জামালপুরে স্কুল শিক্ষিকা নাহিদা সুলতানার বিরুদ্ধে একাধিক পরকীয়া ফাঁসসহ স্বামীকে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় চলছে। স্কুল শিক্ষিকা নাহিদা সুলতানা জেলার মেলান্দহ উপজেলার পৌরসভাধীন বারইপাড়া ৪২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। জানা যায়, ২০০০ সালে মেলান্দহ উপজেলার চর গোবিন্দি গ্রামের খলিলুর রহমানের পুত্র ও উমির উদ্দিন পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের কম্পিউটার শিক্ষক মো. আমিনুর রহমানের সঙ্গে নাহিদা সুলতানার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তিনি দুই সন্তানের জননী।
বাবা ও ভাই-এর বিরুদ্ধে আদালতে মামলার সুবাদে জামালপুর দায়রা ও জেলা জজ কোর্টের এডভোকেট শফিকুল ইসলাম শফিকের সঙ্গে পরিচয় হয়। পরিচয়ের একপর্যায়ে এডভোকেট শফিকুল ইসলাম শফিকের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একান্তে সময় কাটাতে শহরের দেওয়ানপাড়া মোড়ে তারা বাসা ভাড়া নেন। সেখানে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে গোপনে বসবাস করতে থাকেন। স্বামী আমিনুরের অভিযোগ, বিষয়টি তিনি জেনে গেলে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গত ২৭শে রমজান রাতে দুধের সঙ্গে ৪২টি ট্যাবলেট খাইয়ে হত্যার চেষ্টা করে। এতে অচেতন হয়ে পড়লে তাকে জামালপুর এমএ রশিদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা পপুলার হাসপাতালে রেফার্ড করে। সেখানে দীর্ঘ একমাস চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে তিনি নাহিদা ও এডভোকেট শফিকুলের বিরুদ্ধে মেলান্দহ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এরই মধ্যে তাদের কিছু অশ্লীল ছবি মোবাইলে ছড়িয়ে পড়ে।
শফিকুল ইসলাম ছাড়াও নাহিদার একাধিক সম্পর্কের কথা জানা গেছে। এদের মধ্যে ব্যাংক কর্মকর্তা, ঠিকাদার ও সাংবাদিক রয়েছে। এসব ঘটনার পর অবশেষে গত বুধবার আমিনুর নাহিদাকে তালাক প্রদান করেন। এদিকে স্ত্রী নাহিদা তালাকের কথা শুনে তার পরকীয়া প্রেমিকের নামেও তালাকনামা পাঠিয়েছেন বলে জানা গেছে। এতে এলাকাবাসী বলছেন, দু’জনের তালাক কীভাবে হয়? তাহলে কী ওই স্কুল শিক্ষিকার দুই স্বামী ছিল? বিষয়টি নাহিদার কাছে জানতে চাইলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে জানান। এডভোকেট শফিকুল ইসলাম বলেন, আমি চক্রান্তের শিকার। আমিনুরকে তালাক দিয়ে গোপনে আমাদের বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের পর জানতে পারি সে আমিনুরের সঙ্গে তালাক কার্যকর করেনি। অবশেষে আমিনুর তাকে তালাক দিয়েছে বলে শুনেছি। এরই মধ্যে সে নাকি আমাকেও তালাক দিয়েছে। তাহলে তার কোন স্বামী বৈধ বা কোন তালাক বৈধ হবে? বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, বিষয়টি জেনেছি, যদি সত্যি হয় তাহলে অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আলী চকদার বলেন, বিষয়টি শুনেছি, কেউ অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেবো। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
