গাজীপুরের শ্রীপুরে এক নারী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ এবং একাধিক কারখানায় হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুরো শিল্পাঞ্চল জুড়ে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবার সকালে শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ি গ্রামের কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেড কারখানার শ্রমিক লিজা আক্তার (৩৬)-এর মৃত্যুর প্রতিবাদে সহকর্মীরা মাওনা-বরমী আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। শ্রমিকদের অভিযোগ, অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও লিজাকে ছুটি দেয়া হয়নি এবং দীর্ঘ সময় অতিরিক্ত কাজ করতে বাধ্য করা হয়েছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আন্দোলনের একপর্যায়ে কারখানার আরেক নারী শ্রমিক শোভার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এ খবর দ্রুত শ্রমিকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা এমএইচসি অ্যাপারেলস লিমিটেড, ট্রিপল অ্যাপারেলস, লিফ গ্রেড ক্যাজুয়েলওয়্যার লিমিটেডসহ একাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এতে বিভিন্ন স্থাপনা ও যানবাহনের ক্ষয়ক্ষতি হয়। ভাঙচুরের শিকার হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সাততলা এলাকার এমএইচসি অ্যাপারেলস লিমিটেড ও লিফ গ্রেড ক্যাজুয়েলওয়্যার লিমিটেড উল্লেখযোগ্য। এমএইচসি অ্যাপারেলসের ভেতরে ঢুকে হামলাকারীরা একটি বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের ব্যবহৃত প্রাইভেটকার, শ্রমিক পরিবহনের দু’টি বাস, দু’টি ট্রাক, স্টোররুম এবং কয়েকটি ভবনে ভাঙচুর চালায়। এ ছাড়া অন্যান্য কারখানার ব্যক্তিগত গাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনাও হামলার শিকার হয়। কারখানার নিরাপত্তাকর্মী সেলিম ও স্থানীয় ব্যবসায়ী ইব্রাহিম জানান, হঠাৎ একটি মিছিল কারখানার সামনে এসে জড়ো হয়। পরে লাঠিসোটা হাতে কয়েকশ’ মানুষ কারখানার ভেতরে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।
ব্যবসায়ী মারুফ জানান, হঠাৎ করে কারখানাতে ভাঙচুর করা হয়। এ সময় প্রাইভেটকার ও টাক ভাঙচুর করা হয়। সরজমিন দেখা যায়, ভাঙচুরে অংশ নেয়া অনেকেই কিশোর ও তরুণ বয়সী। তারা ‘আমার বোন মরলো কেন, বিচার চাই’ সেøাগান দিতে দিতে বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায়। এদিকে শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট কারখানাগুলোতে নিয়মিত অতিরিক্ত সময় কাজ করানো হয়। সকাল ৮টায় শুরু হওয়া কর্মঘণ্টা অনেক সময় মধ্যরাত কিংবা রাত ২টা পর্যন্ত গড়ায়। পর্যাপ্ত বিশ্রাম না পাওয়ায় শ্রমিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। পাশাপাশি প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও সুপারভাইজারদের বিরুদ্ধে মানসিক চাপ ও হয়রানির অভিযোগও তুলেছেন তারা। শ্রীপুর থানার ওসি শাহীনুর আলম বলেন, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ওই নারী শ্রমিকের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
