কুমিল্লার বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) ৬ পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বুড়িচং উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের ইকবাল হোসেনের স্ত্রী লিজা আক্তার (৩০) বাদী হয়ে পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-২ এর আদালতে বুধবার বিকালে মামলাটি দায়ের করেন। বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাদীপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট মো. শাহাদাত হোসাইন।
মামলার বিবাদীরা হলেনÑ বুড়িচং থানার ওসি মোহাম্মদ লুৎফর রহমান, থানার অধীন দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক সুরেজিত বড়ুয়া, এএসআই মো. ফরহাদ মিয়া, এটিএসআই সামসুজ্জামান, সদস্য মো. ফোরকান উদ্দিন ও মো. সাইদুর রহমান। এ ছাড়াও মামলায় ওই উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের আবদুল মান্নান, রবিউল হাসান, শিউলী আক্তার, শিল্পী আক্তার, মো. আক্তার হোসেন এবং পুলিশের বিভিন্ন পদবীর অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।
আদালত ও মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মামলার বাদী লিজা আক্তারের স্বামী ইকবাল হোসেনের সঙ্গে তার ভাই মান্নানের মধ্যে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে গত ৩রা জুন রাতে মান্নানের লোকজন ইকবাল ও তার ভাই জালাল উদ্দিনের ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় ইকবাল গুরুতর আহত হয়। পরে পুলিশ ওই রাতেই বাড়িতে গিয়ে ইকবাল ও জালালকে না পেয়ে দুই শিশু সন্তানসহ লিজা আক্তার ও তার ননদ শেফালী আক্তারকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ব্যতীত ও মহিলা পুলিশ ছাড়া প্রতিপক্ষ বিবাদীদের সহযোগীতায় টানাহেঁচড়া করে তুলে নিয়ে যায়। পুলিশ তাদের সারা রাত গাড়িতে করে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরিয়ে ভোরে থানায় হাজির করে। তাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনসহ অশ্লীল গালমন্দ করে এবং ওই রাতে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ এনে দায়ের করা একটি মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠায়। এ মামলায় ১০ দিন কারাভোগের পর জামিনে বের হলে দুই শিশু সন্তানসহ তাদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বাদীপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট মো. শাহাদাত হোসাইন সাংবাদিকদের বলেন, নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। আদালতে শুনানি এবং বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে, তবে এখনো আদেশ হয়নি।
