গণ-অভ্যুত্থানের ২ বছর পূর্তি

৩৬ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা ১১ দলের

ফন্ট সাইজ:

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটের রায় কার্যকরের দাবিতে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়ন, গণভোটের রায় কার্যকর, রাষ্ট্রীয় সংস্কার এবং অতীতের গণহত্যা ও গুম-খুনের বিচারের দাবিতে ১লা জুলাই থেকে ৫ই আগস্ট পর্যন্ত ৩৬ দিনের নতুন কর্মসূচি দিয়েছে তারা। গতকাল জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। ১১ দলের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক ও দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ কর্মসূচির ঘোষণা করেন। এর আগে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক হয়।

১১ দলের লিয়াজোঁ সমন্বয়ক বলেন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণ যে সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে, তা বাস্তবায়নের জন্য গঠিত হওয়ার কথা ছিল সংবিধান সংস্কার পরিষদ। কিন্তু বর্তমান সরকার ও ক্ষমতাসীন বিএনপি সে পথে না গিয়ে শুধু জাতীয় সংসদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন একই দিনে আয়োজনের সিদ্ধান্ত অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের মতামতের বিরুদ্ধে নেয়া হয়েছিল। নির্বাচনে বিভিন্ন স্থানে অনিয়ম ও ফলাফল প্রভাবিত করার অভিযোগ উঠলেও বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে ফলাফল মেনে নেয়া হয়েছে।

৩৬ দিনের উল্লেখযোগ্য কর্মসূচি: ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ১লা জুলাই থেকে ১৫ই জুলাই পর্যন্ত দেশের সকল জেলা ও মহানগরে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন ও গণভোটের দাবিতে সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। ২৩ থেকে ২৫শে জুলাই সারা দেশে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের চিত্র প্রদর্শনী ও গ্রাফিতি অঙ্কন করা হবে। এ ছাড়া ৪ঠা জুলাই রাজধানী ছাড়া সকল মহানগর ও জেলায় বিক্ষোভ মিছিল, ৬ই জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যদের অংশগ্রহণে জাতীয় সংসদের সামনে মানববন্ধন এবং ৮ই জুলাই ঢাকায় জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। ২০শে জুলাই নারী সংসদ সদস্য ও নারী নেত্রীদের অংশগ্রহণে আলোচনা সভা এবং ৩১শে জুলাই সারা দেশের মসজিদে বিশেষ দোয়া ও অন্যান্য উপাসনালয়ে প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। ৫ই আগস্ট সারা দেশে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত বড় ধরনের সমাবেশের মাধ্যমে এই কর্মসূচি শেষ হবে।

বিভাগীয় সমাবেশের মধ্যে ২৭শে জুন ময়মনসিংহ, ১১ই জুলাই রংপুর, ১৮ই জুলাই বরিশাল এবং ২৫শে জুলাই সিলেটে সমাবেশ করবে ১১ দলীয় ঐক্য।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমিন, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান), বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমীর আবদুল মাজেদ আতহারী, এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন