চট্টগ্রামে আইএমইআই বদলে চোরাই মোবাইল বিক্রি, চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার

ফন্ট সাইজ:

চট্টগ্রাম নগরীতে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়া মোবাইল ফোনের আইএমইআই (ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইক্যুইপমেন্ট আইডেনটিটি) নম্বর পরিবর্তন করে বিক্রির সঙ্গে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, সিমকার্ড, নগদ টাকা এবং আইএমইআই পরিবর্তনের আধুনিক যন্ত্রপাতি উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার নগরের দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) দক্ষিণ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. হাবিবুর রহমান প্রাং। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলোÑ জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে জাহাঙ্গীর মনি (৫২), চক্রের মূলহোতা মুহাম্মদ সোহেল উদ্দিন ওরফে পার্টি সোহেল (৩৫), আবু সাঈদ (৩৪), মো. শামীম (২৪) এবং সাইফুল ইসলাম (১৯)।

পুলিশ জানায়, একটি ছিনতাইয়ের ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২৪শে জুন প্রথমে জাহাঙ্গীর মনিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে নগরের নন্দনকানন আবাসিক এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে মূলহোতা সোহেল উদ্দিনসহ বাকি সদস্যদের আটক করা হয়। অভিযানে ২৪টি আইফোনসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোট ১৫৭টি মোবাইল ফোন, পাঁচটি ল্যাপটপ, ২০১টির বেশি সিমকার্ড, ৪৪৫টি মোবাইল কেসিং, মাইক্রোস্কোপ, চার্জার, মাল্টিপ্লাগ, ফাইবার লেজার মার্কিং মেশিন, মোবাইলের মাদারবোর্ড ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এছাড়া নগদ ১ লাখ ১ হাজার ৫০০ টাকাও জব্দ করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে উপ-পুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমান বলেন, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন চোর, ছিনতাইকারী ও ডাকাত দলের কাছ থেকে কম দামে মোবাইল ফোন সংগ্রহ করতো। পরে বিশেষ সফ্টওয়্যার, ডিজিটাল ডিভাইস এবং ফাইবার লেজার মার্কিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে ফোনগুলোর আইএমইআই নম্বর ও বাহ্যিক কেসিং পরিবর্তন করা হতো। তিনি বলেন, একটি মোবাইল ফোনের আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করে সেটিকে নতুন মোবাইল হিসেবে বাজারজাত করা হতো। এতে চুরি বা ছিনতাই হওয়া মোবাইল শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারির বাইরে চলে যায়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চক্রটি শুধু চট্টগ্রাম নয়, দেশের বিভিন্ন জেলায় এসব মোবাইল বিক্রির পাশাপাশি রোহিঙ্গা ক্যাম্প, মিয়ানমার এবং ভারতেও পাচার করতো।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা অপরাধে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ আরও জানায়, চক্রের মূলহোতা সোহেল উদ্দিনের বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাই ও অন্যান্য অপরাধে বিভিন্ন থানায় আটটি মামলা রয়েছে। জাহাঙ্গীর মনির বিরুদ্ধে রয়েছে চারটি মামলা। এছাড়া আবু সাঈদের বিরুদ্ধে গাজীপুরের বাসন থানায় একটি হত্যা মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় সাইবার সুরক্ষা আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন