গে মেলে না বা আপনার দেশে এমনটা ঘটে না। তবে এটি আমাদের অনন্য করে তোলে। আমরা চাই আপনারা এর অভিজ্ঞতা নিন।’

সিয়াটলের ফুটবল কিংবদন্তি জেস ফিশলকও সুর মিলিয়ে বলেন, ‘ম্যাচটি সিয়াটলকে নিয়ে, মিশর বা ইরানকে নিয়ে নয়।’

ফিফা অবশ্য স্পষ্ট করেছে, এটি অফিশিয়াল কোনো প্রাইড ম্যাচ নয়। তবে স্টেডিয়ামের আচরণবিধি অনুযায়ী সমর্থকরা রংধনু পতাকা প্রদর্শন করতে পারবেন।

বিবিসির প্রতিবেদন বলছে, ফ্যান জোনে আসা মিশরীয় ফুটবল ভক্তদের কাছে বিষয়টি অপ্রাসঙ্গিক। তাদের মতে, আসল লক্ষ্য পরের রাউন্ডে যাওয়া। ফ্যান জোনের এক মিশরীয় রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী আমানি আবুআম্মো বলেন, ‘এখানে এটি তাদের সংস্কৃতি। কিন্তু আমাদের দেশে মানুষ এতে অভ্যস্ত নয়। এটি একটি সাংস্কৃতিক বিভ্রান্তি, যেখানে এক পক্ষ অন্য পক্ষকে বুঝতে পারছে না।’

মাঠের লড়াইয়ে মিশরের সামনে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে নানা রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও যাতায়াত জটিলতা কাটিয়ে মাঠে নামছে ইরান।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন