খালি পায়ে ফুটবল খেলতেন। বুট কেনার পয়সা ছিল না। মা একা সংসার চালাতেন। তবু স্বপ্ন ছিল। আর সেই স্বপ্নই আজ গঞ্জালো প্লাটাকে বিশ্বের সামনে দাঁড় করিয়েছে।
২০০০ সালের ১ নভেম্বর। ইকুয়েডরের গুয়ায়াকিল শহরের একটি দরিদ্র পাড়ায় জন্ম নেন গঞ্জালো প্লাটা। সেই পাড়ায় মৌলিক চাহিদা মেটানোই ছিল কঠিন। বাবা ছিলেন না। মা একা হাতে তাকে ও তার ভাইবোনদের মানুষ করেছেন।দিনমজুরি করে, ছোটখাটো কাজ করে সংসার চালাতেন সেই সাহসী মা।বফুটবল বুট ছিল বিলাসিতা। ছেঁড়া জুতো পরে, কখনো খালি পায়ে মাঠে নামতেন ছোট্ট প্লাটা। অনুশীলনের মাঠে যেতে বাস ভাড়া জোগাড় করাও কঠিন ছিল। কখনো প্রতিবেশীদের সাহায্য নিতে হতো।
কখনো মায়ের শেষ সম্বলটুকু দিয়ে যেত ছেলে মাঠে। কিন্তু ফুটবল থেমে যায়নি।
মাত্র ১১ বছর বয়সে লিগা দেপোর্টিভার যুব দলে সুযোগ পান। এরপর আসে জীবনের সবচেয়ে বড় সুযোগ। ইন্ডিপেনদিয়েন্তে দেল ভায়ে একাডেমিতে ডাক আসে। পরিবার ছেড়ে দূরে থাকতে হবে। মনে কষ্ট ছিল। কিন্তু পরিবারের ভাগ্য বদলানোর জেদ ছিল আরও বড়। তাই চোখ মুছে একাডেমিতে মন দিলেন প্লাটা।
২০১৮ সাল। মাত্র ১৮ বছর বয়সে পেশাদার ফুটবলে অভিষেক। আর প্রথম ম্যাচেই গোল! তার ক্ষুরধার গতি, পায়ের জাদু আর উইং দিয়ে ছুটে যাওয়ার ক্ষমতা দেখে ইউরোপের স্কাউটরা চমকে গেলেন। ২০১৯ সালে পর্তুগালের স্পোর্টিং সিপি থেকে ডাক পেলেন। গুয়ায়াকিলের সেই বস্তির ছেলে পা রাখলেন ইউরোপের মাটিতে।
২০২৬ বিশ্বকাপ। প্রতিপক্ষ জার্মানি। সারা বিশ্বের চোখ মাঠের দিকে। ম্যাচের ৭৭তম মিনিট। বল পেলেন প্লাটা। এক মুহূর্তও দেরি না করে শট। গোল! ইকুয়েডর ২-১ গোলে হারালো জার্মানিকে। নকআউট পর্ব নিশ্চিত হলো। স্টেডিয়াম কাঁপল উল্লাসে। গোল দিয়ে আকাশের দিকে তাকালেন প্লাটা। চোখে ছিল শৈশবের সব কষ্টের উত্তর। হয়তো মায়ের কথা ভাবছিলেন। সেই মা, যিনি বুট কিনতে না পারলেও ছেলের স্বপ্ন ভাঙতে দেননি।
সেই মা, যিনি না খেয়ে ছেলের বাস ভাড়া জুগিয়েছেন। গঞ্জালো প্লাটা শুধু একজন ফুটবলারের নাম না। এটি বাস্তবতার উদাহরণ। যে বাস্তবতায় দারিদ্র্য শেষ কথা না। মায়ের ভালোবাসা সবচেয়ে বড় শক্তি। সে গল্প বলে স্বপ্ন দেখলে স্বপ্ন একদিন সত্যি হয়।
বস্তি থেকে উঠে আসা ছেলেটিই বিশ্বকাপের নায়ক
হাছিবুল বাসার
খেলা
২ ঘন্টা আগে
২৬ জুন (শুক্রবার), ২০২৬, ৪ঃ৪১ (অপরাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
