সাক্ষীকে নিজেই জেরা করার অনুমতি চাইলেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী পলক

ফন্ট সাইজ:

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় সাক্ষীকে নিজেই জেরা করার অনুমতি চেয়েছেন সাবেক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে এ আবেদন করেন তিনি।
মামলার আরেক আসামি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

গতকাল তাদের বিরুদ্ধে মামলার ৭ম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেয়া কবির হোসেন মৃধার জেরা হওয়ার দিন ধার্য ছিল। শুনানির শুরুতে পলকের আইনজীবী লিটন আহমেদ আদালতের কাছে সময় প্রার্থনা করেন। তিনি জানান, মামলার আইনজীবী আমিনুল গণি টিটোর মৃত্যুর পর নতুন করে মুনসুরুল হক চৌধুরীকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তবে ব্যক্তিগত কারণে তিনি এদিন আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি। এ কারণে সময় চাওয়া হলেও ট্রাইব্যুনাল সেই আবেদন মঞ্জুর করেননি। পরবর্তীতে কার্যতালিকাভুক্ত আরেকটি মামলার কার্যক্রম শেষ হলে দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে জয়-পলকের মামলার সাক্ষীর জেরা শুরু হয়। এ সময় পলককে এজলাসে আসামির কাঠগড়ায় তোলা হলে তিনি সাক্ষীকে নিজে জেরা করার অনুমতি চান।

পলক আদালতকে উদ্দেশ্য করে বলেন, মাননীয় আদালত, আমি জেরা করার অনুমতি চাই। তার আইনজীবী লিটন আহমেদও জানান, তার মক্কেল ১৫ মিনিটের জন্য সাক্ষীকে জেরা করতে আগ্রহী। তবে প্রসিকিউশন এ আবেদনের বিরোধিতা করে। প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার পালোয়ান বলেন, প্রচলিত আইনে এ ধরনের সুযোগ নেই এবং শুধুমাত্র আসামিপক্ষের আইনজীবীই সাক্ষীকে জেরা করতে পারেন। জবাবে আইনজীবী লিটন আহমেদ বলেন, পলক নিজেও একজন আইনজীবী এবং আইন সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান রাখেন। এরপরও আদালত অনুমতি না দিলে তিনি নিজেই সাক্ষীকে জেরা শুরু করেন।
জেরার একপর্যায়ে আইনজীবীর প্রশ্নের জবাবে সাক্ষী কবির হোসেন মৃধা বলেন, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর তিনি কোনো বিজয় মিছিলে অংশ নেননি। ওই দিন রাতে হাসপাতালে গিয়ে তিনি তার ছেলেসহ আরও ৮ জনের মরদেহ দেখতে পান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে একটি কাগজও দিয়েছিল বলে জানান তিনি। এ সময় আইনজীবী লিটন আহমেদ সাক্ষীকে বলেন, বিজয় মিছিলে আনন্দ প্রকাশের কারণে গোলাগুলি হয় এবং সেই গুলিতেই আপনার ছেলে মারা গেছেন। প্রশ্নটি পুরোপুরি বুঝতে না পেরে সাক্ষী প্রথমে সম্মতিসূচক উত্তর দেন। পরে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে প্রশ্নটি পুনরায় করার অনুরোধ জানানো হয়। এ সময় কাঠগড়া থেকে আপত্তি জানিয়ে পলক বলেন, প্রসিকিউশন নিজে সাক্ষ্য দিলে তা কীভাবে সম্ভব? পরে সাক্ষী কবির হোসেন স্পষ্ট করে বলেন, তার ছেলে ৫ই আগস্ট পুলিশ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের গুলিতে আহত হয়ে প্রাণ হারান। এ পর্যায়ে জেরা কার্যক্রম অসম্পন্ন রেখে মুলতবি করা হয়।

এরপর আদালতের উদ্দেশ্যে পলক আবারো বলেন, মাননীয় আদালত, সর্বশেষ সংশোধিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের বি থেকে ই পর্যন্ত আমি পড়েছি। সেখানে আসামি নিজেই মামলা পরিচালনা করতে পারেন বলে উল্লেখ আছে। ন্যায়বিচারের স্বার্থে আমরাও আদালতকে সহায়তা করতে চাই। আমাদের আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো মারা গেছেন। তাকে হারিয়ে আমরা নাবিকবিহীন নৌকার মতো চলছি। তাই কিছু অধিকার পেলে মামলায় আমিও সক্রিয়ভাবে কাজ করতে চাই। একইসঙ্গে প্রিভিলেজ কমিউনিকেশনের সুযোগও চাই। পরে পলকের সঙ্গে ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় কথা বলার জন্য মৌখিক আবেদন করেন তার আইনজীবী লিটন আহমেদ। আদালত তাকে আধা ঘণ্টা সময় প্রদান করেন। উল্লেখ্য, গত ১৫ই জুন ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন কবির হোসেন মৃধা। তিনি শহীদ সানজিদ হোসেন মৃধার বাবা। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট উত্তরার বিএনএস এলাকায় বিজয় মিছিলে অংশ নিয়ে নিহত হন সানজিদ।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন